লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বদনজর থেকে বাঁচার আমল ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা

ইসলামে বদনজরের প্রভাব ও ক্ষতিকর দিককে সত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মূলত আল্লাহর জিকির ছাড়া গাফেল বা অসচেতন অবস্থায় কোনো কিছুর প্রতি হিংসাত্মক ও তীক্ষ্ণ কুদৃষ্টির ফলে যে ক্ষতি সাধিত হয়, তাকেই বদনজর বলা হয়ে থাকে। এই কুদৃষ্টির কারণে মানুষ কিংবা অন্যান্য বস্তুর ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো প্রভাব পড়ে। কেউ প্রতিরক্ষাহীন বা অসচেতন থাকলে সেই কুদৃষ্টি সক্রিয় হয়ে ক্ষতি সাধন করে, তবে আধ্যাত্মিক সুরক্ষায় থাকলে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং একাধিক হাদিসে বদনজরের সত্যতা স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি কোনো মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এই আশঙ্কাবশতই ইয়াকুব (আ.) তাঁর সন্তানদের শহরের একই দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে আলাদাভাবে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা সুরা ইউসুফের ৬৭ ও ৬৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে।

বদনজর সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা একাধিক নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে এসেছে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন যে বদনজরের প্রভাব সত্য (বোখারি: ৫৩২৯, মুসলিম: ৫৫১৩)। এছাড়া আয়েশা (রা.) উল্লেখ করেছেন, রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে বদনজর সত্য ও বাস্তব (ইবনে মাজাহ: ৩৫০৮)। আসমা বিনতে উমায়স (রা.) যখন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে জাফরের সন্তানদের খুব বেশি নজর লাগে বলে তিনি তাদের ঝাড়ফুঁক করাতে পারেন কি না, জবাবে বিশ্বনবী (সা.) অনুমতি দেন। উবাইদ ইবনে রিফাআ আজ-জুরাকি (রা.) থেকে বর্ণিত তিরমিজি শরীফের ২০৫৯ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন, কোনো বিষয় যদি তকদিরকে অতিক্রম করার মতো হতো, তবে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত।

বদনজরের অপপ্রভাব থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ ও আমলের কথা বলা হয়েছে। তিরমিজি শরীফের ৩৫৭৫ নম্বর হাদিসের নির্দেশনানুযায়ী প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করা উত্তম। পাশাপাশি তিরমিজি শরীফের ৩৩৩৫ নম্বর হাদিসে বর্ণিত ‘বিসমিল্লা হিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন, ফিলআরদি ওয়ালা-ফিসসামায়ি, ওয়া হুও য়াস সামিউল আলিম’ দোয়াটি পাঠের কথা উল্লেখ রয়েছে। নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় এসব মাসনুন দোয়া কয়েকবার পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে কিংবা হাত দিয়ে শরীর মুছে নিলে আল্লাহর রহমতে বদনজরের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

শিশুদের বদনজর থেকে সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতার নির্দেশ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সুরক্ষায় দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। বোখারি শরীফের ৩১৯১ নম্বর হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সা.) যে দোয়াটি পাঠ করতেন তা হলো— ‘আউজি বিকালিমা-তিল্লাহিত্ তা-ম্মাহ। মিন কুল্লি শাইতানিন-ওয়া হাম্মাহ। ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।’ তাই শিশুদের রক্ষায় নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করে তাদের গায়ে ফুঁ দেওয়া অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াত এবং অসংখ্য হাদিসে এর সত্যতার বিশদ বিবরণ এসেছে। মানুষের চোখ (কুদৃষ্টি) লাগা এবং এর ফলে মানুষ অথবা জন্তু-জানোয়ারের কষ্ট কিংবা ক্ষতি হওয়া সত্য। এটা মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এ কারণেই ইয়াকুব (আ.) তার পুত্রদের আত্মরক্ষার চিন্তা করে কুদৃষ্টি এবং হিংসার আশঙ্কাবশত ছেলেদের একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন। (সুরা ইউসুফ : ৬৭-৬৮)।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠাচ্ছে রাশিয়া

