লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ বছর ধরে বন্ধ ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ ফেরি, সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রেলওয়ের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাব্য সংকটসহ নানা কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পরিবেষ্টিত এলাকার কোটি মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নিত্যদিনের এই কষ্ট থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে বালাসী-বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে। দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নদীপাড়ের বাসিন্দারা সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে জনমত গঠন করে যাচ্ছেন। এমনকি সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরের জেলাগুলোতে সফর করে জেলা প্রশাসন ও প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। ফুলছড়ির বালাসী ঘাট থেকে ওপারে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। নদীতে অসংখ্য ডুবোচর, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রবল স্রোতের কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হলেও কার্যকর বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এই পথ ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার এই বেহাল দশার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে। ফুলছড়ি ও সাঘাটা অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে পাঠানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে, যার ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নদী পারাপারের বিড়ম্বনা প্রভাব ফেলছে সামাজিক জীবনেও। চলাচলের অনগ্রসরতার কারণে চরাঞ্চলের মেয়েদের ভালো পরিবারে বিয়েশাদি হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় অধিবাসীদের দৈনন্দিন ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বালাসীর সাত্তারকান্দি এলাকার বাসিন্দা জসিজল হক জানান, বর্ষাকালে নৌকা চললেও বছরের অধিকাংশ সময় হেঁটে পথ চলতে হয়। প্রসূতি রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার বিপদের কথা উল্লেখ করে ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়নের ওয়াজেদ আলী মুন্সি বলেন, চরে কোনো হাসপাতাল বা উচ্চবিদ্যালয় নেই। জরুরি প্রসূতি রোগীদের দূরবর্তী শহরের হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মাঝেমধ্যে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বিগত সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে ভরতখালী এলাকার ব্যবসায়ী শওকত মির্জা রুস্তম বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার অত্র এলাকায় টানেল নির্মাণের নামে মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে গেছে। যা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কাজ করেনি তারা। এই এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ হলে মানুষের জীবনের মান বেড়ে যাবে। ব্যবসায় প্রসার ঘটবে। তাই সেতু নির্মাণ এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।’ অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই নৌপথে সেতু নির্মাণ হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে। এটি কেবল একটি সেতু নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের যোগাযোগ ও সম্ভাবনার নতুন ঐতিহাসিক দ্বার উন্মোচন করবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রূপপুর প্রকল্পে ইউরেনিয়ামের চতুর্থ চালান পৌঁছাল কড়া নিরাপত্তায়

২৫ বছর ধরে বন্ধ ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ ফেরি, সেতু নির্মাণের জোরালো দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩৬:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

গাইবান্ধার ফুলছড়ি ও জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাটের মধ্যে দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রেলওয়ের ফেরি চলাচল বন্ধ রয়েছে। নাব্য সংকটসহ নানা কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌরুটে ফেরি সার্ভিস বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদী পরিবেষ্টিত এলাকার কোটি মানুষকে পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ। নিত্যদিনের এই কষ্ট থেকে স্থায়ী মুক্তি পেতে বালাসী-বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে দ্বিতীয় যমুনা সেতু নির্মাণের দাবি দিন দিন জোরালো হয়ে উঠছে। দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নদীপাড়ের বাসিন্দারা সভা, সমাবেশ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে জনমত গঠন করে যাচ্ছেন। এমনকি সেতুর যৌক্তিকতা তুলে ধরতে সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ১২ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল উত্তরের জেলাগুলোতে সফর করে জেলা প্রশাসন ও প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন মহলে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা ও ইঞ্জিনচালিত ট্রলার। ফুলছড়ির বালাসী ঘাট থেকে ওপারে জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত প্রতিদিনই হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন। নদীতে অসংখ্য ডুবোচর, অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই, প্রতিকূল আবহাওয়া এবং প্রবল স্রোতের কারণে মাত্র কয়েক মিনিটের পথ পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে যাতায়াত করতে হলেও কার্যকর বিকল্প না থাকায় বাধ্য হয়েই এই পথ ব্যবহার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগব্যবস্থার এই বেহাল দশার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতে। ফুলছড়ি ও সাঘাটা অঞ্চলে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সহজে রাজধানী ঢাকাসহ অন্যান্য স্থানে পাঠানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও সময়সাপেক্ষ হয়ে পড়েছে, যার ফলে কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। নদী পারাপারের বিড়ম্বনা প্রভাব ফেলছে সামাজিক জীবনেও। চলাচলের অনগ্রসরতার কারণে চরাঞ্চলের মেয়েদের ভালো পরিবারে বিয়েশাদি হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

স্থানীয় অধিবাসীদের দৈনন্দিন ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরে বালাসীর সাত্তারকান্দি এলাকার বাসিন্দা জসিজল হক জানান, বর্ষাকালে নৌকা চললেও বছরের অধিকাংশ সময় হেঁটে পথ চলতে হয়। প্রসূতি রোগীদের জরুরি চিকিৎসাসেবার বিপদের কথা উল্লেখ করে ফুলছড়ির গজারিয়া ইউনিয়নের ওয়াজেদ আলী মুন্সি বলেন, চরে কোনো হাসপাতাল বা উচ্চবিদ্যালয় নেই। জরুরি প্রসূতি রোগীদের দূরবর্তী শহরের হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মাঝেমধ্যে প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

বিগত সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে ভরতখালী এলাকার ব্যবসায়ী শওকত মির্জা রুস্তম বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার অত্র এলাকায় টানেল নির্মাণের নামে মানুষকে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে গেছে। যা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের কাজ করেনি তারা। এই এলাকায় একটি সেতু নির্মাণ হলে মানুষের জীবনের মান বেড়ে যাবে। ব্যবসায় প্রসার ঘটবে। তাই সেতু নির্মাণ এখন এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি।’ অন্যদিকে ফুলছড়ি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম বলেন, এই নৌপথে সেতু নির্মাণ হলে পুরো উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক দৃশ্যপট বদলে যাবে। এটি কেবল একটি সেতু নয়, বরং উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের যোগাযোগ ও সম্ভাবনার নতুন ঐতিহাসিক দ্বার উন্মোচন করবে।