লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ইরানের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয়জয়কার ট্রাম্প যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে গত এক দশকে ট্রাম্প শাস্তিযোগ্য অনেক নীতিগত অপকর্ম করেছেন। গত ২০ বছরে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের শাসনামলে ডেমোক্র্যাটদের এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ঘটনা বিরল। ভোটারদের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র ক্ষোভ মূলত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই তৈরি হয়েছে, যা জরিপগুলোতেও স্পষ্ট ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তা নীতিগত বিষয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতি বেশি দায়বদ্ধ।

ইরানের সামরিক কৌশল এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলেছে, তার আঁচ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেগেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেয়নি। অভ্যন্তরীণ সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে যুদ্ধ খাতে অর্থ ব্যয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অবহেলার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আসলে যুদ্ধের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের জন্য বিধ্বংসী হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ক্ষমতাচর্চার লাগাম টেনে ধরবে। এর ফলে মন্ত্রীদের কাজের তদন্ত, বিচারক নিয়োগে বাধা এবং অস্ত্র বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। বিশেষ করে মিশিগানে আবদুল আল-সাইদের মতো প্রগতিশীল প্রার্থীর বিজয় ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ইসরায়েল নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনীতিবিদদের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।

নির্বাচনের এই ফল বিশ্ব রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম, তবুও মার্কিন নির্বাচনের এই ফলাফল ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নতুন করে সাহস জোগাবে। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।

জনপ্রিয় সংবাদ

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ইরানের প্রভাব

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের পরাজয় ও ইরানের প্রভাব

প্রকাশিত হয়েছে: ০৬:০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী সাম্প্রতিক মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয়জয়কার ট্রাম্প যুগের অবসানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৬ সাল থেকে গত এক দশকে ট্রাম্প শাস্তিযোগ্য অনেক নীতিগত অপকর্ম করেছেন। গত ২০ বছরে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের শাসনামলে ডেমোক্র্যাটদের এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের ঘটনা বিরল। ভোটারদের মধ্যে বিদ্যমান তীব্র ক্ষোভ মূলত অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণেই তৈরি হয়েছে, যা জরিপগুলোতেও স্পষ্ট ছিল। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভোটাররা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে রায় দিয়েছেন, তা নীতিগত বিষয়ের চেয়ে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতি বেশি দায়বদ্ধ।

ইরানের সামরিক কৌশল এবং হরমুজ প্রণালি কেন্দ্রিক উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে প্রভাব ফেলেছে, তার আঁচ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেগেছে। সাধারণ মানুষ মনে করছেন, ট্রাম্পের সিদ্ধান্তগুলো তাঁদের অর্থনৈতিক অবস্থাকে বিবেচনায় নেয়নি। অভ্যন্তরীণ সামাজিক খাতের বরাদ্দ কমিয়ে যুদ্ধ খাতে অর্থ ব্যয় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এক ধরনের অবহেলার জন্ম দিয়েছে। ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ আসলে যুদ্ধের বিরুদ্ধেই রায় দিয়েছে।

এই নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের জন্য বিধ্বংসী হিসেবে দেখা দিয়েছে। সিনেট ও হাউস অব রিপ্রেজেনটেটিভে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের ক্ষমতাচর্চার লাগাম টেনে ধরবে। এর ফলে মন্ত্রীদের কাজের তদন্ত, বিচারক নিয়োগে বাধা এবং অস্ত্র বিক্রির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। বিশেষ করে মিশিগানে আবদুল আল-সাইদের মতো প্রগতিশীল প্রার্থীর বিজয় ডেমোক্র্যাটদের অভ্যন্তরে ক্ষমতার ভারসাম্যে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যা ইসরায়েল নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া রাজনীতিবিদদের উত্থানকে ত্বরান্বিত করেছে।

নির্বাচনের এই ফল বিশ্ব রাজনীতিতে, বিশেষ করে ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও ট্রাম্পের নীতি পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম, তবুও মার্কিন নির্বাচনের এই ফলাফল ইউরোপের ডানপন্থী রাজনীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনরত বিভিন্ন গোষ্ঠীকে নতুন করে সাহস জোগাবে। কানসাসে ১৯৩২ সালের পর প্রথম ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হওয়া ট্রাম্পের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা।