লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবই বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: তারেক রহমান

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচার কায়েমের অপচেষ্টা এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। দেশপ্রেমিক জনতার এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেদিন ষড়যন্ত্রকারীদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল এবং জাতীয় ইতিহাসে বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত হয়েছিল।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান একটি প্রবাদবাক্য উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সবসময় ইতিহাসচর্চায় বুঁদ হয়ে থাকা যেমন সঠিক নয়, তেমনি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তৈরিতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াটাও এক ধরনের ঐতিহাসিক ভুল।

বাণীতে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালে পরাজিত সেই অপশক্তি পরবর্তীতে দীর্ঘ চক্রান্তের পথ ধরে ‘মহাজোট’ নামে একত্রিত হয়ে আবারও দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে সেনাহত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে টানা দেড় দশকের বেশি সময় ফ্যাসিবাদী শাসন চালানো হয়। তবে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল সেই অর্জন ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ১৯৭৫ সালের মতোই ২০২৪ সালেও সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে নেমেছিল। ফলে ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং দেশকে পরনির্ভরশীল করতে না পারে, সেটাই এবারের ৭ই নভেম্বরের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সবগুলোর মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। সেটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ৭ই নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক এই দিনে স্লোগান তোলেন—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ৭ই নভেম্বরের এই বৈপ্লবিক চেতনা আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

কক্সবাজারে ১৩ হাজার ৮০৪ পিস ইয়াবাসহ সিএনজি চালক আটক

৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবই বাংলাদেশের পথ নির্ধারণ করেছিল: তারেক রহমান

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০৬:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

১৯৭৫ সালের ঐতিহাসিক ৭ই নভেম্বরের সিপাহি-জনতার বিপ্লবই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথ নির্ধারণ করে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ঐতিহাসিক জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এই মন্তব্য করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করার চক্রান্ত, জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে একদলীয় স্বৈরাচার কায়েমের অপচেষ্টা এবং দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর গৌরব ভূলুণ্ঠিত করার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে ৭ই নভেম্বর সিপাহি-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়িয়েছিল। দেশপ্রেমিক জনতার এই ঐতিহাসিক বিপ্লবের মাধ্যমে সেদিন ষড়যন্ত্রকারীদের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল এবং জাতীয় ইতিহাসে বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত হয়েছিল।

ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে সরকারপ্রধান একটি প্রবাদবাক্য উল্লেখ করে বলেন, ‘অতীত নিয়ে সবসময় পড়ে থাকলে এক চোখ অন্ধ, অতীতকে ভুলে গেলে দু’চোখই অন্ধ’। তাই সবসময় ইতিহাসচর্চায় বুঁদ হয়ে থাকা যেমন সঠিক নয়, তেমনি ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনা তৈরিতে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেওয়াটাও এক ধরনের ঐতিহাসিক ভুল।

বাণীতে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ১৯৭৫ সালে পরাজিত সেই অপশক্তি পরবর্তীতে দীর্ঘ চক্রান্তের পথ ধরে ‘মহাজোট’ নামে একত্রিত হয়ে আবারও দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। বিডিআর পিলখানায় পরিকল্পিতভাবে সেনাহত্যাযজ্ঞ চালিয়ে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা হয়েছিল এবং জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে দেশে টানা দেড় দশকের বেশি সময় ফ্যাসিবাদী শাসন চালানো হয়। তবে হাজারো শহিদের আত্মত্যাগ ও বীর ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবশেষে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে।

তিনি ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনের তুলনা করে বলেন, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল সেই অর্জন ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। ১৯৭৫ সালের মতোই ২০২৪ সালেও সর্বস্তরের মানুষ স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় রাজপথে নেমেছিল। ফলে ভবিষ্যতে যাতে কেউ আর জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে এবং দেশকে পরনির্ভরশীল করতে না পারে, সেটাই এবারের ৭ই নভেম্বরের মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।

তিনি আরও স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ই নভেম্বরের বিপ্লব, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন কিংবা ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান—সবগুলোর মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটাই। সেটি হলো স্বাধীন বাংলাদেশে জনগণের গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও নিরাপদ কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা। এ লক্ষ্যে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় ৭ই নভেম্বরের চেতনা ধারণ করে জাতীয় ঐক্য সমুন্নত রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বিরোধী যেকোনো ষড়যন্ত্র নস্যাতে দেশপ্রেমিক গণতন্ত্রকামী জনগণকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঐতিহাসিক এই দিনে স্লোগান তোলেন—‘দিল্লি নয়, পিণ্ডি নয়, নয় অন্য কোনো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, ৭ই নভেম্বরের এই বৈপ্লবিক চেতনা আগামী দিনে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গঠনে প্রেরণা ও পাথেয় হয়ে থাকবে।