লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তবে সরকার এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সম্মেলনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত ২৩ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ১৪ জুলাই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে এই কূটনৈতিক পত্রটি পাঠানো হয়।

ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে সাধারণত সদস্য নয় এমন নির্বাচিত দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এবারের শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিকসভুক্ত অধিকাংশ দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফলে এই ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ চীন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের মতবিনিময়ের একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নিলেও, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত আউটরিচ পর্বে অংশ নেয়নি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে বলেও তাঁর জানা নেই।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়াটা কেবল একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয় নয়, বরং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করে। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, বহুপক্ষীয় এই ফোরামের সুযোগ বাংলাদেশের কাজে লাগানো উচিত। এছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, প্রতিবেশী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে এই সম্মেলন। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে ফ্রিল্যান্সার সামিট বাংলাদেশ ২০২৬ আয়োজনের উদ্যোগ

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়া নিয়ে এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি ঢাকা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:৩২:৩২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

আগামী সেপ্টেম্বরে ভারতের নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ‘আউটরিচ’ পর্বে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। বিমসটেকের বর্তমান সভাপতি হিসেবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানান। তবে সরকার এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সম্মেলনে অংশ নেবে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গত ২৩ জুলাই সাংবাদিকদের জানান, ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর নামে পাঠানো আমন্ত্রণপত্রটি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আসার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। গত ১৪ জুলাই ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনের মাধ্যমে এই কূটনৈতিক পত্রটি পাঠানো হয়।

ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে সাধারণত সদস্য নয় এমন নির্বাচিত দেশ ও আঞ্চলিক সংস্থার নেতাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এবারের শীর্ষ সম্মেলনে ব্রিকসভুক্ত অধিকাংশ দেশের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। ফলে এই ফোরামের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ চীন ও রাশিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ দেশের নেতাদের মতবিনিময়ের একটি সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশ ২০২৩ সাল থেকে নিয়মিতভাবে ব্রিকসের আউটরিচ পর্বে আমন্ত্রণ পেয়ে আসছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গ এবং ২০২৪ সালে রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে বাংলাদেশ অংশ নিলেও, ২০২৫ সালে ব্রাজিলের রিও ডি জেনিরোতে অনুষ্ঠিত আউটরিচ পর্বে অংশ নেয়নি।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে আলোচনা শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানও বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং এ নিয়ে প্রাথমিক কথাবার্তা শুরু হয়েছে বলেও তাঁর জানা নেই।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকসের সদস্য হওয়ার আগ্রহ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ করে আসছে বাংলাদেশ। এই প্রেক্ষাপটে আউটরিচ পর্বে অংশ নেওয়াটা কেবল একটি বহুপক্ষীয় বৈঠকে উপস্থিত থাকার বিষয় নয়, বরং ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বহন করে। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের মতে, বহুপক্ষীয় এই ফোরামের সুযোগ বাংলাদেশের কাজে লাগানো উচিত। এছাড়া, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবীর মনে করেন, প্রতিবেশী দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে এই সম্মেলন। তবে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে সরকার সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।