লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সব সরকারি সুবিধা নিয়ে আসছে সর্বজনীন ইউনিভার্সাল কার্ড

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সকল কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

দেশের কৃষিখাতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সকল কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ পাচার হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ এবং ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সাথে সংলাপের মাধ্যমে যে ৩১ দফা রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, তা আজ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

জনপ্রিয় সংবাদ

দণ্ডিত ৭ আসামিকে দেশে এনে ফাঁসি কার্যকর করা হবে

সব সরকারি সুবিধা নিয়ে আসছে সর্বজনীন ইউনিভার্সাল কার্ড

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

দেশের সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ, প্রান্তিক কৃষক এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর সামাজিক ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন এবং প্রথম বাজেট সমাপনী বক্তব্যে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের পর্যায়ক্রমিক সকল কল্যাণমুখী নাগরিক সুবিধা একটি একক কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’।

বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র যদি তার নাগরিকদের দায় মেটাতে ব্যর্থ হয়, তবে জনগণ এবং রাষ্ট্র উভয়ই দুর্বল হয়ে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্পোর্টস কার্ড, প্রবাসী কার্ড কিংবা ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের জন্য দেওয়া বিশেষ কার্ডের মতো সুযোগ-সুবিধাগুলো জনগণের প্রতি রাষ্ট্রের কোনো করুণা নয়, বরং এটি রাষ্ট্রের পরম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই ভবিষ্যতে আলাদা আলাদা সকল কার্ডের সমন্বয়ে এই সর্বজনীন কার্ড চালু করা হবে, যার মাধ্যমে নাগরিকরা একক পরিচয় ও কার্ডে সমস্ত সরকারি সুযোগ-সুবিধা লাভ করবেন। ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

দেশের কৃষিখাতের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশের অধিকাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নির্বাচনের আগে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, সরকার গঠন করলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বকেয়া থাকা সকল কৃষকের কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে। সরকার গঠনের পর প্রথম ক্যাবিনেট মিটিংয়েই এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। এর ফলে সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ১৩ লাখ প্রান্তিক কৃষকের ঋণ মওকুফ করা হয়েছে, যা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক সংস্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত স্বৈরাচারী আমলে প্রতি বছর গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের মতো অর্থ পাচার হয়েছে। এই কালো অধ্যায় থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার বদ্ধপরিকর। ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে সরকার। এর অংশ হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে ১০ লাখ এবং ব্লু ইকোনমি ও ইকোটুরিজম খাতে আরও ১০ লাখসহ বিভিন্ন উৎপাদনশীল খাতে ৯ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিবেশ রক্ষায় আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ বা সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মেগা প্রকল্পের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলা হবে, যার মাধ্যমে আড়াই লক্ষ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিন বছর আগে সাধারণ মানুষের সাথে সংলাপের মাধ্যমে যে ৩১ দফা রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল, তা আজ ১৮ কোটি মানুষের প্রাণের দাবিতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় স্বাক্ষরিত ‘জুলাই সনদ’-এর প্রতিটি দফা বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা এবং ১০ হাজার নতুন পুলিশ কনস্টেবল নিয়োগসহ প্রতিটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।