লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আকদ ছাড়া বাগদানে পাত্র-পাত্রীর মেলামেশা অবৈধ: ইসলামি বিধান

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী পছন্দ বা এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক আকদ বা নিকাহ না হওয়া পর্যন্ত পাত্র-পাত্রীর পারস্পরিক অবাধ কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বিনদারি, স্বভাব-চরিত্র ও সামঞ্জস্য যাচাইয়ের সুযোগ ইসলাম দিলেও সমাজে প্রচলিত বাগদানকে বিয়ের সমতুল্য ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

ইসলামে বিয়ের প্রস্তাবকে ‘খিতবা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারাহর ২৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এর ইঙ্গিত দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘নারীদের বিয়ের প্রস্তাবের ব্যাপারে তোমরা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে কিংবা তা নিজেদের অন্তরে গোপন রাখলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।’ ইসলামি ফকিহদের মতে, এই কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে বিয়ের প্রস্তাব এবং মূল বিয়ে দুটি পৃথক বিষয়। প্রস্তাব গৃহীত হলেও আকদ না হওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক অধিকার বা সম্পর্ক কার্যকর হয় না। এই সময়ে পাত্র-পাত্রী একে অপরের জন্য গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষ ও পরনারী হিসেবেই গণ্য থাকেন।

বাগদানের পর একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে বসা বা দীর্ঘ সময় নির্জনে একান্তে সময় কাটানোর প্রবণতাকে শরিয়ত স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেলেও আকদ না হওয়া পর্যন্ত কনে পরনারীই থেকে যান। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করবে না, যদি তার সঙ্গে কোনো মাহরাম না থাকে’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪১)। জামে তিরমিজির অন্য এক হাদিসে (হাদিস: ২১৬৫) মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘সাবধান! কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ তাই বাগদান বা আংটি পরানোর অজুহাতে নির্জন সাক্ষাৎ বৈধ হয় না বলে ‘আদ-দুররুল মুখতার’ (৮/৪২) ও ‘ফতোয়া ওসমানী’ (২/২২৯)-সহ বিভিন্ন ফতোয়ার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে মুঠোফোন, মেসেঞ্জার বা ভিডিও কলের মাধ্যমে রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং, আবেগঘন বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করাকেও ইসলাম অনুমোদন করে না। শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তি বা মাধ্যম পরিবর্তিত হলেও মৌলিক বিধান অপরিবর্তিত থাকে। সরাসরি মুখোমুখি নির্জন আলাপের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের গোপন যোগাযোগও একান্ত সাক্ষাতেরই আধুনিক রূপ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২)। পাপাচারের শুরুর পথ বন্ধ করতেই ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়া থেকে বারণ করা হয়েছে; ফলে স্পর্শ কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের আবেগঘন অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ জিনার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

সমাজ সংস্কারে এটি স্মরণ রাখা জরুরি যে, বাগদান হওয়ার পর থেকে নয়, বরং কেবল নিকাহর সূচনালগ্ন থেকেই বৈবাহিক সম্পর্ক ও অধিকার কার্যকর হয়। বিয়ে একদিন পর হোক কিংবা ছয় মাস পর, আকদের পূর্ব পর্যন্ত পাত্র-পাত্রী পরস্পরের নিকট গায়রে মাহরামই থাকেন। ফলে অপরিচিত কোনো পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে যে কাজ শরিয়তে নিষিদ্ধ, শুধু বাগদান সম্পন্ন হওয়ার কারণে তা বৈধ হয়ে যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতোয়া শাস্ত্রের বিশ্বস্ত গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মুখতার’ (৮/৪২), ‘ফতোয়া ওসমানী’ (২/২২৯), ‘ফতোয়া দারুল উলুম দেওবন্দ’ (৭/১৩০) এবং ‘ইমদাদুল আহকাম’ (৩/২০২)-এ স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দক্ষিণ কোরিয়ার দিকে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ল উত্তর কোরিয়া

আকদ ছাড়া বাগদানে পাত্র-পাত্রীর মেলামেশা অবৈধ: ইসলামি বিধান

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৪২:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ইসলামি শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, বিয়ের জন্য পাত্র-পাত্রী পছন্দ বা এনগেজমেন্ট সম্পন্ন হলেও আনুষ্ঠানিক আকদ বা নিকাহ না হওয়া পর্যন্ত পাত্র-পাত্রীর পারস্পরিক অবাধ কথাবার্তা, নির্জনে দেখা-সাক্ষাৎ ও মেলামেশা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর দ্বিনদারি, স্বভাব-চরিত্র ও সামঞ্জস্য যাচাইয়ের সুযোগ ইসলাম দিলেও সমাজে প্রচলিত বাগদানকে বিয়ের সমতুল্য ভাবার কোনো অবকাশ নেই।

