লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:৪৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডেঙ্গুতে তিন বোন আক্রান্ত, আইসিইউতে প্রাণ হারাল বড় মেয়ে সাফিয়া

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তিন বোনের মধ্যে সবার বড় সাফিয়া হাসিন আরোশী চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৪ সালে তিন বছর বয়স থেকে এখানেই বড় হয়েছে সে। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরোশী আইসিইউতে থাকাকালীন তার বাবা দন্ত চিকিৎসক হাসানুজ্জামানকে বলেছিল, সে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। বাবার ভাষ্যমতে, তার 'ফাইটার' মেয়ে কথা রাখতে পারেনি। হাসানুজ্জামান বললেন, মেয়েটার জন্ম হলো ২০১১ সালের ১১ জুলাই, আর মারা গেল ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর। হাসপাতালে যাওয়ার সময় বাবা-মা আশা করেছিলেন পাঁচজনই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজনকে ছাড়াই তাঁদের ফিরতে হয়েছে।

হাসানুজ্জামান ও শারমীন আক্তার দম্পতির তিন মেয়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। মিরপুর ক্যাম্পাসের একাডেমিয়ার শিক্ষার্থী আরোশীর জ্বর আসে ১৯ অক্টোবর। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ছোট দুই বোন সায়রা হাসিন সরোশী ও সাকেরা হাসিন রোদশীরও একই সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে বাসায় তরল খাবার ও নিয়মিত প্লাটিলেট পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা চলছিল। তবে আরোশীর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় ২২ অক্টোবর তিন বোনকেই ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শারীরিক জটিলতা বাড়লে আরোশীকে বিআরবি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৫ অক্টোবর বেলা ১টা ২৬ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

আরোশীর মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা মাটিকাটার বাগানবাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে নোয়াখালীর মাইজদীতে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়। এ কথা উল্লেখ করে হাসানুজ্জামান বলেন, তাঁর বাবা, ভাইসহ পরিবারের চিকিৎসক আছেন প্রায় ১৪ জন। আরোশীর মৃত্যুর খবর ছোট বোন রোদশীকে জানানো হয়নি, কারণ তখন তার নিজের শারীরিক অবস্থাও ছিল নাজুক। মেজ বোন সরোশী কিছুটা সুস্থ থাকায় সে বোনের মরদেহের সঙ্গে নোয়াখালীতে যেতে পেরেছিল। বড় বোনকে হারানোর পর থেকে ছোট দুই বোন কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

আরোশীর মৃত্যুর পর তার মা শারমীন আক্তার জানিয়েছেন, আইসিইউতে শেষবার দেখা হওয়ার সময় মেয়ে তাকে বলেছিল, 'মা, তুমি আসছ। তোমার সঙ্গে অনেক কথা আছে। মা, আমাকে ফেলে যেয়ো না।' ৪ অক্টোবর মায়ের জন্মদিনে আরোশী একটি ঝুলন্ত শোপিস উপহার দিয়েছিল, যা এখন মায়ের জন্য শোকের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরোশীর পড়ার টেবিলে নাচ, ড্রয়িং ও খেলাধুলার অনেক ক্রেস্ট ও সনদ সাজানো রয়েছে।

চিকিৎসক হাসানুজ্জামান মেয়ের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, সরকারি পর্যায়ে করোনার মতো ডেঙ্গু নিয়ে তেমন তৎপরতা নেই। তিনি বলেন, 'ডেঙ্গুতে যে স্বজন হারাচ্ছে, শুধু তারাই হাহাকার করে যাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে তো কোনো হাহাকার নেই।'

জনপ্রিয় সংবাদ

চাকরি থেকে বরখাস্ত হলেন সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন-অর-রশিদ

