লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৫:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিল্লিতে হাসিনাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লির মাটিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা সরাসরি সাংবাদিকদের ভার্চুয়ালি প্রশ্নের উত্তর দিলেন, যা গত দুই বছরের মধ্যে তার প্রথম এমন কোনো মতবিনিময়।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাবে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর, বুধবার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ক্ষোভ জানায়।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি আয়োজন করায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর। বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া চক্রের’ দেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ভারত এখনো তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। এর বদলে তাকে প্রকাশ্য গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

এর আগে গত মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে ব্যক্ত হওয়া মতামতের সঙ্গেও সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। তারও আগের দিন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

চিঠি লিখে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ ও হারমোনিয়াম পেল ক্ষুদে শিল্পী অনুশ্রী

দিল্লিতে হাসিনাকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লির মাটিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও দেশের জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম শেখ হাসিনা সরাসরি সাংবাদিকদের ভার্চুয়ালি প্রশ্নের উত্তর দিলেন, যা গত দুই বছরের মধ্যে তার প্রথম এমন কোনো মতবিনিময়।

গত বুধবার সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির প্রেস ক্লাবে ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অব সাউথ এশিয়া (এফসিসি) আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন বাংলাদেশে জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে সরকারিভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছিল। এর কয়েক ঘণ্টা পর, বুধবার রাত ১১টার দিকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে একটি বিবৃতি প্রকাশ করে ক্ষোভ জানায়।

বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করে, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কেমন প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও অনুষ্ঠানটি আয়োজন করায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে। মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত এবং বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননাকর। বিপ্লবের চেতনায় উদ্বুদ্ধ বাংলাদেশের জনগণ দেশে ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি হতে দেবে না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার ‘মাফিয়া চক্রের’ দেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই বলেও বিবৃতিতে স্পষ্ট করা হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলেছে, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ভারত এখনো তাতে কোনো সাড়া দেয়নি। এর বদলে তাকে প্রকাশ্য গণমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

এর আগে গত মঙ্গলবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের বিষয়ে বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠান। এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং সেখানে ব্যক্ত হওয়া মতামতের সঙ্গেও সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই। তারও আগের দিন, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ভারতের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যেন ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্য দিতে বা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মতো কোনো কর্মকাণ্ড চালাতে না পারেন।