লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানোর কার্যকর কৌশল

গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা— ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত মশা তাড়াতে আমরা বাজারজাত কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে কিংবা ইলেকট্রিক লিকুইড ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এগুলো সাময়িকভাবে মশা দূর করলেও এগুলোতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই রাসায়নিকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর মশামুক্ত রাখার কিছু কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো।

রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে বেশ কার্যকর। পানিতে রসুন ফুটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে দিন। রসুনের গন্ধ মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এছাড়া এসেনশিয়াল অয়েল যেমন লেমনগ্রাস, ইউক্যালিপটাস এবং টি-ট্রি অয়েল পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার পাশে রেখে দিলেও সুফল পাওয়া যায়।

ব্যবহৃত চা পাতা রোদে শুকিয়ে তার সঙ্গে কিছু শুকনো নিম পাতা মিশিয়ে ধুনুচি বা মাটির পাত্রে পোড়ালে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা মশা তাড়াতে একশ ভাগ কার্যকর। এই ধোঁয়ায় কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে না, যা স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। মশা রোধে ঘরের জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগানো একটি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান, যা ঘরে সতেজ বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে এবং মশার প্রবেশ রোধ করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়াতে বাড়িতে সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছ লাগাতে পারেন। এগুলো কেবল মশাই তাড়ায় না, বরং ঘরের পরিবেশ সবুজ করে এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করে। পাশাপাশি মশা তাড়াতে ঘর ও চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা বা ঘন ঝোপঝাড় মশার বংশবিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। সবশেষে, ঘরের চারপাশে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কৃত্রিম কয়েল ও স্প্রে বাদ দিয়ে এই সাশ্রয়ী ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে পরিবারকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

চবির নতুন কলা ভবনে জেনারেটর বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন

ক্ষতিকর রাসায়নিক ছাড়াই ঘরোয়া উপায়ে মশা তাড়ানোর কার্যকর কৌশল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

গ্রীষ্ম কিংবা বর্ষা— ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে মশার উপদ্রব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। সাধারণত মশা তাড়াতে আমরা বাজারজাত কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে কিংবা ইলেকট্রিক লিকুইড ব্যবহার করে থাকি। কিন্তু এগুলো সাময়িকভাবে মশা দূর করলেও এগুলোতে থাকা ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদান শ্বাসকষ্ট, অ্যালার্জি এবং ফুসফুসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই রাসায়নিকগুলো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বিষাক্ত ধোঁয়া ছাড়াই প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর মশামুক্ত রাখার কিছু কার্যকর কৌশল নিচে দেওয়া হলো।

রসুনের স্প্রে মশা তাড়াতে বেশ কার্যকর। পানিতে রসুন ফুটিয়ে একটি মিশ্রণ তৈরি করুন এবং পানি ঠান্ডা হয়ে গেলে জানালা, গাছপালা কিংবা ঘরের বাইরের বিভিন্ন স্থানে ছিটিয়ে দিন। রসুনের গন্ধ মশা একেবারেই সহ্য করতে পারে না। এছাড়া এসেনশিয়াল অয়েল যেমন লেমনগ্রাস, ইউক্যালিপটাস এবং টি-ট্রি অয়েল পানির সঙ্গে মিশিয়ে ঘরে স্প্রে করতে পারেন। বিকল্প হিসেবে এই মিশ্রণে তুলোর বল ডুবিয়ে দরজা ও জানালার পাশে রেখে দিলেও সুফল পাওয়া যায়।

ব্যবহৃত চা পাতা রোদে শুকিয়ে তার সঙ্গে কিছু শুকনো নিম পাতা মিশিয়ে ধুনুচি বা মাটির পাত্রে পোড়ালে যে ধোঁয়া তৈরি হয়, তা মশা তাড়াতে একশ ভাগ কার্যকর। এই ধোঁয়ায় কোনো ক্ষতিকর উপাদান থাকে না, যা স্বাস্থ্যের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ। মশা রোধে ঘরের জানালা ও দরজায় মিহি জালি বা নেট লাগানো একটি সহজ ও দীর্ঘস্থায়ী সমাধান, যা ঘরে সতেজ বাতাস চলাচল নিশ্চিত করে এবং মশার প্রবেশ রোধ করে।

প্রাকৃতিক উপায়ে মশা তাড়াতে বাড়িতে সিট্রোনেলা, তুলসী, ল্যাভেন্ডার এবং পুদিনার মতো গাছ লাগাতে পারেন। এগুলো কেবল মশাই তাড়ায় না, বরং ঘরের পরিবেশ সবুজ করে এবং বাতাসের গুণমান উন্নত করে। পাশাপাশি মশা তাড়াতে ঘর ও চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত জরুরি। আবর্জনা বা ঘন ঝোপঝাড় মশার বংশবিস্তারের ক্ষেত্র হতে পারে, তাই নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা বাঞ্ছনীয়। সবশেষে, ঘরের চারপাশে যেন কোনোভাবেই পানি জমে না থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন। কৃত্রিম কয়েল ও স্প্রে বাদ দিয়ে এই সাশ্রয়ী ঘরোয়া পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করলে পরিবারকে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ছাড়াই সুস্থ ও সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।