লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:২১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাবনার আটঘরিয়ায় আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের মাঝে সাদা ফুলের এক অপরূপ দৃশ্য। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমগাছে প্রচুর ফুল ফুটেছে এবং কোথাও কোথাও কচি শিমও ঝুলছে। মাঠের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। এদিকে আগাম ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ আশাবাদী।

গত বৃহস্পতিবার বারইপাড়া গ্রামের শিমক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে আছে হাইব্রিড শিমের লতা। কৃষকরা ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন; কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ সেচ বা রোগবালাই দমনে কাজ করছেন। স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। জমিটি চাষাবাদের জন্য ৯ লাখ টাকায় বন্ধক নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ খরচ বাড়লেও বর্তমান ফলন দেখে তিনি সন্তুষ্ট।

শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তিনি প্রায় আড়াই মণ শিম সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি কেজি ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং এই বাজারদর বজায় থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

আরেক কৃষক মনজুর হোসেন জানান, আগাম জাতের শিম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। তিনি বলেন, সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করাই এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক পরিচর্যায় লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, পাবনার ‘শিম সাগর’ হিসেবে পরিচিত আটঘরিয়ায় দেশের সবচেয়ে বেশি শিমের আবাদ হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যে আগাম শিম পাওয়া যাচ্ছে, তার একটি বড় অংশ এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিভাগ নিরাপদ উপায়ে আগাম শিম উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আগাম শিমের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।

জনপ্রিয় সংবাদ

এনসিপি নেতা তানভীরকে সাংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

পাবনার আটঘরিয়ায় আগাম শিম চাষে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:২২:৪৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার বারইপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন সবুজের মাঝে সাদা ফুলের এক অপরূপ দৃশ্য। যশোরের আগাম হাইব্রিড জাতের শিমগাছে প্রচুর ফুল ফুটেছে এবং কোথাও কোথাও কচি শিমও ঝুলছে। মাঠের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিন ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীরা। এদিকে আগাম ফলন এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা বেশ আশাবাদী।

গত বৃহস্পতিবার বারইপাড়া গ্রামের শিমক্ষেত ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে আছে হাইব্রিড শিমের লতা। কৃষকরা ক্ষেতের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন; কেউ আগাছা পরিষ্কার করছেন, আবার কেউ সেচ বা রোগবালাই দমনে কাজ করছেন। স্থানীয় কৃষক শরিফুল ইসলাম জানান, তিনি সাড়ে তিন বিঘা জমিতে শিমের আবাদ করেছেন। জমিটি চাষাবাদের জন্য ৯ লাখ টাকায় বন্ধক নিয়েছেন। জমি প্রস্তুত, মাচা নির্মাণ, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ খরচ বাড়লেও বর্তমান ফলন দেখে তিনি সন্তুষ্ট।

শরিফুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে তিনি প্রায় আড়াই মণ শিম সংগ্রহ করছেন এবং বাজারে প্রতি কেজি ২৪৫ থেকে ২৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং এই বাজারদর বজায় থাকলে সব খরচ বাদ দিয়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।

আরেক কৃষক মনজুর হোসেন জানান, আগাম জাতের শিম হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি থাকে। তিনি বলেন, সময়মতো পরিচর্যা, রোগবালাই দমন এবং অনুকূল আবহাওয়া নিশ্চিত করাই এই চাষের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সঠিক পরিচর্যায় লাভের সম্ভাবনা অনেক বেশি।

আটঘরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না জানান, পাবনার ‘শিম সাগর’ হিসেবে পরিচিত আটঘরিয়ায় দেশের সবচেয়ে বেশি শিমের আবাদ হয়। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে যে আগাম শিম পাওয়া যাচ্ছে, তার একটি বড় অংশ এখান থেকেই সরবরাহ করা হয়। কৃষি বিভাগ নিরাপদ উপায়ে আগাম শিম উৎপাদনের জন্য কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দিয়ে আসছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আগাম শিমের ভালো ফলনের আশা করছেন কৃষি বিভাগ।