লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৬ অগাস্ট ২০২৬, ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে শেখ হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

ভারতে অবস্থানরত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বুধবার ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার আগেই ভারত সরকারকে জানিয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই কার্যক্রম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনাসহ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসকে বিকৃত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। দেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সরকার আরও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার 'মাফিয়া চক্রের' বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুস্থ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।

জনপ্রিয় সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ায় মিরাজের সেঞ্চুরিতে লড়াইয়ে ফিরল বাংলাদেশ

ভারতে শেখ হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতে অবস্থানরত পলাতক দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে বুধবার ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়ায় তীব্র ক্ষোভ ও গভীর অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই ঘটনায় ঢাকা গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, এ ধরনের আয়োজন দুই দেশের সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যে বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার আগেই ভারত সরকারকে জানিয়েছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম ভূইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিন ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই কার্যক্রম বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মৃতির প্রতি চরম অসম্মান। ওই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা বাংলাদেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন বলেও মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার বলেছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে শিশুসহ নিরীহ বেসামরিক মানুষ হত্যার ঘটনাসহ জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করে শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা ইতিহাসকে বিকৃত করার ব্যর্থ চেষ্টা করছেন। দেশের জনগণ অতীতের মতো এবারও এ ধরনের অপচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ভবিষ্যতেও করবে। সরকার আরও দৃঢ়ভাবে জানিয়েছে যে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে বাংলাদেশ আর কখনো ফ্যাসিবাদের অন্ধকারে ফিরে যাবে না এবং দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও তার 'মাফিয়া চক্রের' বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কোনো স্থান নেই।

বিজ্ঞপ্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয়ে বলা হয়, বাংলাদেশ সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, একে অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে গঠনমূলক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী। তবে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ-ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও ভারত সরকারের কাছ থেকে এখনো কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে যে কোনো অজুহাতে শেখ হাসিনাকে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করেছে এবং এটি দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সুস্থ বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।