লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদরদপ্তর

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক স্পষ্টীকরণে সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি তার বক্তব্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তার ওই বক্তব্যের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন শিরোনাম ও সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়, যাতে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা যায়। পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি মূলত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের দমনে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কথা বুঝিয়েছেন।

স্পষ্টীকরণে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ পুলিশ একটি দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেফতার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রায়শই সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও সদরদপ্তর স্মরণ করিয়ে দেয়।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির করা মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে সদরদপ্তর জানায়, তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং বিষয়টি অসাবধানতাবশত ঘটেছে।

উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, ‘আমরা পুলিশকে লাঠি পেটা করি বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি আপনার নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ। তাহলে আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। এমপাওয়ার করতে হবে।’ সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা উল্লেখ করায় হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এর নিন্দা জানিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। পুলিশ সদরদপ্তর পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা অকার্যকর: ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদরদপ্তর

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০৫:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রদান করেছে পুলিশ সদরদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এক স্পষ্টীকরণে সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে শব্দটি আক্ষরিক অর্থে ব্যবহার করেছিলেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।

এর আগে সোমবার সকালে রাজধানীর চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংকের ইসলামিক ব্যাংকিং শাখা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি তার বক্তব্যে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার করেন। তার ওই বক্তব্যের পর গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন শিরোনাম ও সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে এই স্পষ্টীকরণ দেওয়া হয়, যাতে জনমনে তৈরি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করা যায়। পুলিশ সদরদপ্তর জানায়, আইজিপি মূলত মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারী অপরাধীদের দমনে পুলিশের দৃঢ় অবস্থানের কথা বুঝিয়েছেন।

স্পষ্টীকরণে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ পুলিশ একটি দায়িত্বশীল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা হিসেবে অপরাধ দমন, অপরাধী গ্রেফতার এবং জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করে। দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের প্রায়শই সরাসরি প্রতিরোধ ও আক্রমণের মুখোমুখি হতে হয়। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। দণ্ডবিধি-১৮৬০, ফৌজদারি কার্যবিধি-১৮৯৮ এবং পুলিশ অ্যাক্ট-১৮৬১ অনুযায়ী পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে বলেও সদরদপ্তর স্মরণ করিয়ে দেয়।

একই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সম্পর্কে আইজিপির করা মন্তব্য নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। এ বিষয়ে সদরদপ্তর জানায়, তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি এবং বিষয়টি অসাবধানতাবশত ঘটেছে।

উল্লেখ্য, ওই অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেছিলেন, ‘আমরা পুলিশকে লাঠি পেটা করি বলবেন আমরা ফ্যাসিস্ট পুলিশ। আর আমরা যদি আপনার নীরবে থাকি তাহলে বলবে দুর্বল পুলিশ। তাহলে আমাকে তো কাজ করার পরিবেশ দিতে হবে। এমপাওয়ার করতে হবে।’ সরকার অনুমোদন দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করার কথা উল্লেখ করায় হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং এর নিন্দা জানিয়ে ব্যাখ্যা দাবি করে। পুলিশ সদরদপ্তর পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে, বাংলাদেশ পুলিশ মানবাধিকার সমুন্নত রেখে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।