লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে দেড় কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট অচল

২০২২ সালে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল একটি অত্যাধুনিক অক্সিজেন প্ল্যান্ট। তিন বছর ধরে রোগীদের সেবা প্রদান করলেও বর্তমানে কারিগরি জনবল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে বিকল্প অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) চুক্তির আওতায় মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্স প্ল্যান্টটি স্থাপন করে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা এটি সচল রেখেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারিগরি কর্মীদের আসা বন্ধ হয়ে গেলে প্ল্যান্টটি অচল হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রকিবুল আলম চয়ন জানান, প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের দিকে এনএসআইয়ের বিশেষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো এবং এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে আসেনি। তিনি আরও বলেন, যন্ত্রটিতে বড় কোনো জটিল সমস্যা নেই, দক্ষ টেকনিক্যাল টিম ও অপারেটর দিলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি পুনরায় সচল করা সম্ভব। তবে হাসপাতালের নিজস্ব সামর্থ্যে একা এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জানান, বিদ্যুৎ-চালিত এই প্ল্যান্ট চালাতে তিন শিফটে অন্তত তিন থেকে চারজন দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন, যা হাসপাতালে নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও লগবই মেইনটেইন না করে মেশিনটি চালালে শর্টসার্কিট, আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং রিমাইন্ডারও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেন, সিএমএসডির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদের সব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা হয়েছে এবং হাসপাতালের কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। চুক্তি শেষ হওয়ায় এখন এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, জরুরি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনে ত্রুটি দেখা দিলে এই প্ল্যান্টটি বড় ভরসা হতে পারত। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, এটি রাষ্ট্রের সম্পদ। অহেতুক ফেলে না রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত প্রেষণে টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে প্ল্যান্টটি সচল করা, যাতে এলাকার মানুষ এর সুফল পান।

মেয়াদ শেষে সিএমএসডির ভেরিফিকেশন টিম সরেজমিন তদন্ত করে সব সন্তোষজনক পাওয়ায় আমাদের ১০% পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা ছাড় করে দেয়।

চুক্তি শেষ হওয়ায় এখন এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।’ হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্ল্যান্টটি প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল ইসলাম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র পাঠান।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউজিসির সিদ্ধান্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬৮ কর্মচারীকে ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত

ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে দেড় কোটি টাকার অক্সিজেন প্ল্যান্ট অচল

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

২০২২ সালে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে স্থাপন করা হয়েছিল একটি অত্যাধুনিক অক্সিজেন প্ল্যান্ট। তিন বছর ধরে রোগীদের সেবা প্রদান করলেও বর্তমানে কারিগরি জনবল ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই সেবা ব্যবস্থাটি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এর ফলে মূল্যবান যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জরুরি মুহূর্তে বিকল্প অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা গেছে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেন্ট্রাল মেডিকেল স্টোরস ডিপোর (সিএমএসডি) চুক্তির আওতায় মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্স প্ল্যান্টটি স্থাপন করে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রকৌশলী ও টেকনিশিয়ানরা এটি সচল রেখেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর কারিগরি কর্মীদের আসা বন্ধ হয়ে গেলে প্ল্যান্টটি অচল হয়ে পড়ে।

হাসপাতালের তৎকালীন আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রকিবুল আলম চয়ন জানান, প্ল্যান্টটি ২০২২ সালের দিকে এনএসআইয়ের বিশেষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো এবং এটি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত চাহিদাপত্রের ভিত্তিতে আসেনি। তিনি আরও বলেন, যন্ত্রটিতে বড় কোনো জটিল সমস্যা নেই, দক্ষ টেকনিক্যাল টিম ও অপারেটর দিলে মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই এটি পুনরায় সচল করা সম্ভব। তবে হাসপাতালের নিজস্ব সামর্থ্যে একা এটি পরিচালনা করা সম্ভব নয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জানান, বিদ্যুৎ-চালিত এই প্ল্যান্ট চালাতে তিন শিফটে অন্তত তিন থেকে চারজন দক্ষ অপারেটর প্রয়োজন, যা হাসপাতালে নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়মিত তদারকি ও লগবই মেইনটেইন না করে মেশিনটি চালালে শর্টসার্কিট, আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের ঝুঁকি থাকে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে এবং রিমাইন্ডারও দেওয়া হয়েছে, কিন্তু এখনো কোনো সমাধান পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আল-মদিনা ট্রেডার্সের প্রতিনিধি ওমর ফারুক বলেন, সিএমএসডির সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী তিন বছরের ওয়ারেন্টি মেয়াদের সব দায়িত্ব সফলভাবে পালন করা হয়েছে এবং হাসপাতালের কর্মীদের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে। চুক্তি শেষ হওয়ায় এখন এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, জরুরি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় অক্সিজেনে ত্রুটি দেখা দিলে এই প্ল্যান্টটি বড় ভরসা হতে পারত। সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) ঠাকুরগাঁও জেলা সভাপতি আব্দুল লতিফ বলেন, এটি রাষ্ট্রের সম্পদ। অহেতুক ফেলে না রেখে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উচিত দ্রুত প্রেষণে টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিয়ে প্ল্যান্টটি সচল করা, যাতে এলাকার মানুষ এর সুফল পান।

মেয়াদ শেষে সিএমএসডির ভেরিফিকেশন টিম সরেজমিন তদন্ত করে সব সন্তোষজনক পাওয়ায় আমাদের ১০% পারফরম্যান্স গ্যারান্টির টাকা ছাড় করে দেয়।

চুক্তি শেষ হওয়ায় এখন এটি পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের সম্পূর্ণ দায়িত্ব সরকারি দপ্তর ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।’ হাসপাতাল সূত্র জানায়, প্ল্যান্টটি প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট হাসপাতালের তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সিরাজুল ইসলাম ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদপত্র পাঠান।