ইসলামে বিয়ের প্রস্তাবকে ‘খিতবা’ হিসেবে গণ্য করা হয়। পবিত্র কুরআনের সুরা আল-বাকারাহর ২৩৫ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা এর ইঙ্গিত দিয়ে উল্লেখ করেছেন, ‘নারীদের বিয়ের প্রস্তাবের ব্যাপারে তোমরা ইঙ্গিতপূর্ণ কথা বললে কিংবা তা নিজেদের অন্তরে গোপন রাখলে তোমাদের কোনো গুনাহ নেই।’ ইসলামি ফকিহদের মতে, এই কুরআনুল কারিমের নির্দেশনা থেকে স্পষ্ট হয় যে বিয়ের প্রস্তাব এবং মূল বিয়ে দুটি পৃথক বিষয়। প্রস্তাব গৃহীত হলেও আকদ না হওয়া পর্যন্ত বৈবাহিক অধিকার বা সম্পর্ক কার্যকর হয় না। এই সময়ে পাত্র-পাত্রী একে অপরের জন্য গায়রে মাহরাম বা পরপুরুষ ও পরনারী হিসেবেই গণ্য থাকেন।

বাগদানের পর একসঙ্গে ঘুরতে যাওয়া, রেস্টুরেন্টে বসা বা দীর্ঘ সময় নির্জনে একান্তে সময় কাটানোর প্রবণতাকে শরিয়ত স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছে। বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক হয়ে গেলেও আকদ না হওয়া পর্যন্ত কনে পরনারীই থেকে যান। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নির্দেশ দিয়েছেন, ‘কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করবে না, যদি তার সঙ্গে কোনো মাহরাম না থাকে’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৩৪১)। জামে তিরমিজির অন্য এক হাদিসে (হাদিস: ২১৬৫) মহানবী (সা.) সতর্ক করে বলেছেন, ‘সাবধান! কোনো পুরুষ কোনো নারীর সঙ্গে নির্জনে অবস্থান করলে তাদের তৃতীয়জন হয় শয়তান।’ তাই বাগদান বা আংটি পরানোর অজুহাতে নির্জন সাক্ষাৎ বৈধ হয় না বলে ‘আদ-দুররুল মুখতার’ (৮/৪২) ও ‘ফতোয়া ওসমানী’ (২/২২৯)-সহ বিভিন্ন ফতোয়ার গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে।

একইভাবে মুঠোফোন, মেসেঞ্জার বা ভিডিও কলের মাধ্যমে রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা চ্যাটিং, আবেগঘন বার্তা, ছবি ও ভিডিও আদান-প্রদান করাকেও ইসলাম অনুমোদন করে না। শরিয়তের মূলনীতি অনুযায়ী, যোগাযোগের আধুনিক প্রযুক্তি বা মাধ্যম পরিবর্তিত হলেও মৌলিক বিধান অপরিবর্তিত থাকে। সরাসরি মুখোমুখি নির্জন আলাপের মতো প্রযুক্তির মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের গোপন যোগাযোগও একান্ত সাক্ষাতেরই আধুনিক রূপ। কুরআনে আল্লাহ তাআলা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়ো না। নিশ্চয়ই তা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট পথ’ (সুরা আল-ইসরা, আয়াত: ৩২)। পাপাচারের শুরুর পথ বন্ধ করতেই ব্যভিচারের নিকটবর্তী হওয়া থেকে বারণ করা হয়েছে; ফলে স্পর্শ কিংবা ডিজিটাল মাধ্যমে এ ধরনের আবেগঘন অনাকাঙ্ক্ষিত যোগাযোগ জিনার অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য হবে।

সমাজ সংস্কারে এটি স্মরণ রাখা জরুরি যে, বাগদান হওয়ার পর থেকে নয়, বরং কেবল নিকাহর সূচনালগ্ন থেকেই বৈবাহিক সম্পর্ক ও অধিকার কার্যকর হয়। বিয়ে একদিন পর হোক কিংবা ছয় মাস পর, আকদের পূর্ব পর্যন্ত পাত্র-পাত্রী পরস্পরের নিকট গায়রে মাহরামই থাকেন। ফলে অপরিচিত কোনো পরপুরুষ বা পরনারীর সঙ্গে যে কাজ শরিয়তে নিষিদ্ধ, শুধু বাগদান সম্পন্ন হওয়ার কারণে তা বৈধ হয়ে যায় না। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতোয়া শাস্ত্রের বিশ্বস্ত গ্রন্থ ‘আদ-দুররুল মুখতার’ (৮/৪২), ‘ফতোয়া ওসমানী’ (২/২২৯), ‘ফতোয়া দারুল উলুম দেওবন্দ’ (৭/১৩০) এবং ‘ইমদাদুল আহকাম’ (৩/২০২)-এ স্পষ্ট নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।