লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে নারাজ মোদি সরকার

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার দাবিতে এক মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিরোধী দলগুলোও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সংসদ অচল করে রেখেছে। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকার এই দাবি মানতে একেবারেই নারাজ। মোদি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে দেখা গেছে, তারা কোনো চাপের মুখে সহজে নতি স্বীকার করে না। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি আইন পাস করিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও দিল্লির সীমান্ত অবরোধের কারণে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা প্রত্যাহার করে নেন। এই একটি মাত্র নিদর্শন ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য যেসব আন্দোলন হয়েছে, যেমন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ, সিএএ, এনআরসি কিংবা সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন—কোনো সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার পিছিয়ে আসেনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০১৫ সালে ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে বলেছিলেন, এটি এনডিএ সরকার, যেখানে বিরোধীদের চাপে কাউকে পদত্যাগ করানো হয় না। এই নীতি মেনেই রেল দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো বিতর্কের মুখেও সরকার কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো হলে তা সরকারের দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছে বিজেপি।

ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কুশলী। ওডিশায় দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের আধিপত্য ভাঙার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিহার, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপির ভোট কৌশলের অন্যতম কারিগর তিনি। তাঁকে অপসারণ করা মানে একজন বিশ্বস্ত অনুচরকে শাস্তি দেওয়া, যা মোদি-শাহ করতে চান না।

এছাড়া, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরালে তা সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে নেওয়ার শামিল হবে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রথমটি ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইটি) ও দ্বিতীয়টি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকার ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিলেও শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করতে নারাজ।

ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা। তাঁকে অপসারণ করলে অনগ্রসর সমাজের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মেরুকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা মোদি সরকার এড়াতে চায়। শেষ পর্যন্ত সরকার মনে করে, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন তা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, বিরোধীরা তা নির্ধারণ করতে পারে না। তবে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও বিরোধীদের জোটের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ মোড়।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকায় বৃষ্টি ও তাপমাত্রা হ্রাসের পূর্বাভাস আবহাওয়া অধিদপ্তরের

কেন ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করতে নারাজ মোদি সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৪:১৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে বরখাস্ত করার দাবিতে এক মাস ধরে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। বিরোধী দলগুলোও এই দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সংসদ অচল করে রেখেছে। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকার এই দাবি মানতে একেবারেই নারাজ। মোদি সরকারের গত ১২ বছরের শাসনামলে দেখা গেছে, তারা কোনো চাপের মুখে সহজে নতি স্বীকার করে না। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে তিনটি কৃষি আইন পাস করিয়েছিল মোদি সরকার। কিন্তু দেশজুড়ে লাগাতার আন্দোলন ও দিল্লির সীমান্ত অবরোধের কারণে ২০২১ সালের নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তা প্রত্যাহার করে নেন। এই একটি মাত্র নিদর্শন ছাড়া সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্য যেসব আন্দোলন হয়েছে, যেমন সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ খারিজ, সিএএ, এনআরসি কিংবা সর্বশেষ ভোটার তালিকায় নিবিড় সংশোধন—কোনো সিদ্ধান্ত থেকেই সরকার পিছিয়ে আসেনি।

প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ২০১৫ সালে ললিত মোদি বিতর্ক নিয়ে বলেছিলেন, এটি এনডিএ সরকার, যেখানে বিরোধীদের চাপে কাউকে পদত্যাগ করানো হয় না। এই নীতি মেনেই রেল দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো বিতর্কের মুখেও সরকার কোনো মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেনি। ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরানো হলে তা সরকারের দুর্বলতা হিসেবে বিবেচিত হবে বলে মনে করছে বিজেপি।

ধর্মেন্দ্র প্রধান শুধু শিক্ষামন্ত্রী নন, তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক কুশলী। ওডিশায় দীর্ঘদিনের বিজু জনতা দলের আধিপত্য ভাঙার পেছনে তাঁর বড় ভূমিকা ছিল। এছাড়া বিহার, হরিয়ানা ও উত্তর প্রদেশের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যে বিজেপির ভোট কৌশলের অন্যতম কারিগর তিনি। তাঁকে অপসারণ করা মানে একজন বিশ্বস্ত অনুচরকে শাস্তি দেওয়া, যা মোদি-শাহ করতে চান না।

এছাড়া, ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরালে তা সরকারি ব্যর্থতা স্বীকার করে নেওয়ার শামিল হবে। নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস ও দুর্নীতির বিষয়টি প্রথমটি ২০২০ সালের জাতীয় শিক্ষা নীতি (এনইটি) ও দ্বিতীয়টি ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। সরকার ইতিমধ্যে তদন্তের নির্দেশ দিলেও শিক্ষামন্ত্রীকে দায়ী করতে নারাজ।

ধর্মেন্দ্র প্রধান পূর্ব ভারতের অন্যতম প্রভাবশালী অনগ্রসর নেতা। তাঁকে অপসারণ করলে অনগ্রসর সমাজের মধ্যে বিজেপির জনপ্রিয়তা ও সামাজিক মেরুকরণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, যা মোদি সরকার এড়াতে চায়। শেষ পর্যন্ত সরকার মনে করে, মন্ত্রিসভায় কে থাকবেন তা সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত, বিরোধীরা তা নির্ধারণ করতে পারে না। তবে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি ও বিরোধীদের জোটের ওপর নির্ভর করবে পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ মোড়।