লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর 'বি১' ও 'বি২' ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সাধারণত ব্যবসা ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য এই ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু করা হয়।

নতুন এই নিয়মের আওতায়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা প্রদানের শর্ত হিসেবে আবেদনকারীদের কাছ থেকে বন্ডের অর্থ দাবি করতে পারবেন। বন্ডের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপরই ন্যস্ত থাকবে। ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে এই কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পূর্বের পাইলট কর্মসূচিতে বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও, নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের অপশনটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করবে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অভিবাসন দমননীতি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং বর্ণবৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু ভিসার আবেদনকারীদের ওপর চড়া ফি ধার্য করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই-বাছাইয়ের মতো বিষয়গুলোকেও বৈধ অভিবাসন কঠিন করার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

এইচএসসি পরীক্ষায় এমসিকিউ পূরণে হল সুপারের বিরুদ্ধে অভিযোগ

বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড বাধ্যতামূলক

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৩:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর 'বি১' ও 'বি২' ক্যাটাগরির ভিসা আবেদনকারীদের জন্য একটি নতুন ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের মোট ৫০টি দেশের নাগরিকদের মার্কিন ভিসা পাওয়ার শর্ত হিসেবে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ডলার পর্যন্ত বন্ড জমা দিতে হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুক্রবার ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে। সাধারণত ব্যবসা ও পর্যটন ভ্রমণের জন্য এই ক্যাটাগরিতে ভিসা ইস্যু করা হয়।

নতুন এই নিয়মের আওতায়, কনস্যুলার কর্মকর্তারা ভিসা প্রদানের শর্ত হিসেবে আবেদনকারীদের কাছ থেকে বন্ডের অর্থ দাবি করতে পারবেন। বন্ডের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপরই ন্যস্ত থাকবে। ২০২৫ সালের ভিসা বন্ড পাইলট প্রকল্পের প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়কে যৌথভাবে এই কর্মসূচি পরিচালনার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

পূর্বের পাইলট কর্মসূচিতে বন্ডের পরিমাণ ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলারের মধ্যে থাকলেও, নতুন চূড়ান্ত নিয়মে ৫ হাজার ডলারের অপশনটি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২০ হাজার ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই নিয়ম আগামী ৩ আগস্ট থেকে কার্যকর হবে। যে ৫০টি দেশের নাগরিকদের ওপর এই নিয়ম প্রয়োগ করা হবে, তার মধ্যে ৩০টি দেশই আফ্রিকার।

ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান ঠেকানোর লক্ষ্যেই এই কঠোর অভিবাসন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তবে অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করবে। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই আগ্রাসী অভিবাসন দমননীতি সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর জন্য অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে এবং বর্ণবৈষম্যকে উসকে দিচ্ছে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন এই পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য প্রয়োজনীয় বলে দাবি করে আসছে। এছাড়া, নির্দিষ্ট কিছু ভিসার আবেদনকারীদের ওপর চড়া ফি ধার্য করা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যাচাই-বাছাইয়ের মতো বিষয়গুলোকেও বৈধ অভিবাসন কঠিন করার অংশ হিসেবে দেখছেন সমালোচকরা।