বদনজর থেকে বাঁচার আমল ও রাসুল (সা.)-এর নির্দেশনা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামে বদনজরের প্রভাব ও ক্ষতিকর দিককে সত্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। মূলত আল্লাহর জিকির ছাড়া গাফেল বা অসচেতন অবস্থায় কোনো কিছুর প্রতি হিংসাত্মক ও তীক্ষ্ণ কুদৃষ্টির ফলে যে ক্ষতি সাধিত হয়, তাকেই বদনজর বলা হয়ে থাকে। এই কুদৃষ্টির কারণে মানুষ কিংবা অন্যান্য বস্তুর ওপর বিষাক্ত তীর নিক্ষিপ্ত হওয়ার মতো প্রভাব পড়ে। কেউ প্রতিরক্ষাহীন বা অসচেতন থাকলে সেই কুদৃষ্টি সক্রিয় হয়ে ক্ষতি সাধন করে, তবে আধ্যাত্মিক সুরক্ষায় থাকলে এর কোনো প্রভাব পড়ে না। পবিত্র কোরআনের আয়াত এবং একাধিক হাদিসে বদনজরের সত্যতা স্পষ্ট করা হয়েছে। এটি কোনো মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এই আশঙ্কাবশতই ইয়াকুব (আ.) তাঁর সন্তানদের শহরের একই দরজা দিয়ে প্রবেশ না করে আলাদাভাবে প্রবেশ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, যা সুরা ইউসুফের ৬৭ ও ৬৮ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে।

বদনজর সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনা একাধিক নির্ভরযোগ্য হাদিস গ্রন্থে এসেছে। আবু হোরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে বলেছেন যে বদনজরের প্রভাব সত্য (বোখারি: ৫৩২৯, মুসলিম: ৫৫১৩)। এছাড়া আয়েশা (রা.) উল্লেখ করেছেন, রাসুল (সা.) আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন যে বদনজর সত্য ও বাস্তব (ইবনে মাজাহ: ৩৫০৮)। আসমা বিনতে উমায়স (রা.) যখন রাসুল (সা.)-কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে জাফরের সন্তানদের খুব বেশি নজর লাগে বলে তিনি তাদের ঝাড়ফুঁক করাতে পারেন কি না, জবাবে বিশ্বনবী (সা.) অনুমতি দেন। উবাইদ ইবনে রিফাআ আজ-জুরাকি (রা.) থেকে বর্ণিত তিরমিজি শরীফের ২০৫৯ নম্বর হাদিসে তিনি বলেন, কোনো বিষয় যদি তকদিরকে অতিক্রম করার মতো হতো, তবে বদনজরই তা অতিক্রম করতে পারত।

বদনজরের অপপ্রভাব থেকে আত্মরক্ষার জন্য প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নির্দিষ্ট কিছু দোয়া পাঠ ও আমলের কথা বলা হয়েছে। তিরমিজি শরীফের ৩৫৭৫ নম্বর হাদিসের নির্দেশনানুযায়ী প্রতি সকাল ও সন্ধ্যায় সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক ও সুরা নাস তিনবার করে পাঠ করা উত্তম। পাশাপাশি তিরমিজি শরীফের ৩৩৩৫ নম্বর হাদিসে বর্ণিত ‘বিসমিল্লা হিল্লাজি লা-ইয়াদুররু মাআসমিহি শাইউন, ফিলআরদি ওয়ালা-ফিসসামায়ি, ওয়া হুও য়াস সামিউল আলিম’ দোয়াটি পাঠের কথা উল্লেখ রয়েছে। নিয়মিত সকাল ও সন্ধ্যায় এসব মাসনুন দোয়া কয়েকবার পড়ে শরীরে ফুঁ দিলে কিংবা হাত দিয়ে শরীর মুছে নিলে আল্লাহর রহমতে বদনজরের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।

শিশুদের বদনজর থেকে সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতার নির্দেশ রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) স্বয়ং তাঁর দৌহিত্র হাসান ও হুসাইন (রা.)-এর সুরক্ষায় দোয়া পড়ে ফুঁ দিতেন। বোখারি শরীফের ৩১৯১ নম্বর হাদিস অনুযায়ী রাসুল (সা.) যে দোয়াটি পাঠ করতেন তা হলো— ‘আউজি বিকালিমা-তিল্লাহিত্ তা-ম্মাহ। মিন কুল্লি শাইতানিন-ওয়া হাম্মাহ। ওয়ামিন কুল্লি আইনিন লাম্মাহ।’ তাই শিশুদের রক্ষায় নিয়মিত এই দোয়া পাঠ করে তাদের গায়ে ফুঁ দেওয়া অভিভাবকদের দায়িত্ব ও কর্তব্য।

পবিত্র কোরআনের অসংখ্য আয়াত এবং অসংখ্য হাদিসে এর সত্যতার বিশদ বিবরণ এসেছে। মানুষের চোখ (কুদৃষ্টি) লাগা এবং এর ফলে মানুষ অথবা জন্তু-জানোয়ারের কষ্ট কিংবা ক্ষতি হওয়া সত্য। এটা মূর্খতাসুলভ কুসংস্কার নয়। এ কারণেই ইয়াকুব (আ.) তার পুত্রদের আত্মরক্ষার চিন্তা করে কুদৃষ্টি এবং হিংসার আশঙ্কাবশত ছেলেদের একই দরজা দিয়ে শহরে প্রবেশ করতে নিষেধ করেছেন। (সুরা ইউসুফ : ৬৭-৬৮)।