লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:৫৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ২২ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি ৩ লাখ

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঘটনায় গত চার দিনে জেলায় অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিয়াগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে রুমি আক্তার (১৫) ও মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) নামে দুই চাচাতো-জেঠাতো ভাইবোন মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন চিকিৎসাধীন আছেন।

বন্যার কারণে হাজারো বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাতামুহুরী ও পেকুয়ার কয়েকটি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। রামুর ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পরিস্থিতিও ভয়াবহ।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ওপরে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে জেলায় ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলায় ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এছাড়া উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে টানা সাত দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ইউএনও শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

কক্সবাজারে বন্যা ও পাহাড়ধসে ২২ জনের মৃত্যু, পানিবন্দি ৩ লাখ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৮:১৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

টানা পাঁচ দিনের ভারী বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কক্সবাজারের চকরিয়া, মাতামুহুরী, পেকুয়া ও রামু উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা ভয়াবহ বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় অন্তত তিন লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঘটনায় গত চার দিনে জেলায় অন্তত ২২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

নিহতদের মধ্যে উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে ১৫ জন, কক্সবাজার শহরে দুইজন, চকরিয়ায় দুইজন এবং পেকুয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় একজন করে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার দিয়াগত রাত দেড়টার দিকে চকরিয়ার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়াকাটা এলাকায় পাহাড়ধসে রুমি আক্তার (১৫) ও মোহাম্মদ তৌসিফ (১০) নামে দুই চাচাতো-জেঠাতো ভাইবোন মারা গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন চিকিৎসাধীন আছেন।

বন্যার কারণে হাজারো বসতবাড়ি, কৃষিজমি, সবজিক্ষেত ও চিংড়ির ঘের তলিয়ে গেছে। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় অনেক এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। মাতামুহুরী ও পেকুয়ার কয়েকটি বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুত্যাখালী ও মরণঘোনা এলাকায় বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। রামুর ঈদগড়, গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া, কাউয়ারখোপ, ফতেখাঁরকুল, রাজারকুল ও জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের পরিস্থিতিও ভয়াবহ।

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত বাঁকখালী নদীর পানি ৫ দশমিক ৮৮ মিটার এবং মাতামুহুরী নদীর পানি ৬ দশমিক ৫৪ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল, যা বিপৎসীমার ওপরে। কক্সবাজার আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত পাঁচ দিনে জেলায় ৫৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে এবং আগামী ১১ জুলাই পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।

দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানিয়েছেন, জেলায় ৬৪৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম চালু করা হয়েছে। এছাড়া উত্তাল সাগরের কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার-মহেশখালী এবং পেকুয়া-কুতুবদিয়া নৌপথে টানা সাত দিন ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। উখিয়ার রোহিঙ্গা শিবিরে দুই শতাধিক পাহাড়ধসের ঘটনা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। বন বিভাগের পক্ষ থেকে পাহাড়সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে মাইকিং করা হচ্ছে। চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার ইউএনও শাহীদ দেলোয়ার জানিয়েছেন, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য উপকূলীয় ইউনিয়নগুলোর স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়েছে।