লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহদী আমিন

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি দিয়ে শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো হলেও এখনো বিভিন্ন কারখানা ও বায়িং হাউজে ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের মানুষের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এই পুরো শিল্পটি পরিচালনা করা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের উচ্চ পদে নিয়োগ দিতে আগ্রহী হয়। এ জন্য একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আবেগ ও অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি এবং নগদ প্রণোদনার মতো নীতি চালু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এই খাতের বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে।

পোশাক খাতে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গ্রামীণ তরুণীদের তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে তুলে ধরছে।

মাহদী আমিন আরও জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত সাত মাসে বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সাথে নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিব্যয় চলছে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতার জায়গায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রতিটি কারখানায় গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হতে হবে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তির অজুহাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া সমীচীন নয়।

পোশাক শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এক বছর মেয়াদি বিশেষায়িত ডিপ্লোমা কোর্স চালুর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক শিক্ষার সাথে কারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং সফল উদ্যোক্তাদের ক্যাম্পাসে গিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন। তরুণ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নতুন স্টার্টআপ项目中 প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

দীর্ঘদিনের সংকট ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কাজ থমকে ছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প সময়ে সব সমস্যা দূর করা কঠিন হলেও সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করতে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। একটি টেকসই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ একটি ইকোসিস্টেম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা মালিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের একই মঞ্চে আনা হয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘৩৬০ ডিগ্রি’ উদ্যোগ।

এর আগে শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলার দ্বিতীয় দিনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে মাহদী আমিন মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে নবনিযুক্ত সিভিল সার্জনের নিয়োগ বাতিলের দাবিতে কার্যালয় অবরোধ

তৈরি পোশাক খাতে বিদেশি ছাড়াই শতভাগ দেশি কর্মসংস্থান সম্ভব: মাহদী আমিন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:০২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে বিদেশি কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় দক্ষ ও মেধাবী জনশক্তি দিয়ে শতভাগ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ‘ইনোভেশন ইন অ্যাপারেল অ্যান্ড টেক্সটাইল: ড্রাইভিং কম্পিটিটিভনেস অ্যান্ড গ্রোথ’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে।

মাহদী আমিন বলেন, দেশের তৈরি পোশাক শিল্প প্রায় অর্ধশতাব্দী পুরোনো হলেও এখনো বিভিন্ন কারখানা ও বায়িং হাউজে ক্ষেত্রবিশেষে বিদেশি কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অথচ দেশের মানুষের মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতাকে কাজে লাগিয়ে এই পুরো শিল্পটি পরিচালনা করা সম্ভব। সরকারের লক্ষ্য কেবল দেশের অভ্যন্তরে স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়া নয়, বরং বাংলাদেশের মেধাবী পেশাজীবীদের এমনভাবে তৈরি করা যাতে ভবিষ্যতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ তাদের উচ্চ পদে নিয়োগ দিতে আগ্রহী হয়। এ জন্য একটি টেকসই শিক্ষাব্যবস্থা ও উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

যুবসমাজের কর্মসংস্থান ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টিকে সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থনে দায়িত্ব পাওয়া বর্তমান সরকারের লক্ষ্য হলো টেকসই শিল্প প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা, সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং তরুণদের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। এ লক্ষ্যে মানবিক মূল্যবোধের পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা ও যোগাযোগের সক্ষমতা বাড়াতে শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ চলছে। শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে দূরত্ব কমাতে এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করতে পাঠ্যক্রম সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে আবেগ ও অনুভূতির একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হিসেবে উল্লেখ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এ দেশে তৈরি পোশাক শিল্পের মূল ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। তার দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলেই বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা, শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানি এবং নগদ প্রণোদনার মতো নীতি চালু হয়েছিল, যা পরবর্তীতে এই খাতের বিকাশে অনন্য ভূমিকা রাখে।

পোশাক খাতে নারীদের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি নারী এবং তৈরি পোশাক শিল্পের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের বহু নারী অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। গ্রামীণ তরুণীদের তৈরি পোশাক বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে তুলে ধরছে।

মাহদী আমিন আরও জানান, জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তৈরি পোশাক শিল্পের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। গত সাত মাসে বন্ধ থাকা কারখানা পুনরায় চালু করা, উদ্যোক্তাদের কাছে সহজে প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়া এবং নতুন উদ্ভাবনের মাধ্যমে শিল্পকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিটিএমএসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সাথে নিয়মিত সংলাপ ও মতবিনিব্যয় চলছে।

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের পোশাক শিল্পকে এগিয়ে নিতে গবেষণা, উন্নয়ন ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ হলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও দক্ষতার জায়গায় আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য প্রতিটি কারখানায় গবেষণা সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রযুক্তিনির্ভর যুগে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রযুক্তির উদ্দেশ্য হতে হবে কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তির অজুহাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান কেড়ে নেওয়া সমীচীন নয়।

পোশাক শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও এক বছর মেয়াদি বিশেষায়িত ডিপ্লোমা কোর্স চালুর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের তাত্ত্বিক শিক্ষার সাথে কারখানার বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি এবং সফল উদ্যোক্তাদের ক্যাম্পাসে গিয়ে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ব্যবস্থা করার তাগিদ দেন। তরুণ উদ্ভাবকদের রাষ্ট্রীয় সহায়তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, নতুন স্টার্টআপ项目中 প্রাথমিক মূলধন ও তহবিল দেওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে।

দীর্ঘদিনের সংকট ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতার অভাবে অনেক কাজ থমকে ছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, স্বল্প সময়ে সব সমস্যা দূর করা কঠিন হলেও সীমাবদ্ধতাকে শক্তিতে পরিণত করতে সরকারের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই। একটি টেকসই সাফল্যের জন্য প্রয়োজন পূর্ণাঙ্গ একটি ইকোসিস্টেম। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের এই আয়োজনে বৈশ্বিক ব্র্যান্ড, পোশাক ও টেক্সটাইল কারখানা মালিক, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি, ব্যাংকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও নীতিনির্ধারকদের একই মঞ্চে আনা হয়েছে, যা একটি পূর্ণাঙ্গ ‘৩৬০ ডিগ্রি’ উদ্যোগ।

এর আগে শনিবার সকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’-এর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘ইনোভেট টু মার্কেট’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এই মেলার দ্বিতীয় দিনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা শেষে মাহদী আমিন মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় সরকারি-বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান, ৭৩টি পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়, নতুন স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীরা অংশ নিয়েছেন, যেখানে প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে।