লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যবসায়ে যেসব বিষয় বর্জনীয়

মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলে। ইসলামের এই নীতি অনুসরণ করা সবার জন্য কল্যাণকর, কারণ এটি যাবতীয় অকল্যাণ থেকে ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করে।

ব্যবসায় নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত না হলে উপার্জিত সম্পদে হারাম বা বাতিল মালের অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকে। রাসুল (সা.) হারাম উপার্জনের পরিণাম সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। মুসনাদে আবি ইয়ালার ৭৮ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা।'

ব্যবসায়ে পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধতার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। শরিয়তের দৃষ্টিতে শুয়োর বা মদের মতো হারাম বস্তুর কেনাবেচা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং অনৈতিক।

পণ্য কেনাবেচার সময় দালালি বা কৃত্রিম দরদাম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে, যখন কোনো দালালের পণ্য কেনার প্রকৃত ইচ্ছা নেই, কিন্তু সে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে—তখন প্রকৃত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহিহ বোখারি ২১৪০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) এক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের পণ্যের ওপর দাম না বলার নির্দেশ দিয়েছেন।

সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকেও ব্যবসায়ীদের দূরে থাকা উচিত। কোনো বৈধ পণ্য এমন কারো কাছে বিক্রি করা যাবে না যার মাধ্যমে পণ্যটির অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে সহিহ বোখারি ১৪৮২ নম্বর হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যবসায় সুদের সংমিশ্রণ অত্যন্ত ভয়াবহ। সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ এবং আল্লাহতায়ালা সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যবসা বরকতশূন্য হয়ে পড়ে। সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে সুরা বাকারা ২৭৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। আর দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।' গবাদিপশু প্রতিপালনের প্রচলিত পদ্ধতি, জমি বন্ধক রাখার নিয়ম এবং ইসলামি শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে অজান্তেই সুদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। তিরমিজি ১২০৬ নম্বর হাদিসে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, সাক্ষী এবং সুদের চুক্তিপত্র লেখক—সবার প্রতি অভিশাপ করেছেন।

১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার সামরিক সহায়তা দেবে ইউরোপীয় কমিশন

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ব্যবসায়ে যেসব বিষয় বর্জনীয়

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানব জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হলো ব্যবসা-বাণিজ্য। ইসলাম এ ক্ষেত্রে স্বতন্ত্র নীতিমালা প্রণয়ন করেছে, যা ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি ইনসাফপূর্ণ বাজারব্যবস্থা গড়ে তোলে। ইসলামের এই নীতি অনুসরণ করা সবার জন্য কল্যাণকর, কারণ এটি যাবতীয় অকল্যাণ থেকে ব্যবসায়িক স্বার্থ রক্ষা করে।

ব্যবসায় নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখা অপরিহার্য। কোরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত না হলে উপার্জিত সম্পদে হারাম বা বাতিল মালের অনুপ্রবেশের ঝুঁকি থাকে। রাসুল (সা.) হারাম উপার্জনের পরিণাম সম্পর্কে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছেন। মুসনাদে আবি ইয়ালার ৭৮ নম্বর হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'সেই দেহ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যাকে তৃপ্ত করা হয়েছে হারাম দ্বারা।'

ব্যবসায়ে পণ্য নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বৈধতার বিষয়টি খেয়াল রাখতে হবে। শরিয়তের দৃষ্টিতে শুয়োর বা মদের মতো হারাম বস্তুর কেনাবেচা সম্পূর্ণ নাজায়েজ এবং অনৈতিক।

পণ্য কেনাবেচার সময় দালালি বা কৃত্রিম দরদাম করা থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে, যখন কোনো দালালের পণ্য কেনার প্রকৃত ইচ্ছা নেই, কিন্তু সে পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাকে ধোঁকায় ফেলে—তখন প্রকৃত ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সহিহ বোখারি ২১৪০ নম্বর হাদিসে রাসুল (সা.) এক মুসলমানকে অন্য মুসলমানের পণ্যের ওপর দাম না বলার নির্দেশ দিয়েছেন।

সন্দেহপূর্ণ লেনদেন থেকেও ব্যবসায়ীদের দূরে থাকা উচিত। কোনো বৈধ পণ্য এমন কারো কাছে বিক্রি করা যাবে না যার মাধ্যমে পণ্যটির অপব্যবহারের আশঙ্কা থাকে। এ ধরনের লেনদেন সম্পর্কে সহিহ বোখারি ১৪৮২ নম্বর হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।

ব্যবসায় সুদের সংমিশ্রণ অত্যন্ত ভয়াবহ। সুদ একটি সুস্পষ্ট হারাম কাজ এবং আল্লাহতায়ালা সুদি কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছেন। সুদের সঙ্গে জড়িত ব্যবসা বরকতশূন্য হয়ে পড়ে। সুদের ভয়াবহতা সম্পর্কে সুরা বাকারা ২৭৬ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, 'আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন। আর দান-সদকাকে বৃদ্ধি করেন।' গবাদিপশু প্রতিপালনের প্রচলিত পদ্ধতি, জমি বন্ধক রাখার নিয়ম এবং ইসলামি শরিয়া স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ না করে আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিনিয়োগ গ্রহণ—এসব ক্ষেত্রে অজান্তেই সুদের অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। তিরমিজি ১২০৬ নম্বর হাদিসে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রা.) সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) সুদ গ্রহণকারী, প্রদানকারী, সাক্ষী এবং সুদের চুক্তিপত্র লেখক—সবার প্রতি অভিশাপ করেছেন।

১. গবাদিপশু প্রতিপালনের জন্য বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।

২. জমি বন্ধক দেওয়ার বহুল প্রচলিত পদ্ধতি।