ডেঙ্গুতে তিন বোন আক্রান্ত, আইসিইউতে প্রাণ হারাল বড় মেয়ে সাফিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ১০:১০:০০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত তিন বোনের মধ্যে সবার বড় সাফিয়া হাসিন আরোশী চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছে। ২০১৪ সালে তিন বছর বয়স থেকে এখানেই বড় হয়েছে সে। নবম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরোশী আইসিইউতে থাকাকালীন তার বাবা দন্ত চিকিৎসক হাসানুজ্জামানকে বলেছিল, সে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে। বাবার ভাষ্যমতে, তার 'ফাইটার' মেয়ে কথা রাখতে পারেনি। হাসানুজ্জামান বললেন, মেয়েটার জন্ম হলো ২০১১ সালের ১১ জুলাই, আর মারা গেল ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর। হাসপাতালে যাওয়ার সময় বাবা-মা আশা করেছিলেন পাঁচজনই সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত একজনকে ছাড়াই তাঁদের ফিরতে হয়েছে।

হাসানুজ্জামান ও শারমীন আক্তার দম্পতির তিন মেয়েই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। মিরপুর ক্যাম্পাসের একাডেমিয়ার শিক্ষার্থী আরোশীর জ্বর আসে ১৯ অক্টোবর। পরীক্ষায় তার ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ার পর ছোট দুই বোন সায়রা হাসিন সরোশী ও সাকেরা হাসিন রোদশীরও একই সমস্যা দেখা দেয়। শুরুতে বাসায় তরল খাবার ও নিয়মিত প্লাটিলেট পরীক্ষার মাধ্যমে চিকিৎসা চলছিল। তবে আরোশীর শারীরিক অবস্থা অবনতির দিকে যাওয়ায় ২২ অক্টোবর তিন বোনকেই ধানমন্ডির সেন্ট্রাল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরদিন শারীরিক জটিলতা বাড়লে আরোশীকে বিআরবি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। সেখানে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ২৫ অক্টোবর বেলা ১টা ২৬ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

আরোশীর মৃত্যুর পর তার প্রথম জানাজা মাটিকাটার বাগানবাড়ি এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে নোয়াখালীর মাইজদীতে দাদা-দাদির কবরের পাশে দাফন করা হয়। এ কথা উল্লেখ করে হাসানুজ্জামান বলেন, তাঁর বাবা, ভাইসহ পরিবারের চিকিৎসক আছেন প্রায় ১৪ জন। আরোশীর মৃত্যুর খবর ছোট বোন রোদশীকে জানানো হয়নি, কারণ তখন তার নিজের শারীরিক অবস্থাও ছিল নাজুক। মেজ বোন সরোশী কিছুটা সুস্থ থাকায় সে বোনের মরদেহের সঙ্গে নোয়াখালীতে যেতে পেরেছিল। বড় বোনকে হারানোর পর থেকে ছোট দুই বোন কথা বলা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে।

আরোশীর মৃত্যুর পর তার মা শারমীন আক্তার জানিয়েছেন, আইসিইউতে শেষবার দেখা হওয়ার সময় মেয়ে তাকে বলেছিল, 'মা, তুমি আসছ। তোমার সঙ্গে অনেক কথা আছে। মা, আমাকে ফেলে যেয়ো না।' ৪ অক্টোবর মায়ের জন্মদিনে আরোশী একটি ঝুলন্ত শোপিস উপহার দিয়েছিল, যা এখন মায়ের জন্য শোকের স্মৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। আরোশীর পড়ার টেবিলে নাচ, ড্রয়িং ও খেলাধুলার অনেক ক্রেস্ট ও সনদ সাজানো রয়েছে।

চিকিৎসক হাসানুজ্জামান মেয়ের চিকিৎসায় কোনো গাফিলতি ছিল না বলে দাবি করেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশা নিধনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি মনে করেন, সরকারি পর্যায়ে করোনার মতো ডেঙ্গু নিয়ে তেমন তৎপরতা নেই। তিনি বলেন, 'ডেঙ্গুতে যে স্বজন হারাচ্ছে, শুধু তারাই হাহাকার করে যাচ্ছে। সরকারি পর্যায়ে তো কোনো হাহাকার নেই।'