লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খুলনা অভিমুখে লংমার্চে এনসিপির প্রতীকী অংশগ্রহণ

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। সোমবার সকাল আটটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনী সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও এনসিপির চার নেতা পরে এই গাড়িবহরে যোগ দিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এনসিপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবারের লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আরিফুল ইসলাম আদীব শরীয়তপুরের নাওডোবায় বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দল হিসেবে এনসিপি লংমার্চে অংশ নিচ্ছে এবং দলের কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে রয়েছেন। উদ্বোধনী সমাবেশে দলের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ বাগেরহাট থেকে গাড়িবহরে যোগ দেবেন।

এবারের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ ‘প্রতীকী’ বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগের দুটি লংমার্চে দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও এবার প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও পৃথক দল হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে চায়। এই ধারাবাহিকতায় লংমার্চের এক দিন আগে শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে দলটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিল।

লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তা রাজনৈতিক মহলে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশে হামলার ঘটনার ১৫ মাস পর এবার বিরোধী দলীয় ঐক্যের এই যাত্রা হচ্ছে। তবে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা গোপালগঞ্জে হামলার আশঙ্কা নাকচ করেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। ১১-দলীয় ঐক্য গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি।

সোমবারের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দেশবাসীকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে এবং পথে একাধিক পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

জনপ্রিয় সংবাদ

দিনাজপুর বোর্ডে ৪৯টি কলেজের শতভাগ পরীক্ষার্থী ফেল

খুলনা অভিমুখে লংমার্চে এনসিপির প্রতীকী অংশগ্রহণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৭:৩১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগ অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কোনো নেতাকে দেখা যায়নি। সোমবার সকাল আটটায় রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর সাড়ে আটটার দিকে লংমার্চের গাড়িবহর খুলনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। উদ্বোধনী সমাবেশে উপস্থিত না থাকলেও এনসিপির চার নেতা পরে এই গাড়িবহরে যোগ দিয়েছেন বলে দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এনসিপির একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব এবারের লংমার্চে অংশ নিচ্ছেন না। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও আবদুল হান্নান মাসউদ এবং যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজকে প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আরিফুল ইসলাম আদীব শরীয়তপুরের নাওডোবায় বক্তব্য দিয়েছেন। এছাড়া এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, দল হিসেবে এনসিপি লংমার্চে অংশ নিচ্ছে এবং দলের কয়েকজন প্রতিনিধি সেখানে রয়েছেন। উদ্বোধনী সমাবেশে দলের অনুপস্থিতি নিয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ বাগেরহাট থেকে গাড়িবহরে যোগ দেবেন।

এবারের লংমার্চে এনসিপির অংশগ্রহণ ‘প্রতীকী’ বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। আগের দুটি লংমার্চে দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও এবার প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যে থাকলেও পৃথক দল হিসেবে নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয় ধরে রাখতে চায়। এই ধারাবাহিকতায় লংমার্চের এক দিন আগে শুক্রবার ঢাকার শাহবাগে দলটি গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছিল।

লংমার্চের গাড়িবহর গোপালগঞ্জের ওপর দিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হওয়ায় তা রাজনৈতিক মহলে নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে এনেছে। গত বছরের জুলাইয়ে গোপালগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রা ও সমাবেশে হামলার ঘটনার ১৫ মাস পর এবার বিরোধী দলীয় ঐক্যের এই যাত্রা হচ্ছে। তবে ১১-দলীয় ঐক্যের নেতারা গোপালগঞ্জে হামলার আশঙ্কা নাকচ করেছেন। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জানান, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে কথা হয়েছে এবং হামলার কোনো আশঙ্কা নেই। ১১-দলীয় ঐক্য গোপালগঞ্জে কোনো পথসভা রাখেনি।

সোমবারের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি দেশবাসীকে আরেকটি অনিবার্য বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। প্রায় ৪২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই লংমার্চে ১৯টি জেলা অতিক্রম করা হবে এবং পথে একাধিক পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার, গণহত্যার বিচার, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন দাবিতে এই কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর আগে ৫ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম ও ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করেছিল ১১-দলীয় ঐক্য। আগামী ২১ নভেম্বর সিলেট অভিমুখে লংমার্চের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।