লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনায় কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদি হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন। মামলায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ৬ প্রকৌশলীসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মামলায় কাজ না করেই ঠিকাদারকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। অন্য মামলায় ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান এবং মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান। এছাড়া কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটির কাজ চলাকালে প্রভাবশালী ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান প্রকল্পের প্রকৌশলীদের তোয়াক্কা করতেন না এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্দেশে নথিপত্র তৈরি হতো। কেডিএ’র নিয়ম অনুযায়ী, বিলের নথিতে সদস্য (প্রকৌশল), সচিব, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) এবং চেয়ারম্যানের অনুমোদনের পর চেয়ারম্যান ও সচিব যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। তবে প্রকল্পটি দেখভালকারী তিন সদস্যের কাউকেই দুদক আসামি করেনি।

এদিকে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে কেডিএ’র সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে, আর বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে কেডিএতে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করা হয়।

দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা হয়েছে এবং তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আসামি করা হবে। খুলনা মহানগর নাগরিক ফোরামের কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৯৮ কোটি টাকা থাকলেও ১৩ বছরে তা বেড়ে ২৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব।

২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওই সড়কে অভিযান চালায় দুদক।

জনপ্রিয় সংবাদ

আসিফের বিএনপিতে যোগদানের চেষ্টা নিয়ে রাশেদের দাবি গুরুত্বহীন

খুলনায় কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলীসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে দুদকের ২ মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৫:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

খুলনার শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে। রোববার (২৫ অক্টোবর) দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক আশিকুর রহমান বাদি হয়ে খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি করেন। মামলায় খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) ৬ প্রকৌশলীসহ মোট ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, একটি মামলায় কাজ না করেই ঠিকাদারকে এক কোটি ৫৫ লাখ টাকা বিল প্রদান করা হয়েছে। অন্য মামলায় ঠিকাদারের অনুকূলে অর্থ ছাড় করে ১১ কোটি ১৯ লাখ টাকা রাজস্ব হিসেবে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামিরা হলেন আতাউর রহমান খান লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. আতাউর রহমান এবং মাহাবুব ব্রাদার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মাহাবুব রহমান। এছাড়া কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী সাবিরুল আলম, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী শামীম জেহাদ, প্রকল্প পরিচালক মো. আরমান হোসেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মুনতাসির মামুন, সহকারী প্রকৌশলী বাসুদেব কুমার বিশ্বাস ও উপ-সহকারী প্রকৌশলী শরীফ ওয়াহিদুজ্জামানকে আসামি করা হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, সড়কটির কাজ চলাকালে প্রভাবশালী ঠিকাদার মাহবুবুর রহমান প্রকল্পের প্রকৌশলীদের তোয়াক্কা করতেন না এবং চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্দেশে নথিপত্র তৈরি হতো। কেডিএ’র নিয়ম অনুযায়ী, বিলের নথিতে সদস্য (প্রকৌশল), সচিব, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) এবং চেয়ারম্যানের অনুমোদনের পর চেয়ারম্যান ও সচিব যৌথভাবে স্বাক্ষর করেন। তবে প্রকল্পটি দেখভালকারী তিন সদস্যের কাউকেই দুদক আসামি করেনি।

এদিকে, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি ১৪ জনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছিল। এর মধ্যে কেডিএ’র সদস্য (উন্নয়ন) এস এম মাহমুদুর রহমান, সদস্য (প্রশাসন) মো. ইকবাল হোসেন এবং সাবেক সচিব মো. বদিউজ্জামানের বিরুদ্ধে সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে, আর বাকি ১১ জনের বিরুদ্ধে কেডিএতে বিভাগীয় মামলা করার সুপারিশ করা হয়।

দুদকের খুলনা জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরী জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে মামলা হয়েছে এবং তদন্তে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আসামি করা হবে। খুলনা মহানগর নাগরিক ফোরামের কো-চেয়ারম্যান সরদার আবু তাহের অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা ও প্রয়োজনে পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৭ মে একনেকে অনুমোদিত এই প্রকল্পের ব্যয় শুরুতে ৯৮ কোটি টাকা থাকলেও ১৩ বছরে তা বেড়ে ২৮০ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ থাকা ১৩ কোটি টাকার বিল তৈরির নির্দেশ দেন চেয়ারম্যান ও সচিব।

২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর ওই সড়কে অভিযান চালায় দুদক।