লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান যুদ্ধে চার মাসে ৫২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত চিত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ওয়াশিংটন অন্তত ১১টি মডেলের ৫২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে অথবা সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পেয়েছে। এই তালিকায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমান এবং উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন কোটি ডলার মূল্যের চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতে ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ঘটনায় তিনটি এবং এপ্রিলে ইরানের গুলিতে একটি বিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া সর্বাধুনিক স্টিলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ মডেলের একটি বিমান গত মার্চ মাসে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট দিতে সক্ষম এ-১০ মডেলের একটি অ্যাটাক এয়ারক্রাফটও ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে।

বিশাল আকৃতির কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমানের অন্তত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২ মার্চ ইরাকে জ্বালানি সরবরাহ মিশন চলাকালে একটি বিধ্বস্ত হয়, যাতে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। সৌদি আরবে ইরানের হামলায় একই মডেলের আরও পাঁচটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরাকের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সপ্তম বিমানটিও এই ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের একটি আকাশ-সতর্কবার্তা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড্রোন ও হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দীর্ঘস্থায়ী ও সশস্ত্র এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তত ৩০টি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ২৪ কোটি ডলার মূল্যের একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন এপ্রিল মাসে বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারের মধ্যে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি মডেলের একটি হেলিকপ্টার ৮ জুন হরমুজ প্রণালির কাছে গুলি করে নামানো হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় চারটি এএইচ-৬ হেলিকপ্টার উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই সেগুলো ধ্বংস করে। এছাড়া একটি সামরিক ইউটিলিটি হেলিকপ্টার এবং নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০এস হেলিকপ্টারের একটি গত ১ জুলাই আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়, যেখানে চারজন ক্রু সদস্যের মধ্যে তিনজন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইরানি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা আরও বেশি মার্কিন ক্ষতিসাধন করেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে বেশ কয়েকটি নজরদারি ও অ্যাটাক ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয় রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাইভ-এলডি’ নামের একটি সাবমার্সিবলও জব্দ করেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মেসি ও এমবাপের সম্ভাবনা কতটুকু

ইরান যুদ্ধে চার মাসে ৫২টি মার্কিন যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ধ্বংস

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ক্ষয়ক্ষতির একটি বিস্তারিত চিত্র মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের মহাপরিদর্শকের প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ে ওয়াশিংটন অন্তত ১১টি মডেলের ৫২টি যুদ্ধবিমান ও ড্রোন হারিয়েছে অথবা সেগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত অবস্থায় পেয়েছে। এই তালিকায় অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান, অ্যাটাক এয়ারক্রাফট, রিফুয়েলিং ট্যাংকার বিমান এবং উদ্ধারকারী হেলিকপ্টারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন কোটি ডলার মূল্যের চারটি এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে গত ১ মার্চ কুয়েতে ফ্রেন্ডলি ফায়ারের ঘটনায় তিনটি এবং এপ্রিলে ইরানের গুলিতে একটি বিমান ভূপাতিত হয়। এছাড়া সর্বাধুনিক স্টিলথ মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান এফ-৩৫এ মডেলের একটি বিমান গত মার্চ মাসে ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট দিতে সক্ষম এ-১০ মডেলের একটি অ্যাটাক এয়ারক্রাফটও ইরানের হামলায় ভূপাতিত হয়েছে।

বিশাল আকৃতির কেসি-১৩৫ ট্যাংকার বিমানের অন্তত সাতটি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংসের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ১২ মার্চ ইরাকে জ্বালানি সরবরাহ মিশন চলাকালে একটি বিধ্বস্ত হয়, যাতে ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন। সৌদি আরবে ইরানের হামলায় একই মডেলের আরও পাঁচটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ইরাকের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সপ্তম বিমানটিও এই ক্ষয়ক্ষতির তালিকায় রয়েছে। এছাড়া সৌদি আরবের প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটিতে ইরানের হামলায় ই-৩ সেন্ট্রি মডেলের একটি আকাশ-সতর্কবার্তা বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ড্রোন ও হেলিকপ্টারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। দীর্ঘস্থায়ী ও সশস্ত্র এমকিউ-৯ রিপার ড্রোন অন্তত ৩০টি ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ২৪ কোটি ডলার মূল্যের একটি এমকিউ-৪সি ট্রাইটন নজরদারি ড্রোন এপ্রিল মাসে বিধ্বস্ত হয়। হেলিকপ্টারের মধ্যে এএইচ-৬৪ অ্যাপাচি মডেলের একটি হেলিকপ্টার ৮ জুন হরমুজ প্রণালির কাছে গুলি করে নামানো হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় চারটি এএইচ-৬ হেলিকপ্টার উদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়লে মার্কিন বাহিনী নিজেরাই সেগুলো ধ্বংস করে। এছাড়া একটি সামরিক ইউটিলিটি হেলিকপ্টার এবং নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০এস হেলিকপ্টারের একটি গত ১ জুলাই আরব সাগরে বিধ্বস্ত হয়, যেখানে চারজন ক্রু সদস্যের মধ্যে তিনজন আহত ও একজন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইরানি বাহিনী দাবি করেছে যে তারা আরও বেশি মার্কিন ক্ষতিসাধন করেছে, যার মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে বেশ কয়েকটি নজরদারি ও অ্যাটাক ড্রোন ভূপাতিত করার বিষয় রয়েছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের ‘ডাইভ-এলডি’ নামের একটি সাবমার্সিবলও জব্দ করেছে।