লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:১৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাজারে কৃত্রিম সংকট ও পণ্য সিন্ডিকেটে কঠোর নিষেধ করেছে ইসলাম

বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিতে নাকাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কম মূল্যে পণ্য কিনতে তারা সরকারি টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ধরনের সংকট সৃষ্টির পেছনে গুদামজাতকরণ বা কৃত্রিম মজুদদারির অশুভ চক্রান্ত ভূমিকা রাখছে। যেখানে সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে কিছু কুচক্রী ব্যবসায়ী সরবরাহ বা রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে পণ্য লুকিয়ে ফেলে এবং পরে বাজারে সংকট দেখা দিলে চড়া দামে তা বিক্রি করে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্তকারী এই অনৈতিক ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও মজুদদারিকে ইসলাম সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ ঘোষণা করেছে।

অভিধান অনুযায়ী সিন্ডিকেট শব্দের অর্থ গুদামজাত করা বা মজুদ রাখা, যার আরবি প্রতিশব্দ ‘আল-ইহতিকার’। প্রথম আরবি অভিধান রচয়িতা খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদি (রহ.) ‘আল-আইন’ গ্রন্থে (৩/৬২) উল্লেখ করেছেন, মূল্যবৃদ্ধির আশায় খাদ্যদ্রব্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস জমা করে রাখাই হলো ইহতিকার এবং যে ব্যক্তি এই কাজ করে সে-ই মজুদদার। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ‘ফাতহুল বারি ফি শরহিল বুখারি’ গ্রন্থে (৪/৪৪০) পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলেন, নিজের প্রয়োজন না থাকা এবং জনগণের তীব্র চাহিদা সত্ত্বেও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পণ্য ধরে রাখাকেই সিন্ডিকেট বলে। অন্যদিকে ইমাম আওজায়ি (রহ.) ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে (৩/৬০৫) উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে ঘুরে নিত্যপণ্য মজুদ করে বাজারজাতকরণের স্বাভাবিক পথে বাধা সৃষ্টি করে, সে-ই প্রকৃত মজুদদার।

ইসলামে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে নিত্যপণ্য বন্দি রেখে ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোকে অমানবিক ও নৈতিকতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘আল-ফিকহুল মুয়াসসার’ গ্রন্থে (৬/৪৫) বলা হয়েছে, কম দামে খাদ্য কিনে চড়া দামে বেচার মানসে গুদামজাত করা এবং সাধারণ মানুষের সংকটের সময় উচ্চমূল্যে বিক্রি করা সব ইসলামি আইনজ্ঞের মতে হারাম। সহিহ মুসলিমের ১৬০৫ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র পাপী ব্যক্তিই এ ধরনের মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকে। ইসলাম সমাজের ধনী, দরিদ্র ও অসহায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য খাদ্যের অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের চক্রান্ত নিষিদ্ধ করেছে। ‘আল-জামে লি উলুমি ইমাম আহমদ’ গ্রন্থে (৯/১৫৯) উল্লেখ আছে, খাদ্য ও মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় উপকরণ চড়াদামে বিক্রির নিয়তে আটকে রাখা হারাম। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) যখন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে নিষিদ্ধ গুদামজাতকরণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি জানান, মানুষের জীবন ও জীবিকা সংশ্লিষ্ট যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ হারাম।

ইসলামি শরিয়ত মতে, সমাজে প্রচলিত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট উপায়ে মজুদদারি করা নিষিদ্ধ ও মারাত্মক গুনাহের কাজ। প্রথমত, কম দামে কেনা পণ্য বাজারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা। দ্বিতীয়ত, এমন পরিমাণে পণ্য মজুদ করা যাতে ক্রেতারা চরম সংকটে পড়েন। তৃতীয়ত, খাদ্য সংকটের সময় যেকোনো পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য আটকে রাখা। চতুর্থত, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুদামজাত করা। উল্লেখ্য, এই সিন্ডিকেট কেবল খাদ্য বা পণ্যের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবহন খাতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিটের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। টিকিট থাকা সত্ত্বেও ‘টিকিট নেই’ অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের যে সিন্ডিকেট করা হয়, তা-ও সমান অনৈতিক। এ জাতীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাইকারি, মধ্যস্থতাকারী, খুচরা ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ লাভবান হলেও সাধারণ জনগণ চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

