লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছেন দাগি অপরাধীরা, নজরদারিতে ঘাটতি

গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও পুরোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পেশাদার অপরাধীদের একটি বড় অংশ। শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে এই প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কারামুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং তাদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ হাজার আসামি গ্রেপ্তার হয়। প্রায় একই সংখ্যক আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে দেশে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে কারাগার থেকে প্রায় সমপরিমাণ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে, যাদের অনেকেই আবার পুরোনো অপরাধ চক্রে ফিরে গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সঠিকভাবে জেল প্যারেড কার্যকর না থাকা, ক্রিমিনাল ডেটাবেজ ও ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক (ভিসিএনবি) তৈরি ও হালনাগাদ না করা, সার্ভিলেন্স লিস্ট বা অপরাধীদের হালনাগাদ রেকর্ড অনুপস্থিত থাকা এবং ভিজিট চার্ট অনুসরণ না করার কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। পেশাদার অপরাধীরা দ্রুত জামিন পেয়ে পুরোনো অপরাধে লিপ্ত হওয়ায় পুলিশ একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও প্রতি জেলায় এর শাখা খোলার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে কয়েকজন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সুব্রত বাইন, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, ফ্রিডম রাসু, টিটন এবং শেখ আসলাম ওরফে Sweden আসলামসহ আরো কয়েকজন। জামিনে বের হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, লোমহর্ষক অপরাধ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় জামিনপ্রাপ্তদের অপরাধে ফেরার প্রমাণ মিলেছে। গত ১৯ জানুয়ারি সাভারের তেঁতুলঝোড়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে রকিবুল ইসলাম ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি মামলার সাক্ষীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাভারের হেমায়েতপুরে ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন হত্যা মামলায় সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। অন্যদিকে, গত ২৪ জুলাই চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট ভেড়া মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাদক কারবারি মাসুমা পারভীন শিমুকে, যার বিরুদ্ধে মাদক ও মানব পাচারসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। পূর্বে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া শিমু জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় নেমে পড়েছিল।

একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চিত্ত চন্দ্র দাস, রবি চন্দ্র রাজবংশী, কহিনুর ইসলাম ও কাজী শরিফ নামে চারজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে, যারা আগেও দফায় দফায় মাদক বিক্রির অভিযোগে ধরা পড়েছিল। এ ছাড়া ২৭ আগস্ট ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে লিটন নামে এক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে ষষ্ঠবারের মতো গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পেশাদার অপরাধীদের নজরদারির বাইরে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে পুলিশের সাবেক একজন ডিআইজি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের রেগুলেশন (পিআরবি রুলস ৩৯১) অনুযায়ী প্রতিটি থানায় পেশাদার অপরাধীদের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি 'ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক' (ভিসিএনবি) সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। তবে দীর্ঘ বছর ধরে থানাগুলোতে ভিসিএনবি ও সার্ভিলেন্স লিস্ট হালনাগাদ করা হয় না। ফলে দাগি অপরাধীদের গতিবিধি তদারকির ‘ভিজিট চার্ট’ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকায় জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধীরা কোথায় কী করছে তা পুলিশের অজানা থেকে যায়।

পুলিশের ওই সাবেক কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই অপরাধ কমে না। চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতার মতো সম্পত্তি সংক্রান্ত (ক্রাইম অ্যাগেনস্ট প্রপার্টি) মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা বিচারে ছাড় পাচ্ছে কি না বা দীর্ঘমেয়াদে জামিনে থাকছে কি না তা তদারকির সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নেই। বিচারে শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া এবং সঠিক মনিটরিং না থাকায় অপরাধীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। এর সমাধানে থানার ওসিদের নিজ হাতে ম্যানুয়ালি ভিসিএনবি লেখা বাধ্যতামূলক করা এবং সার্কেল অফিসার ও পুলিশ সুপারদের তা তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কারামুক্ত আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে 'জেল প্যারেড' একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী বা নিয়মিত অপরাধীদের তথ্য নেওয়া, কারাগারের ভেতরের ও বাইরের অপরাধী নেটওয়ার্কের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ও জেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি কামারুম মুনিরা জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথভাবে জেল প্যারেড কার্যকর করছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং মুক্ত আসামিদের নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ডাকাতি বা দস্যুতার আসামিরা জামিন পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়। সে কারণে ডাকাতি ও দস্যুতার মামলায় জামিনপ্রাপ্তদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয় এবং কোনো এলাকায় এসব ঘটনা ঘটলে আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদেরও তদন্ত ও নজরদারির আওতায় আনা হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

