লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অহংকার যেভাবে মানুষের পতন ও ধ্বংস ডেকে আনে

তাকওয়া হলো সব গুণের সমষ্টি এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তির একমাত্র উপায়। অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতাবশত নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, যা মূলত অন্তরের এক লুকানো অহংকার। যখন কেউ মনে করে সে অন্যদের চেয়ে বেশি যোগ্য, জ্ঞানী বা পবিত্র, তখন সে তুলনার ভ্রান্তিতে পড়ে আল্লাহর হিকমত ও ন্যায়ের ওপর গোপন আপত্তি তোলে। এই অহংকার শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানুষের দৃষ্টি, হাসি বা অবজ্ঞার ভঙ্গিমায় প্রকাশ পায়। এমনকি ধার্মিক, ধনী বা জ্ঞানী ব্যক্তিরাও যখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে অন্যকে হেয় করেন, তখন তারা ইবলিসের পথ অনুসরণ করেন।

আল্লাহতায়ালা মহাজ্ঞানী এবং তিনিই সৃষ্টির মর্যাদা নির্ধারণ করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, 'যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।' (সুরা মুলক : ১৪)। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং অন্যকে তুচ্ছ করার সিঁড়ি হিসেবে নিয়ামতকে ব্যবহার না করা। অহংকার যখন অন্তরে গেঁথে যায়, তখন তা পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, হিংসা-বিদ্বেষ বাড়িয়ে দেয় এবং উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যার অন্তরে সরিষার দানার সমান অহংকারও থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।' (মুসলিম : ১৬৮)।

ইসলাম আমাদের অহংকার থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেয় এবং বিনয়ের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। তিনি মিসরের আজিজের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বদলে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, 'আমাকে দেশের ধনভাণ্ডারের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন; আমি তো উত্তম রক্ষক, সুবিজ্ঞ।' (সুরা ইউসুফ : ৫৫)। তিনি নিজেকে অন্যের সাফল্যের মাপকাঠি না বানিয়ে বিশ্বস্ত সেবক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

আল্লাহতায়ালা অহংকারীদের পছন্দ করেন না, যেমনটি সুরা লুকমানে বলা হয়েছে, 'অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কর না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কর না।' (সুরা লুকমান : ১৮)। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এক স্তর বিনয়ী হবে, আল্লাহ তার মর্যাদা এক স্তর উঁচু করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরূদ্ধে এক স্তর অহংকার করবে, আল্লাহ তার মর্যাদা এক স্তর নিচু করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হীনতাগ্রস্তদের মধ্যে হীনতমে পরিণত করবেন।' (ইবনে মাজাহ : ৪১৭৬)। তাই অহংকার বর্জন করে বিনয়ী হওয়া এবং নিজেকে লোক দেখানো ইবাদত ও আত্মপ্রশংসা থেকে পবিত্র রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার সামরিক সহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন

অহংকার যেভাবে মানুষের পতন ও ধ্বংস ডেকে আনে

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৩০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তাকওয়া হলো সব গুণের সমষ্টি এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তির একমাত্র উপায়। অনেক সময় মানুষ অজ্ঞতাবশত নিজেকে অন্যের চেয়ে শ্রেষ্ঠ মনে করে, যা মূলত অন্তরের এক লুকানো অহংকার। যখন কেউ মনে করে সে অন্যদের চেয়ে বেশি যোগ্য, জ্ঞানী বা পবিত্র, তখন সে তুলনার ভ্রান্তিতে পড়ে আল্লাহর হিকমত ও ন্যায়ের ওপর গোপন আপত্তি তোলে। এই অহংকার শুধু মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তা মানুষের দৃষ্টি, হাসি বা অবজ্ঞার ভঙ্গিমায় প্রকাশ পায়। এমনকি ধার্মিক, ধনী বা জ্ঞানী ব্যক্তিরাও যখন নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করে অন্যকে হেয় করেন, তখন তারা ইবলিসের পথ অনুসরণ করেন।

আল্লাহতায়ালা মহাজ্ঞানী এবং তিনিই সৃষ্টির মর্যাদা নির্ধারণ করেন। মহান আল্লাহ বলেছেন, 'যিনি সৃষ্টি করেছেন, তিনি কি জানেন না? তিনি সূক্ষ্মদর্শী, সম্যক অবগত।' (সুরা মুলক : ১৪)। তাই মুমিনের উচিত আল্লাহর সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট থাকা এবং অন্যকে তুচ্ছ করার সিঁড়ি হিসেবে নিয়ামতকে ব্যবহার না করা। অহংকার যখন অন্তরে গেঁথে যায়, তখন তা পারস্পরিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, হিংসা-বিদ্বেষ বাড়িয়ে দেয় এবং উন্নয়নের পথ রুদ্ধ করে দেয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যার অন্তরে সরিষার দানার সমান অহংকারও থাকবে, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না।' (মুসলিম : ১৬৮)।

ইসলাম আমাদের অহংকার থেকে বেঁচে থাকার শিক্ষা দেয় এবং বিনয়ের সর্বোচ্চ আদর্শ হিসেবে ইউসুফ (আ.)-এর জীবনের দৃষ্টান্ত তুলে ধরে। তিনি মিসরের আজিজের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের বদলে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়ে বলেছিলেন, 'আমাকে দেশের ধনভাণ্ডারের ওপর কর্তৃত্ব প্রদান করুন; আমি তো উত্তম রক্ষক, সুবিজ্ঞ।' (সুরা ইউসুফ : ৫৫)। তিনি নিজেকে অন্যের সাফল্যের মাপকাঠি না বানিয়ে বিশ্বস্ত সেবক হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।

আল্লাহতায়ালা অহংকারীদের পছন্দ করেন না, যেমনটি সুরা লুকমানে বলা হয়েছে, 'অহংকারবশে তুমি মানুষকে অবজ্ঞা কর না এবং পৃথিবীতে উদ্ধতভাবে বিচরণ কর না।' (সুরা লুকমান : ১৮)। আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এক স্তর বিনয়ী হবে, আল্লাহ তার মর্যাদা এক স্তর উঁচু করবেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর বিরূদ্ধে এক স্তর অহংকার করবে, আল্লাহ তার মর্যাদা এক স্তর নিচু করে দেবেন। শেষ পর্যন্ত তিনি তাকে হীনতাগ্রস্তদের মধ্যে হীনতমে পরিণত করবেন।' (ইবনে মাজাহ : ৪১৭৬)। তাই অহংকার বর্জন করে বিনয়ী হওয়া এবং নিজেকে লোক দেখানো ইবাদত ও আত্মপ্রশংসা থেকে পবিত্র রাখার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা প্রতিটি মুমিনের দায়িত্ব।