লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০২:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ

ভারতের মাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকারপ্রধান হন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে গণ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি প্রায় ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনেও তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবন্দী ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে তাঁকে দুবার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দী রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁকে পুনরায় অন্তরীণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান।

শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ইউনেসকোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার, দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার, ‘শান্তির বৃক্ষ’, উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার, গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা সনদ, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ এবং আইটিইউ-এর আইসিটি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ ও ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ সহ বেশ কিছু গ্রন্থের রচয়িতা।

তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার এক ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, যিনি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন এবং এক মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ, যিনি একজন মনোবিজ্ঞানী ও অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

এ ছাড়া টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য International Telecommunication Union (ITU) শেখ হাসিনাকে ICTs in Sustainable Development Award-2015 প্রদান করে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি আইন ছিল লুটপাটের সুযোগ: রিজভী

শেখ হাসিনার রাজনৈতিক বক্তব্য বন্ধে ভারতকে বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধ

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:১১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের মাটিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বা বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত রাখার অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন শেখ হাসিনা। বর্তমানে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সভাপতি। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ১৯৯৬ ও ২০০৯ সালে দুই দফা প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০১৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তৃতীয়বারের মতো সরকারপ্রধান হন। ১৯৪৭ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণকারী শেখ হাসিনা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সবার বড়। ১৯৭৩ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সক্রিয়ভাবে গণ-আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্রসংসদের সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি ছিলেন। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সদস্য ও রোকেয়া হল শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সময় শেখ হাসিনা ও তাঁর ছোট বোন শেখ রেহানা বিদেশে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান। এরপর তিনি প্রায় ছয় বছর ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন। ১৯৮০ সালে ইংল্যান্ডে থাকাকালীন তিনি স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শুরু করেন এবং ১৯৮১ সালের ১৭ মে দেশে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণ-আন্দোলনেও তিনি অন্যতম নেতৃত্বদানকারী ছিলেন। ১৯৯১ ও ২০০১ সালের নির্বাচনেও তিনি বিরোধী দলের নেতা নির্বাচিত হন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহুবার কারাবন্দী ও গৃহবন্দী হয়েছেন। ১৯৮৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সামরিক সরকার তাঁকে ১৫ দিন অন্তরীণ রাখে। ১৯৮৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও নভেম্বর মাসে তাঁকে দুবার গৃহবন্দী করা হয়। ১৯৮৫ সালের ২ মার্চ তাঁকে প্রায় তিন মাস গৃহবন্দী রাখা হয়। ১৯৮৬ সালের ১৫ অক্টোবর থেকে তিনি ১৫ দিন এবং ১৯৮৭ সালের ১১ নভেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে এক মাস অন্তরীণ ছিলেন। ১৯৮৯ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি এবং ১৯৯০ সালের ২৭ নভেম্বর তাঁকে পুনরায় অন্তরীণ করা হয়। ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ২০০৮ সালের ১১ জুন মুক্তি পান। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে জনসভায় গ্রেনেড হামলায় তিনি প্রাণে বেঁচে গেলেও দলের ২২ জন নেতা-কর্মী নিহত হন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ আহত হন। শেখ হাসিনা নিজেও কানে আঘাত পান।

শান্তি ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ইউনেসকোর ‘হুপে-বোয়ানি’ শান্তি পুরস্কার, ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার, ব্রিটেনের গ্লোবাল ডাইভার্সিটি পুরস্কার, দুবার সাউথ সাউথ পুরস্কার, ‘শান্তির বৃক্ষ’, উইমেন ইন পার্লামেন্টস গ্লোবাল ফোরামের রিজিওনাল লিডারশিপ পুরস্কার, গ্লোবাল সাউথ-সাউথ ডেভেলপমেন্ট এক্সপো-২০১৪ ভিশনারি পুরস্কার, কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মাননা সনদ, ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্যা আর্থ-২০১৫’ এবং আইটিইউ-এর আইসিটি পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। তিনি ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’, ‘ওরা টোকাই কেন?’, ‘বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম’, ‘দারিদ্র্য বিমোচন, কিছু ভাবনা’, ‘আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম’, ‘আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি’, ‘সামরিকতন্ত্র বনাম গণতন্ত্র’, ‘সাদা কালো, সবুজ মাঠ পেরিয়ে’ ও ‘Miles to Go, The Quest for Vision-2021’ সহ বেশ কিছু গ্রন্থের রচয়িতা।

তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমাণুবিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯ সালের ৯ মে ইন্তেকাল করেন। শেখ হাসিনার এক ছেলে সজীব আহমেদ ওয়াজেদ, যিনি তথ্যপ্রযুক্তিবিদ ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ছিলেন এবং এক মেয়ে সায়মা হোসেন ওয়াজেদ, যিনি একজন মনোবিজ্ঞানী ও অটিস্টিক শিশুদের নিয়ে কাজ করছেন। শেখ হাসিনার নাতি-নাতনির সংখ্যা সাত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনার অসামান্য অবদানের জন্য ১৯৯৮ সালে ইউনেসকো তাঁকে ‘হুপে-বোয়ানি’ (Houphouet-Boigny) শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।

এ ছাড়া টেকসই ডিজিটাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য International Telecommunication Union (ITU) শেখ হাসিনাকে ICTs in Sustainable Development Award-2015 প্রদান করে।