লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামে মহানবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

দরুদ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো কল্যাণ প্রার্থনা বা শুভকামনা। আরবিতে একে বলা হয় ‘সলাত’, যার মূল চারটি অর্থ রয়েছে—দরুদ বা শুভকামনা, তাসবিহ বা গুণকীর্তন, রহমত বা দয়া এবং ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা। ইসলামি পরিভাষায় সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করাই হলো দরুদ বা সালাত (স্যালুটেশনস অন আওয়ার ডিয়ার প্রফেট, খাজা মোহাম্মাদ জুবায়ের, খালিজ টাইমস, ০১ জুন ২০১৭)।

আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো; এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ মুমিন-মুসলমানের জন্য নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ, যা পালন করা ওয়াজিব এবং এতে রয়েছে অফুরান সওয়াব।

দিলের গভীর থেকে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করলে বান্দা একইসঙ্গে আল্লাহর খাস রহমত ও নবীজির (সা.) রুহানি নৈকট্য লাভ করে। দরুদ পাঠকারী আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের মাহবুব ও প্রিয় বান্দায় পরিণত হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দরুদ পাঠের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কৃপণ, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে কিন্তু সে আমার ওপর দরুদ পড়েনি।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৬)। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের বলে দেব না, সবচেয়ে কৃপণ কে? সকলে বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, তিনি বললেন, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না। সেই হলো সবচেয়ে বড় কৃপণ।’ (সহিহ আত-তারগিব: ১৬৮৪)।

দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। সাহাবি কাআব বিন উজরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহণের সময় তিনবার আমিন বলেছিলেন, যার একটি কারণ ছিল জিবরাইল (আ.)-এর বদদোয়া, যেখানে বলা হয়েছে—ওই ব্যক্তির কল্যাণ না হোক, যে পিতা-মাতার উভয়কে বা তাদের একজনকে বার্ধক্যে উপনীত পেল। কিন্তু তারা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের কারণ হলো না। আমি বললাম, ‘আসিন’!’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, বোখারি: ৬৪৪)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, মহান আল্লাহর এমন একদল ফেরেশতা রয়েছেন যারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ান এবং উম্মতের সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে দেন (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯১৪)। কবরের পাশে দরুদ পড়লে তিনি সরাসরি তা শোনেন, আর দূর থেকে পাঠানো সালামও তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া, যেকোনো ব্যক্তি যখন সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ রাসুলের (সা.) আত্মা ফিরিয়ে দেন, ফলে তিনি সেই সালামের জবাব দেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার কবরের পাশে আমার ওপর দরুদ পেশ করে, আমি তা শুনি। আর যে দূরে থেকে আমার ওপর দরুদ পড়ে, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৬০৫)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন। ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই।’ (আবু দাউদ : ২০৪১)।

জনপ্রিয় সংবাদ

তদবির করলেই সরকারি চাকরিজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, নথিতে থাকবে রেকর্ড

ইসলামে মহানবীর (সা.) ওপর দরুদ পাঠের গুরুত্ব ও তাৎপর্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০০:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

দরুদ একটি ফারসি শব্দ, যার অর্থ হলো কল্যাণ প্রার্থনা বা শুভকামনা। আরবিতে একে বলা হয় ‘সলাত’, যার মূল চারটি অর্থ রয়েছে—দরুদ বা শুভকামনা, তাসবিহ বা গুণকীর্তন, রহমত বা দয়া এবং ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা। ইসলামি পরিভাষায় সর্বশেষ নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রতি এবং তাঁর পরিবার-পরিজন ও সন্তান-সন্ততির জন্য আল্লাহর কাছে শান্তি ও রহমত বর্ষণের প্রার্থনা করাই হলো দরুদ বা সালাত (স্যালুটেশনস অন আওয়ার ডিয়ার প্রফেট, খাজা মোহাম্মাদ জুবায়ের, খালিজ টাইমস, ০১ জুন ২০১৭)।

আল্লাহতায়ালা স্বয়ং নবীজির প্রতি দরুদ পাঠ করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা আহজাবের ৫৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ এরশাদ করেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা নবীর প্রতি দরুদ পাঠ করেন। হে ঈমানদাররা, তোমরাও তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করো; এবং বেশি পরিমাণে সালাম পাঠ করো।’ মুমিন-মুসলমানের জন্য নবীজির ওপর দরুদ ও সালাম পাঠ করা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশ, যা পালন করা ওয়াজিব এবং এতে রয়েছে অফুরান সওয়াব।

দিলের গভীর থেকে অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করলে বান্দা একইসঙ্গে আল্লাহর খাস রহমত ও নবীজির (সা.) রুহানি নৈকট্য লাভ করে। দরুদ পাঠকারী আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের মাহবুব ও প্রিয় বান্দায় পরিণত হন। রাসুলুল্লাহ (সা.) দরুদ পাঠের গুরুত্ব বোঝাতে গিয়ে বলেছেন, ‘সেই ব্যক্তিই সবচেয়ে বড় কৃপণ, যার সামনে আমার নাম উচ্চারিত হয়েছে কিন্তু সে আমার ওপর দরুদ পড়েনি।’ (তিরমিজি: ৩৫৪৬)। আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি কি তোমাদের বলে দেব না, সবচেয়ে কৃপণ কে? সকলে বলল, অবশ্যই হে আল্লাহর রাসুল, তিনি বললেন, যার কাছে আমার নাম উল্লেখ করা হলো, অথচ সে আমার প্রতি দরুদ পাঠ করল না। সেই হলো সবচেয়ে বড় কৃপণ।’ (সহিহ আত-তারগিব: ১৬৮৪)।

দরুদ পাঠের বিশেষ ফজিলত ও গুরুত্ব সম্পর্কে বিভিন্ন হাদিসে নির্দেশনা রয়েছে। সাহাবি কাআব বিন উজরা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে রাসুল (সা.) মিম্বারে আরোহণের সময় তিনবার আমিন বলেছিলেন, যার একটি কারণ ছিল জিবরাইল (আ.)-এর বদদোয়া, যেখানে বলা হয়েছে—ওই ব্যক্তির কল্যাণ না হোক, যে পিতা-মাতার উভয়কে বা তাদের একজনকে বার্ধক্যে উপনীত পেল। কিন্তু তারা তার জন্য জান্নাতে প্রবেশের কারণ হলো না। আমি বললাম, ‘আসিন’!’ (আল-আদাবুল মুফরাদ, বোখারি: ৬৪৪)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) আরও বলেছেন, মহান আল্লাহর এমন একদল ফেরেশতা রয়েছেন যারা দুনিয়ায় ঘুরে বেড়ান এবং উম্মতের সালাম তাঁর কাছে পৌঁছে দেন (সহিহ ইবনে হিব্বান: ৯১৪)। কবরের পাশে দরুদ পড়লে তিনি সরাসরি তা শোনেন, আর দূর থেকে পাঠানো সালামও তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়। এছাড়া, যেকোনো ব্যক্তি যখন সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ রাসুলের (সা.) আত্মা ফিরিয়ে দেন, ফলে তিনি সেই সালামের জবাব দেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে আমার কবরের পাশে আমার ওপর দরুদ পেশ করে, আমি তা শুনি। আর যে দূরে থেকে আমার ওপর দরুদ পড়ে, তা আমার কাছে পৌঁছানো হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৬০৫)।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যেকোনো ব্যক্তি যখন আমার ওপর সালাম পেশ করে, তখন আল্লাহ আমার মধ্যে আমার আত্মা ফিরিয়ে দেন। ফলে আমি তার সালামের জবাব দিই।’ (আবু দাউদ : ২০৪১)।