অন্যায়ভাবে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে সুরা আহজাবের ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা দোষে মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা এক মহা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে অসৎ মজুদদাররা সরাসরি আল্লাহর অভিশাপের শিকার হন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে (মুসনাদে দারেমি: ২৫৮৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর মজুদদাররা লানতপ্রাপ্ত বা অভিশাপ্ত। এছাড়া ‘আল-মুন্তাখাবুল আদাবি’ গ্রন্থের ১৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যসামগ্রী মজুদ করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করবেন অথবা দেউলিয়া বানিয়ে দেবেন। সহিহ মুসলিমের ১২২৮ নম্বর হাদিসেও রাসুল (সা.) পুনরুল্লেখ করেছেন যে, পাপিষ্ঠ ছাড়া অন্য কেউ এমন জঘন্য মজুদদারিতে লিপ্ত হতে পারে না।

সকল মজুদদারি হারাম নয়। এজন্য জানতে হবে, সমাজে প্রচলিত কোন ধরনের মজুদদারি হারাম। কিছু হারাম মজুদদারির ধরন তুলে ধরা হলো— ১. স্বল্পমূল্য চলাকালে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার ফলে বাজারে তার প্রতিক্রিয়া পড়ে। ২. কোনো দ্রব্য এমন পরিমাণে গুদামজাত করা, যে কারণে ক্রেতা সাধারণত সে পণ্যের চরম সঙ্ক

জনপ্রিয় সংবাদ

অসুস্থ অমিতাভ বচ্চন, বন্ধ হলো ‘কেবিসি ১৮’-এর শুটিং

বাজারে কৃত্রিম সংকট ও পণ্য সিন্ডিকেটে কঠোর নিষেধ করেছে ইসলাম

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩২:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬

বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে নিত্যপণ্যের অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধিতে নাকাল নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। কম মূল্যে পণ্য কিনতে তারা সরকারি টিসিবির লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছেন। এ ধরনের সংকট সৃষ্টির পেছনে গুদামজাতকরণ বা কৃত্রিম মজুদদারির অশুভ চক্রান্ত ভূমিকা রাখছে। যেখানে সরকার নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির বাধ্যবাধকতা এড়িয়ে কিছু কুচক্রী ব্যবসায়ী সরবরাহ বা রপ্তানি বন্ধের অজুহাতে পণ্য লুকিয়ে ফেলে এবং পরে বাজারে সংকট দেখা দিলে চড়া দামে তা বিক্রি করে। সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা বিপর্যস্তকারী এই অনৈতিক ব্যবসায়িক সিন্ডিকেট ও মজুদদারিকে ইসলাম সম্পূর্ণ হারাম ও অবৈধ ঘোষণা করেছে।

অভিধান অনুযায়ী সিন্ডিকেট শব্দের অর্থ গুদামজাত করা বা মজুদ রাখা, যার আরবি প্রতিশব্দ ‘আল-ইহতিকার’। প্রথম আরবি অভিধান রচয়িতা খলিল ইবনে আহমদ আল-ফারাহিদি (রহ.) ‘আল-আইন’ গ্রন্থে (৩/৬২) উল্লেখ করেছেন, মূল্যবৃদ্ধির আশায় খাদ্যদ্রব্য বা নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস জমা করে রাখাই হলো ইহতিকার এবং যে ব্যক্তি এই কাজ করে সে-ই মজুদদার। হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ‘ফাতহুল বারি ফি শরহিল বুখারি’ গ্রন্থে (৪/৪৪০) পারিভাষিক সংজ্ঞায় বলেন, নিজের প্রয়োজন না থাকা এবং জনগণের তীব্র চাহিদা সত্ত্বেও বেশি দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে পণ্য ধরে রাখাকেই সিন্ডিকেট বলে। অন্যদিকে ইমাম আওজায়ি (রহ.) ‘নাইলুল আওতার’ গ্রন্থে (৩/৬০৫) উল্লেখ করেছেন, যে ব্যক্তি বাজারে ঘুরে নিত্যপণ্য মজুদ করে বাজারজাতকরণের স্বাভাবিক পথে বাধা সৃষ্টি করে, সে-ই প্রকৃত মজুদদার।

