লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আসামে দুই দিনে ১১০০ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ও ১০ মসজিদ উচ্ছেদ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের তিন জেলায় টানা দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম দিন ১৭ অক্টোবর মোট ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর দাবি, বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদেই তাদের পূর্বপুরুষেরা ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।

অন্যদিকে, আসাম সরকারের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা এবং বনাঞ্চল রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। আবদুল নূর নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন, ভেঙে ফেলা মসজিদগুলোর মধ্যে কয়েকটি পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো।

উচ্ছেদ ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। এর আগে গত জুন মাসে আদালত লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাসকারীদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনাও ছিল আদালতের পক্ষ থেকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সার্বিয়ায় ভুচিচকে হটিয়ে ক্ষমতায় তরুণ প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা

আসামে দুই দিনে ১১০০ মুসলিম পরিবারের বাড়ি ও ১০ মসজিদ উচ্ছেদ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৫:২৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের তিন জেলায় টানা দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে ১ হাজার ১০০টিরও বেশি মুসলিম পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন। গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এই অভিযান চালানো হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রলের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের প্রথম দিন ১৭ অক্টোবর মোট ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর মধ্যে নগাঁও জেলায় ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার ছিল। পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর দাবি, বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করার সুবাদেই তাদের পূর্বপুরুষেরা ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেছিলেন।

অন্যদিকে, আসাম সরকারের দাবি, সংরক্ষিত বনভূমি দখলমুক্ত করা এবং বনাঞ্চল রক্ষা করার উদ্দেশ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানের সময় ১০টিরও বেশি মসজিদ ভেঙে ফেলার অভিযোগও উঠেছে। আবদুল নূর নামের এক স্থানীয় ব্যক্তি দাবি করেছেন, ভেঙে ফেলা মসজিদগুলোর মধ্যে কয়েকটি পাঁচ দশকেরও বেশি পুরোনো।

উচ্ছেদ ঠেকাতে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনেকে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত তাদের আবেদন নাকচ করে দেয়। এর আগে গত জুন মাসে আদালত লুটুমারি সংরক্ষিত বনাঞ্চলে বসবাসকারীদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সেই সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশনাও ছিল আদালতের পক্ষ থেকে।