লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাঙ্গাবালীতে বসতঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে।

ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, শীলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তার স্বামী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বয়াতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। তবে রাসেল বয়াতীর দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়, যা উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। শীলার আগের সংসারের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে রাফিন (১৭) পটুয়াখালীতে পড়াশোনা করে এবং মেয়ে লাবিবা (১৩) মায়ের সঙ্গে থাকত।

নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল অভিযোগ করে বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি ছিলেন শীলা। তিনি জানান, শীলার জমিজমা বিক্রি করে টাকা দাবি করতেন স্বামী রাসেল। তাদের ধারণা, গলাটিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আত্মহত্যা করতে গেলে ফাঁসের যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তা দেখতে না পেয়ে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শীলার আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল এবং চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা জানান, পরিবারের সদস্য কিংবা আশপাশের কাউকে না জানিয়ে রাসেল একাই কেন তড়িঘড়ি করে মরদেহ নিচে নামালেন, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। স্বজনেরা ছোট মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং শীলাকে মারধর করে ঘরের বাইরে আটকে রাখা হতো। রাসেল বাইরে গেলে লাবিবা দরজা খুলে মাকে ঘরে তুলত।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা রাসেল বয়াতী। তিনি জানান, বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তাদের সামান্য মনমালিন্য হলেও তারা একসঙ্গেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতেও খাবার খেয়ে রাত ১২টার পর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে স্ত্রী নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে তিনি টের পান। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অন্য কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশের বাড়ির এক দম্পতি কাছে না আসায় চাচাতো ভাই সোহানকে ডেকে এনে নিজেই শীলাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। তবে তিনি আত্মহত্যার কারণ জানেন না বলে দাবি করেন।

রাঙ্গাবালী থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে এবং মৃত্যুর আগের দিনও তাদের কথা বলা বন্ধ ছিল বলে নিহতের মেয়ে জানিয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন ও সন্দেহ দূর করতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অস্বাভাবিক কিছু প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাটোরের দুই প্রবাসীর মরদেহ গ্রামে পৌঁছেছে

রাঙ্গাবালীতে বসতঘর থেকে নারীর মরদেহ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ স্বজনদের

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:৩২:৩৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর বাজার এলাকার নিজ বসতঘর থেকে ফারহানা ইয়াসমিন শীলা (৪৩) নামে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দুপুরে মরদেহটি উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহত শীলা রাঙ্গাবালী উপজেলা বিএনপির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সাজাদুল ইসলাম শামীমের মেয়ে।

ঘটনার পর থেকে নিহতের পরিবারের সদস্যরা এটিকে আত্মহত্যা মানতে নারাজ। তাদের দাবি, শীলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এ ঘটনায় তার স্বামী উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রাসেল বয়াতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ ও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। তবে রাসেল বয়াতীর দাবি, তার স্ত্রী গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। প্রায় এক বছর আগে তাদের বিয়ে হয়, যা উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। শীলার আগের সংসারের দুই সন্তানের মধ্যে ছেলে রাফিন (১৭) পটুয়াখালীতে পড়াশোনা করে এবং মেয়ে লাবিবা (১৩) মায়ের সঙ্গে থাকত।

নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল অভিযোগ করে বলেন, এটি আত্মহত্যা নয়, হত্যাকাণ্ড। ঘটনার আগের রাতেও পরিবারের সবার সঙ্গে হাসিখুশি ছিলেন শীলা। তিনি জানান, শীলার জমিজমা বিক্রি করে টাকা দাবি করতেন স্বামী রাসেল। তাদের ধারণা, গলাটিপে বা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ ওড়না দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। আত্মহত্যা করতে গেলে ফাঁসের যে ধরনের আলামত থাকার কথা, তা দেখতে না পেয়ে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

শীলার আরেক ভাই রাশেদুল ইসলাম সজল এবং চাচাতো ভাই জাহিদুল ইসলাম সাগর মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তারা জানান, পরিবারের সদস্য কিংবা আশপাশের কাউকে না জানিয়ে রাসেল একাই কেন তড়িঘড়ি করে মরদেহ নিচে নামালেন, তা অত্যন্ত সন্দেহজনক। স্বজনেরা ছোট মেয়ে লাবিবার বরাত দিয়ে জানান, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো এবং শীলাকে মারধর করে ঘরের বাইরে আটকে রাখা হতো। রাসেল বাইরে গেলে লাবিবা দরজা খুলে মাকে ঘরে তুলত।

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন যুবদল নেতা রাসেল বয়াতী। তিনি জানান, বুধবার রাতে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিয়ে তাদের সামান্য মনমালিন্য হলেও তারা একসঙ্গেই ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতেও খাবার খেয়ে রাত ১২টার পর তারা ঘুমিয়ে পড়েন। শুক্রবার ভোর পাঁচটার দিকে স্ত্রী নামাজ পড়তে উঠেছেন বলে তিনি টের পান। পরে সকাল পৌনে ৮টার দিকে ঘুম থেকে উঠে স্ত্রীকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অন্য কক্ষে ওড়না দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পাশের বাড়ির এক দম্পতি কাছে না আসায় চাচাতো ভাই সোহানকে ডেকে এনে নিজেই শীলাকে নামিয়ে বিছানায় শুইয়ে দেন। তবে তিনি আত্মহত্যার কারণ জানেন না বলে দাবি করেন।

রাঙ্গাবালী থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) ইলিয়াস হোসেন মুন্সি জানান, দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহের তথ্য পাওয়া গেছে এবং মৃত্যুর আগের দিনও তাদের কথা বলা বন্ধ ছিল বলে নিহতের মেয়ে জানিয়েছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় মরদেহ পায়নি। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটন ও সন্দেহ দূর করতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ভাই রাইসুল ইসলাম কমল বাদী হয়ে থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছেন। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর অস্বাভাবিক কিছু প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।