লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন আয়োজকেরা। এতে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটের (আরআইটি) প্রতিনিধি একরাম উদ্দিন।

আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করবেন।

এই আয়োজনের সাথে যুক্ত রয়েছে ঢাকাভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আরআইটি, ডাকসু, ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস। এ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন এতে সহায়তা করছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক আ ফ ম খালিদ হোসাইন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সিরিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসাইন।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ আলোচনার পাশাপাশি বাছাই করা ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ১৫ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে পাঁচটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাতারের হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ প্রোটোকল সেশনও রাখা হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন আরআইটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল। সম্মেলনের ঘোষণা উপস্থাপন করবেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ এবং সমাপনী বক্তব্য দেবেন আরআইটির নির্বাহী পরিচালক একরাম উদ্দিন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, জুলাই বিপ্লবের অপূর্ণ কাজ, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২০০৬ সালের রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর: দুই দশক পরও নির্বাচনকালীন সরকারে আস্থার সংকট

১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে জুলাই বিপ্লববিষয়ক দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:৪৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে আগামী ১৯ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে দিনব্যাপী দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক সম্মেলন (আইসিজেআর-২, ২০২৬) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর লিগ্যাসি: জবাবদিহি, সংস্কার ও বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ’।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সম্মেলনের বিস্তারিত তুলে ধরেন আয়োজকেরা। এতে বক্তব্য রাখেন ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম, কার্যনির্বাহী সদস্য মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ এবং রিসার্চ অ্যান্ড ইন্টিগ্রেটেড থটের (আরআইটি) প্রতিনিধি একরাম উদ্দিন।

আয়োজকদের তথ্যমতে, সম্মেলনে জুলাই বিপ্লবের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। পাশাপাশি একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অধিকারভিত্তিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়ে দেশ-বিদেশের গবেষক, শিক্ষক, নীতিনির্ধারক ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা মতবিনিময় করবেন।

এই আয়োজনের সাথে যুক্ত রয়েছে ঢাকাভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান আরআইটি, ডাকসু, ইয়ুথ ফর বেটার ফিউচার সোসাইটি, কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনা, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম এবং সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির স্কুল অব সোশ্যাল সায়েন্সেস। এ ছাড়াও বিভিন্ন মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠন এতে সহায়তা করছে।

সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন অধ্যাপক আ ফ ম খালিদ হোসাইন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের সিরিয়াবিষয়ক প্রতিনিধি হুমা খান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নিয়াজ আহমেদ খান এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মঈনুল ইসলাম চৌধুরী। সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে বক্তব্য রাখবেন জুলাই বিপ্লবের শহীদ জাবির ইব্রাহিমের মা ও সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগম এবং সম্মেলনের আহ্বায়ক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এইচ এম মোশারফ হোসাইন।

সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ আলোচনার পাশাপাশি বাছাই করা ৮০টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ১৫ জনেরও বেশি বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে পাঁচটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং কাতারের হামাদ বিন খলিফা ইউনিভার্সিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতদের অংশগ্রহণে একটি বিশেষ প্রোটোকল সেশনও রাখা হয়েছে। সম্মেলনের প্রথম প্লেনারি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন আরআইটির চেয়ারম্যান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মোহাম্মদ ইসমাইল। সম্মেলনের ঘোষণা উপস্থাপন করবেন কানাডার ইউনিভার্সিটি অব রেজিনার সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ এবং সমাপনী বক্তব্য দেবেন আরআইটির নির্বাহী পরিচালক একরাম উদ্দিন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেছেন, জুলাই বিপ্লবের অপূর্ণ কাজ, জবাবদিহি, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে এই সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হিসেবে কাজ করবে। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।