লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব: কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াতের তাৎপর্য

পবিত্র কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আয়াত হলো 'আয়াতুল কুরসি।' মহানবী (সা.) এই আয়াতটিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'তোমার মতে কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?' জবাবে উবাই (রা.) বলেছিলেন, 'আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া…' অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি। তখন নবী (সা.) তার বুকে হাত রেখে বলেছিলেন, 'আবুল মুনজির, এই জ্ঞানের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।' (মুসলিম)।

এই আয়াতটির মাহাত্ম্য এর গভীর তাৎপর্য এবং অসংখ্য ফজিলতের মধ্যেই নিহিত। আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুরক্ষা লাভ করেন এবং পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ পান।

রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, শয়তান সারা রাত তার কাছে আসবে না।' (বোখারি)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। আর যে সকালে পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে।' (বনে হিব্বান)। এছাড়া রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, 'যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।' (নাসায়ি)।

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ হলো: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।

এর অর্থ হলো: 'আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে না তন্দ্রা স্পর্শ করে, না নিদ্রা। আসমান-জমিনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে-পেছনে কী আছে, তিনি জানেন। তিনি যা চান, তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর সিংহাসন আসমান-জমিন বেষ্টন করে আছে এবং তা হেফাজত করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।' এই আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর এই অসামান্য গুণাবলির কারণেই এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনের আমলের মাধ্যমে এই আয়াতটি পাঠের অভ্যাস আমাদের জীবনে প্রশান্তি ও নিরাপত্তার এক অনন্য মাধ্যম হতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চলচ্চিত্র সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী মাধ্যম: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

আয়াতুল কুরসির ফজিলত ও গুরুত্ব: কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াতের তাৎপর্য

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০১:১৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পবিত্র কোরআনের অন্যতম ফজিলতপূর্ণ আয়াত হলো 'আয়াতুল কুরসি।' মহানবী (সা.) এই আয়াতটিকে কোরআনের শ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একবার তিনি সাহাবি উবাই ইবনে কাআব (রা.)-কে জিজ্ঞেস করেছিলেন, 'তোমার মতে কোরআনের কোন আয়াতটি সবচেয়ে মহান?' জবাবে উবাই (রা.) বলেছিলেন, 'আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুয়া…' অর্থাৎ আয়াতুল কুরসি। তখন নবী (সা.) তার বুকে হাত রেখে বলেছিলেন, 'আবুল মুনজির, এই জ্ঞানের জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।' (মুসলিম)।

এই আয়াতটির মাহাত্ম্য এর গভীর তাৎপর্য এবং অসংখ্য ফজিলতের মধ্যেই নিহিত। আয়াতুল কুরসি পাঠের মাধ্যমে মুমিন বান্দা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সুরক্ষা লাভ করেন এবং পরকালে জান্নাতের সুসংবাদ পান।

রাসুল (সা.) বলেছেন, 'যে ব্যক্তি শোয়ার সময় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, শয়তান সারা রাত তার কাছে আসবে না।' (বোখারি)। অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'যে ব্যক্তি সন্ধ্যায় আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শয়তান থেকে নিরাপদে থাকবে। আর যে সকালে পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরাপদে থাকবে।' (বনে হিব্বান)। এছাড়া রাসুল (সা.) আরও বলেছেন, 'যে ব্যক্তি প্রতি ফরজ নামাজের পর আয়াতুল কুরসি পাঠ করবে, তার জান্নাতে প্রবেশের পথে মৃত্যু ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না।' (নাসায়ি)।

আয়াতুল কুরসির বাংলা উচ্চারণ হলো: আল্লাহু লা ইলাহা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল কাইয়ুম। লা তা খুজুহু সিনাতু ওয়ালা নাউম। লাহু মা ফিস সামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ। মান জাল্লাজি ইয়াশ ফাউ ইনদাহু ইল্লা বি ইজনিহি, ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল মিহি ইল্লা বিমা শা আ, ওয়াসিয়া কুরসি ইউহুস সামা ওয়াতি ওয়াল আরদ, ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলি ইয়ুল আজিম।

এর অর্থ হলো: 'আল্লাহ—তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি চিরঞ্জীব, সবকিছুর ধারক। তাঁকে না তন্দ্রা স্পর্শ করে, না নিদ্রা। আসমান-জমিনে যা কিছু আছে, সব তাঁরই। তাঁর অনুমতি ছাড়া তাঁর কাছে কে সুপারিশ করবে? তাদের সামনে-পেছনে কী আছে, তিনি জানেন। তিনি যা চান, তা ছাড়া তারা তাঁর জ্ঞানের কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না। তাঁর সিংহাসন আসমান-জমিন বেষ্টন করে আছে এবং তা হেফাজত করতে তাঁর কষ্ট হয় না। এবং তিনিই সর্বোচ্চ ও মহান।' এই আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর এই অসামান্য গুণাবলির কারণেই এটি কোরআনের সর্বশ্রেষ্ঠ আয়াত হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিনের আমলের মাধ্যমে এই আয়াতটি পাঠের অভ্যাস আমাদের জীবনে প্রশান্তি ও নিরাপত্তার এক অনন্য মাধ্যম হতে পারে।