লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদির ৩ শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন হুথিবিরোধী সামরিক জোট এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুথি মিলিশিয়ারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা যে উগ্র ও সহিংস মতবাদে বিশ্বাসী—বেসামরিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা তার প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট এসব হামলার মোকাবিলা করবে। আমরা যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি আরব, বেসামরিক লোকজন এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে রক্ষা করবো।”

সোমবারের এই হামলার বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি আরবের চালানো ৭০টি বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনে এই অভিযান শুরু করে, যার আওতায় রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা দাবি করেছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে হুথি যোদ্ধারা দখল করে নেয়, যা সৌদির জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য বড় দুঃসংবাদ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে সৌদি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অর্ধেক সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রিভার প্লেটের শতবর্ষী রেকর্ড ভেঙে বিশ্ব দরবারে আল নাসরের নতুন ইতিহাস

সৌদির ৩ শহরে হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, আহত ১৩

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সৌদি নেতৃত্বাধীন হুথিবিরোধী সামরিক জোট এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

জোটের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) হুথি মিলিশিয়ারা দক্ষিণ সৌদি আরবের খামিস মুশাইত, আবহা ও তাইফ শহরের বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালায়। এই হামলায় ১৩ জন বেসামরিক নাগরিক আহত হওয়ার পাশাপাশি সাতটি বাড়ি ও দুটি যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোটের মুখপাত্র তুরকি আল-মালকি বিবৃতিতে বলেন, “সন্ত্রাসী হুথি গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে সৌদি আরবের বেসামরিক লোকজন ও স্থাপনাগুলোকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করছে। তারা যে উগ্র ও সহিংস মতবাদে বিশ্বাসী—বেসামরিকদের লক্ষ্য করে এসব হামলা তার প্রমাণ।” তিনি আরও যোগ করেন, “সৌদি-ইয়েমেনি সামরিক জোট এসব হামলার মোকাবিলা করবে। আমরা যথাযথ দায়িত্ব ও দৃঢ়তার সঙ্গে সৌদি আরব, বেসামরিক লোকজন এবং বেসামরিক অবকাঠামোকে রক্ষা করবো।”

সোমবারের এই হামলার বিষয়ে হুথি গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, রোববার ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে সৌদি আরবের চালানো ৭০টি বিমান অভিযানের প্রতিশোধ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি বিমানবাহিনী ইয়েমেনে এই অভিযান শুরু করে, যার আওতায় রোববারের আগ পর্যন্ত ১৩০টিরও বেশি বিমান হামলা চালানো হয়েছে বলে হুথিরা দাবি করেছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে সৌদি আরব ও হুথি গোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে লোহিত সাগর ও এডেন সাগরকে সংযুক্তকারী বাব এল মান্দেব প্রণালি গত ১১ সেপ্টেম্বর রাতে হুথি যোদ্ধারা দখল করে নেয়, যা সৌদির জ্বালানি তেল রপ্তানির জন্য বড় দুঃসংবাদ। উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর ২০১৫ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করলে সৌদি জোট সামরিক অভিযান শুরু করে। বর্তমানে ইয়েমেনের অর্ধেক ভূখণ্ড হুথিদের এবং বাকি অর্ধেক সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।