লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। হামলার সময় সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রক্ষা পেতে হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন, পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এনসিপি এই হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গলের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর পুলিশের প্রথম ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা ও অবস্থানের পর রাতে তারা কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে, এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। শহর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজারের দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। একই সময়ে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলও কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার বিচার ও এজাহার জমা দেওয়ার পর এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক মানদণ্ড নিয়ে উদ্বেগ এইচআরডব্লিউর

হবিগঞ্জে এনসিপি বহরে হামলার ঘটনায় ছাত্রদল নেতাসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪৫:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের বাদী হয়ে এই মামলাটি করেন। মামলায় জেলা ছাত্রদল সভাপতি রাজিব আহমদ রিংগনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও আরও ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের সময় এনসিপির শীর্ষ নেতারা পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার রাতে হবিগঞ্জে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় নেতাদের বহনকারী মাইক্রোবাস ভাঙচুর করা হয়। হামলার সময় সারজিস আলম এবং মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রক্ষা পেতে হবিগঞ্জ শহরের একটি সোনালী ব্যাংক শাখায় আশ্রয় নেন, পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে। এনসিপি এই হামলার জন্য বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলকে দায়ী করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের কয়েকটি গাড়িও ভাঙচুর করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সড়কের শ্রীমঙ্গলের ‘চা কন্যা’ ভাস্কর্য এলাকায় এনসিপির গাড়িবহর পুলিশের প্রথম ব্যারিকেডের মুখে পড়ে। সেখানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্য সচিব আখতার হোসেন, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং ডা. মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অবস্থান নেন। প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা বাগবিতণ্ডা ও অবস্থানের পর রাতে তারা কামাইছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে, এনসিপি ও বিএনপির মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির কারণে বুধবার সকাল থেকে হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। শহর ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। এনসিপি তাদের পূর্বঘোষিত মৌলভীবাজারের দুটি ‘জুলাই পদযাত্রা’ সাময়িকভাবে স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছিল। একই সময়ে জেলা বিএনপি ও ছাত্রদলও কর্মসূচি ঘোষণা করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার বিচার ও এজাহার জমা দেওয়ার পর এনসিপি নেতারা মৌলভীবাজারে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ঘটনাস্থলে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) তারেক মাহমুদসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।