ইসলামে গুটিকয়েক ব্যবসায়ীর হাতে নিত্যপণ্য বন্দি রেখে ইচ্ছামতো দাম বাড়ানোকে অমানবিক ও নৈতিকতাবিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ‘আল-ফিকহুল মুয়াসসার’ গ্রন্থে (৬/৪৫) বলা হয়েছে, কম দামে খাদ্য কিনে চড়া দামে বেচার মানসে গুদামজাত করা এবং সাধারণ মানুষের সংকটের সময় উচ্চমূল্যে বিক্রি করা সব ইসলামি আইনজ্ঞের মতে হারাম। সহিহ মুসলিমের ১৬০৫ নম্বর হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুধুমাত্র পাপী ব্যক্তিই এ ধরনের মজুদদারি বা সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত থাকে। ইসলাম সমাজের ধনী, দরিদ্র ও অসহায় সব শ্রেণির মানুষের জন্য খাদ্যের অবাধ প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের চক্রান্ত নিষিদ্ধ করেছে। ‘আল-জামে লি উলুমি ইমাম আহমদ’ গ্রন্থে (৯/১৫৯) উল্লেখ আছে, খাদ্য ও মানুষের দৈনিক প্রয়োজনীয় উপকরণ চড়াদামে বিক্রির নিয়তে আটকে রাখা হারাম। ইমাম আবু দাউদ (রহ.) যখন ইমাম আহমদ বিন হাম্বল (রহ.)-কে নিষিদ্ধ গুদামজাতকরণের বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, তখন তিনি জানান, মানুষের জীবন ও জীবিকা সংশ্লিষ্ট যেকোনো নিত্যপ্রয়োজনীয় বিষয়ে বাধা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ হারাম।

ইসলামি শরিয়ত মতে, সমাজে প্রচলিত বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট উপায়ে মজুদদারি করা নিষিদ্ধ ও মারাত্মক গুনাহের কাজ। প্রথমত, কম দামে কেনা পণ্য বাজারে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যে গুদামজাত করা। দ্বিতীয়ত, এমন পরিমাণে পণ্য মজুদ করা যাতে ক্রেতারা চরম সংকটে পড়েন। তৃতীয়ত, খাদ্য সংকটের সময় যেকোনো পরিমাণ খাদ্যদ্রব্য আটকে রাখা। চতুর্থত, বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুদামজাত করা। উল্লেখ্য, এই সিন্ডিকেট কেবল খাদ্য বা পণ্যের বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়; পরিবহন খাতে বাস, ট্রেন বা লঞ্চের টিকিটের ক্ষেত্রেও তা দেখা যায়। টিকিট থাকা সত্ত্বেও ‘টিকিট নেই’ অজুহাত দেখিয়ে যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের যে সিন্ডিকেট করা হয়, তা-ও সমান অনৈতিক। এ জাতীয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাইকারি, মধ্যস্থতাকারী, খুচরা ব্যবসায়ী ও মালিকপক্ষ লাভবান হলেও সাধারণ জনগণ চরম আর্থিক ও মানসিক ক্ষতির সম্মুখীন হন।

অন্যায়ভাবে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করে সুরা আহজাবের ৫৮ নম্বর আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা বিনা দোষে মুমিন পুরুষ ও নারীদের কষ্ট দেয়, তারা এক মহা মিথ্যা অপবাদ ও সুস্পষ্ট গুনাহের বোঝা নিজেদের মাথায় তুলে নেয়। শরিয়তের দৃষ্টিতে অসৎ মজুদদাররা সরাসরি আল্লাহর অভিশাপের শিকার হন। আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে (মুসনাদে দারেমি: ২৫৮৬) রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, আমদানিকারক রিজিকপ্রাপ্ত হয়, আর মজুদদাররা লানতপ্রাপ্ত বা অভিশাপ্ত। এছাড়া ‘আল-মুন্তাখাবুল আদাবি’ গ্রন্থের ১৭ নম্বর হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি মুসলমানদের খাদ্যসামগ্রী মজুদ করে, আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগে আক্রান্ত করবেন অথবা দেউলিয়া বানিয়ে দেবেন। সহিহ মুসলিমের ১২২৮ নম্বর হাদিসেও রাসুল (সা.) পুনরুল্লেখ করেছেন যে, পাপিষ্ঠ ছাড়া অন্য কেউ এমন জঘন্য মজুদদারিতে লিপ্ত হতে পারে না।

সকল মজুদদারি হারাম নয়। এজন্য জানতে হবে, সমাজে প্রচলিত কোন ধরনের মজুদদারি হারাম। কিছু হারাম মজুদদারির ধরন তুলে ধরা হলো— ১. স্বল্পমূল্য চলাকালে খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করে বেশি লাভের আশায় এমনভাবে গুদামজাত করা, যার ফলে বাজারে তার প্রতিক্রিয়া পড়ে। ২. কোনো দ্রব্য এমন পরিমাণে গুদামজাত করা, যে কারণে ক্রেতা সাধারণত সে পণ্যের চরম সঙ্ক