হামের টিকা অকার্যকর: ২৭ শতাংশ শিশুর শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়নি

জামিনে মুক্তি পেয়ে ফের অপরাধে জড়াচ্ছেন দাগি অপরাধীরা, নজরদারিতে ঘাটতি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:১৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার পর জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও পুরোনো অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে পেশাদার অপরাধীদের একটি বড় অংশ। শীর্ষ সন্ত্রাসী থেকে শুরু করে ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ ও মাদক কারবারিদের মধ্যে এই প্রবণতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কারামুক্ত ব্যক্তিদের ওপর নিয়মিত নজরদারি এবং তাদের হালনাগাদ তথ্য সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা থাকার কথা থাকলেও বাস্তবায়নে ঘাটতি থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন থানা ও ইউনিটে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৭০ হাজার আসামি গ্রেপ্তার হয়। প্রায় একই সংখ্যক আসামি আদালত থেকে জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে যায়। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ মে থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত চার মাসে দেশে ১ লাখ ৯৫ হাজার ১৪৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই সময়ে কারাগার থেকে প্রায় সমপরিমাণ আসামি জামিনে মুক্তি পেয়েছে, যাদের অনেকেই আবার পুরোনো অপরাধ চক্রে ফিরে গেছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, সঠিকভাবে জেল প্যারেড কার্যকর না থাকা, ক্রিমিনাল ডেটাবেজ ও ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক (ভিসিএনবি) তৈরি ও হালনাগাদ না করা, সার্ভিলেন্স লিস্ট বা অপরাধীদের হালনাগাদ রেকর্ড অনুপস্থিত থাকা এবং ভিজিট চার্ট অনুসরণ না করার কারণে সংঘবদ্ধ অপরাধীদের নিয়ন্ত্রণে রাখা যাচ্ছে না। পেশাদার অপরাধীরা দ্রুত জামিন পেয়ে পুরোনো অপরাধে লিপ্ত হওয়ায় পুলিশ একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল ও প্রতি জেলায় এর শাখা খোলার পরিকল্পনা করলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি।

২০০১ সালের ২৫ ডিসেম্বর সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর মধ্যে কয়েকজন ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন সুব্রত বাইন, পিচ্চি হেলাল, সানজিদুল ইসলাম ওরফে ইমন, মোহাম্মদপুরের ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, ফ্রিডম রাসু, টিটন এবং শেখ আসলাম ওরফে Sweden আসলামসহ আরো কয়েকজন। জামিনে বের হওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, লোমহর্ষক অপরাধ, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির মতো অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে।

সাম্প্রতিক বেশ কিছু ঘটনায় জামিনপ্রাপ্তদের অপরাধে ফেরার প্রমাণ মিলেছে। গত ১৯ জানুয়ারি সাভারের তেঁতুলঝোড়ায় জামিনে মুক্ত হয়ে রকিবুল ইসলাম ফয়সাল নামে এক ব্যক্তি মামলার সাক্ষীসহ পাঁচজনকে কুপিয়ে আহত করে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাভারের হেমায়েতপুরে ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন হত্যা মামলায় সে গ্রেপ্তার হয়েছিল। অন্যদিকে, গত ২৪ জুলাই চট্টগ্রামের ফিশারিঘাট ভেড়া মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় মাদক কারবারি মাসুমা পারভীন শিমুকে, যার বিরুদ্ধে মাদক ও মানব পাচারসহ অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। পূর্বে একাধিকবার গ্রেপ্তার হওয়া শিমু জামিনে বেরিয়ে ফের মাদক ব্যবসায় নেমে পড়েছিল।

একইভাবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) চিত্ত চন্দ্র দাস, রবি চন্দ্র রাজবংশী, কহিনুর ইসলাম ও কাজী শরিফ নামে চারজনকে মাদকসহ গ্রেপ্তার করে, যারা আগেও দফায় দফায় মাদক বিক্রির অভিযোগে ধরা পড়েছিল। এ ছাড়া ২৭ আগস্ট ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে লিটন নামে এক ব্যক্তিকে একই অভিযোগে ষষ্ঠবারের মতো গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পেশাদার অপরাধীদের নজরদারির বাইরে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে পুলিশের সাবেক একজন ডিআইজি জানান, বাংলাদেশ পুলিশের রেগুলেশন (পিআরবি রুলস ৩৯১) অনুযায়ী প্রতিটি থানায় পেশাদার অপরাধীদের গোপনীয় ও গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নথি 'ভিলেজ ক্রাইম নোটবুক' (ভিসিএনবি) সংরক্ষণ করা বাধ্যতামূলক। তবে দীর্ঘ বছর ধরে থানাগুলোতে ভিসিএনবি ও সার্ভিলেন্স লিস্ট হালনাগাদ করা হয় না। ফলে দাগি অপরাধীদের গতিবিধি তদারকির ‘ভিজিট চার্ট’ বাস্তবে অনুপস্থিত থাকায় জামিনে ছাড়া পেয়ে অপরাধীরা কোথায় কী করছে তা পুলিশের অজানা থেকে যায়।

পুলিশের ওই সাবেক কর্মকর্তা আরও বলেন, শুধু গ্রেপ্তার করলেই অপরাধ কমে না। চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতার মতো সম্পত্তি সংক্রান্ত (ক্রাইম অ্যাগেনস্ট প্রপার্টি) মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরা বিচারে ছাড় পাচ্ছে কি না বা দীর্ঘমেয়াদে জামিনে থাকছে কি না তা তদারকির সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা নেই। বিচারে শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া এবং সঠিক মনিটরিং না থাকায় অপরাধীরা বারবার সুযোগ পাচ্ছে। এর সমাধানে থানার ওসিদের নিজ হাতে ম্যানুয়ালি ভিসিএনবি লেখা বাধ্যতামূলক করা এবং সার্কেল অফিসার ও পুলিশ সুপারদের তা তদারকি নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কারামুক্ত আসামিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণে 'জেল প্যারেড' একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। এর মাধ্যমে কারাগারে থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী বা নিয়মিত অপরাধীদের তথ্য নেওয়া, কারাগারের ভেতরের ও বাইরের অপরাধী নেটওয়ার্কের গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং পুলিশ ও জেল কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় করা সম্ভব হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের এআইজি কামারুম মুনিরা জানান, সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের ক্ষেত্রে পুলিশ যথাযথভাবে জেল প্যারেড কার্যকর করছে। পাশাপাশি গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের আঙুলের ছাপসহ বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে এবং মুক্ত আসামিদের নজরদারিতে রাখতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া রয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মুনতাসিরুল ইসলাম জানান, পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে ডাকাতি বা দস্যুতার আসামিরা জামিন পেয়ে আবারও একই কাজে লিপ্ত হয়। সে কারণে ডাকাতি ও দস্যুতার মামলায় জামিনপ্রাপ্তদের বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয় এবং কোনো এলাকায় এসব ঘটনা ঘটলে আগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদেরও তদন্ত ও নজরদারির আওতায় আনা হয়।