লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে ডলারের পতন, চাঙ্গা বিশ্ব মুদ্রা বাজার

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাবে মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা কমেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এ স্পষ্ট ফলাফল বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার বড় একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সহায়তা করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক 'ডলার সূচক' ০ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১২৪১ ডলারে। এছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০১ ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের ডলারের দাম ০ দশমিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ০ দশমিক ৫৬২৭ ডলারে পৌঁছায়।

ন্যাশনল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিল এক পডকাস্টে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে সেখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এতে ইরানে আবার সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ কমে আসতে পারে। অ্যাট্রিল আরও জানান, বাজারে সম্প্রতি যে পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যা ডলারের দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের অবমূল্যায়নের বিপরীতে অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলো শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে পাউন্ডের দর বেড়ে ১ দশমিক ৩৫০৩ ডলারে পৌঁছেছিল, যা সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি পাউন্ডের জন্য টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দর বৃদ্ধির ঘটনা, যা গত ৬ জুলাই শেষ হওয়া আট দিনের উত্থানের পর দীর্ঘতম ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি। যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধরা হচ্ছে, তবে আগামী বছর অতিরিক্ত সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে তারা সতর্ক থাকতে পারে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিওজে) সেপ্টেম্বরের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর জাপানি ইয়েনের দাম ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৮ দশমিক ২৫ ইয়েনে পৌঁছায়। ওই বৈঠকে সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং নীতিনির্ধারকদের একজন দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় দেশটিতে আবারও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্যমতে, ডিসেম্বরের ফেড বৈঠকে সুদের হার অন্তত ০ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে ৮১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের দিন ছিল ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের অংশ হিসেবে শুক্রবারের সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সপ্তাহের উপাত্ত প্রকাশ শেষ হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ইরানের প্রভাব

মার্কিন নির্বাচনের ফলাফলে ডলারের পতন, চাঙ্গা বিশ্ব মুদ্রা বাজার

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪২:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—উভয় কক্ষেই বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে স্বস্তি ফিরে এসেছে। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাবে মার্কিন ডলারের দাম কিছুটা কমেছে এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা দেখা গেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের এ স্পষ্ট ফলাফল বিনিয়োগকারীদের মধ্যকার বড় একটি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা দূর করতে সহায়তা করেছে।

নির্বাচনী ফলাফলের প্রভাবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা বাজারে ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে। বিশ্বের প্রধান ছয়টি মুদ্রার বিপরীতে ডলারের অবস্থান নির্দেশক 'ডলার সূচক' ০ দশমিক ০৬ শতাংশ কমে ১০১ দশমিক ৪১ পয়েন্টে অবস্থান করছে। এর আগের কার্যদিবসেও সূচকটি ০ দশমিক ৩৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছিল। ডলারের বিপরীতে ইউরোর দাম ০ দশমিক ১২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ১২৪১ ডলারে। এছাড়া অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম ০ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ০ দশমিক ৭০১ ডলার এবং নিউজিল্যান্ডের ডলারের দাম ০ দশমিক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ০ দশমিক ৫৬২৭ ডলারে পৌঁছায়।

ন্যাশনল অস্ট্রেলিয়া ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা কৌশল বিভাগের প্রধান রে অ্যাট্রিল এক পডকাস্টে মন্তব্য করেন, ওয়াশিংটনে ডেমোক্র্যাটদের জয়ের ফলে সেখানে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এতে ইরানে আবার সামরিক হামলা চালানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রহ কমে আসতে পারে। অ্যাট্রিল আরও জানান, বাজারে সম্প্রতি যে পরিবর্তনগুলো দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের মুনাফা কমে যাওয়ার সঙ্গে নির্বাচনের ফলাফলের সরাসরি যোগাযোগ রয়েছে, যা ডলারের দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ডলারের অবমূল্যায়নের বিপরীতে অন্যান্য প্রধান মুদ্রাগুলো শক্ত অবস্থানে উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের নীতিগত সিদ্ধান্তের আগে ব্রিটিশ পাউন্ডের দাম ০ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেড়ে ১ দশমিক ৩৪৬২ ডলারে দাঁড়িয়েছে। লেনদেনের একপর্যায়ে পাউন্ডের দর বেড়ে ১ দশমিক ৩৫০৩ ডলারে পৌঁছেছিল, যা সাত সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি পাউন্ডের জন্য টানা ষষ্ঠ দিনের মতো দর বৃদ্ধির ঘটনা, যা গত ৬ জুলাই শেষ হওয়া আট দিনের উত্থানের পর দীর্ঘতম ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি। যুক্তরাজ্যে জ্বালানির দাম বৃদ্ধিজনিত মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড সুদের হার বাড়াতে পারে বলে ধরা হচ্ছে, তবে আগামী বছর অতিরিক্ত সুদের হার বাড়ানোর বিষয়ে তারা সতর্ক থাকতে পারে।

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (বিওজে) সেপ্টেম্বরের কার্যবিবরণী প্রকাশের পর জাপানি ইয়েনের দাম ডলারের বিপরীতে ০ দশমিক ০৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি ডলারে ১৫৮ দশমিক ২৫ ইয়েনে পৌঁছায়। ওই বৈঠকে সুদের হার বাড়িয়ে ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ১ দশমিক ২৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছিল এবং নীতিনির্ধারকদের একজন দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় দেশটিতে আবারও সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশা জোরালো হয়েছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক দৃশ্যপটে পরিবর্তন আসলেও কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের মুদ্রানীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকেরা। সিএমই ফেডওয়াচের তথ্যমতে, ডিসেম্বরের ফেড বৈঠকে সুদের হার অন্তত ০ দশমিক ২৫ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়ানোর সম্ভাবনা বেড়ে ৮১ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা আগের দিন ছিল ৭৭ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজার নিয়ে প্রকাশিত তথ্যের অংশ হিসেবে শুক্রবারের সরকারি কর্মসংস্থান প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে সপ্তাহের উপাত্ত প্রকাশ শেষ হবে।