লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৪৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফুলের অর্থ ও নিজের মহাবিশ্ব নিয়ে নতুন অ্যালবামে অ্যাগনেস ওবেল

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বার্লিনে বসবাসকারী ডেনিশ গায়িকা ও সংগীতকার অ্যাগনেস ওবেল তার সংগীতযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ২০১০ সালে প্রকাশিত তার প্রথম অ্যালবাম ‘ফিলহারমনিক্স’ তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। পরে ‘অ্যাভেনটিন’, ‘সিটিজেন অভ গ্লাস’ এবং ‘মাইওপিয়া’ অ্যালবামের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র সংগীতভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করেন। প্রচলিত পপসংগীতের জাঁকজমক এড়িয়ে ওবেল সুরের সূক্ষ্মতা, কণ্ঠের আবেশ ও নীরবতার শক্তিকে গুরুত্ব দেন। তার প্রশংসিত প্রথম অ্যালবাম 'ফিলহারমনিকস' রেকর্ড হয়েছিল এই বার্লিনেই। পিয়ানোর কোমল সুর এবং স্বপ্নের মতো আবহে ঘেরা তার গানগুলো লোককথার ছোঁয়া ও প্রকৃতির সাথে গোপন কথোপকথনের এক অনন্য মেলবন্ধন।

সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন অ্যালবাম 'দ্য মিনিং অব ফ্লাওয়ার্স'। ২০২৬ সালে প্রকাশিত তার এই নতুন অ্যালবামে তিনি জন্ম, বেড়ে ওঠা, মাতৃত্ব ও জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। মা হওয়ার পর এটি ওবেলের প্রথম কাজ, যেখানে পরিবর্তন, বেড়ে ওঠা এবং ঘনিষ্ঠতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। আগের অ্যালবামগুলোর তুলনায় নতুন এই কাজে সিনথেসাইজারের ব্যবহার বেশি, যা তার সংগীতে এক বর্ণিল ইলেকট্রনিক আবহ তৈরি করেছে। ওবেল জানান, তিনি মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অনুভব করেছেন এবং একটি ফুলের জীবনচক্রের দিকে তাকিয়ে সমগ্র মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করেছেন।

বার্লিনের স্টুডিও থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবেল বলেন, কোপেনহেগেনের তুলনায় বার্লিন তাকে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও স্বাধীনতা দিয়েছে। তিনি জানান, সংগীত থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি প্রথমেই নিজের কাজের জায়গার ব্যবস্থা করেছিলেন। যদিও বর্তমানে শহরের কোলাহল ও যানবাহনের কারণে তিনি শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকার বিষয়ে কিছুটা দ্বিধায় আছেন।

নতুন অ্যালবামে অ্যাকুস্টিক যন্ত্রের পাশাপাশি সিনথেসাইজারের ব্যবহারের কারণ হিসেবে তিনি জানান, পিয়ানোর সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে তিনি নতুন শব্দের সন্ধান করছিলেন। বার্লিনের সংগীতশিল্পীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি ইনস্টাগ্রামের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং স্যাক্সোফোনবাদক তাকিয়াইয়া রিডের সাথে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

অ্যালবামের নামকরণের বিষয়ে ওবেল জানান, অলিভার স্যাক্সের 'দ্য রিভার অব কনশাসনেস' বইয়ের একটি অধ্যায় থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার মতে, একটি ফুল কেবল ফুল নয়; এর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ঝরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে জীবনের বড় সত্য লুকিয়ে থাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্বকে বুঝতে আকাশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই, বরং খুব ছোট কোনো কিছুর দিকে গভীর মনোযোগ দিলেই তা সম্ভব। তার সংগীতের বিশেষত্ব, তা শুধু শোনার জন্য নয়—অনুভব করার জন্যও।

জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে ১১৭ ডলার ছাড়াল

ফুলের অর্থ ও নিজের মহাবিশ্ব নিয়ে নতুন অ্যালবামে অ্যাগনেস ওবেল

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০২:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে বার্লিনে বসবাসকারী ডেনিশ গায়িকা ও সংগীতকার অ্যাগনেস ওবেল তার সংগীতযাত্রায় নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। ২০১০ সালে প্রকাশিত তার প্রথম অ্যালবাম ‘ফিলহারমনিক্স’ তাকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দেয়। পরে ‘অ্যাভেনটিন’, ‘সিটিজেন অভ গ্লাস’ এবং ‘মাইওপিয়া’ অ্যালবামের মধ্য দিয়ে তিনি নিজের স্বতন্ত্র সংগীতভাষাকে আরও সমৃদ্ধ করেন। প্রচলিত পপসংগীতের জাঁকজমক এড়িয়ে ওবেল সুরের সূক্ষ্মতা, কণ্ঠের আবেশ ও নীরবতার শক্তিকে গুরুত্ব দেন। তার প্রশংসিত প্রথম অ্যালবাম 'ফিলহারমনিকস' রেকর্ড হয়েছিল এই বার্লিনেই। পিয়ানোর কোমল সুর এবং স্বপ্নের মতো আবহে ঘেরা তার গানগুলো লোককথার ছোঁয়া ও প্রকৃতির সাথে গোপন কথোপকথনের এক অনন্য মেলবন্ধন।

সেপ্টেম্বরে মুক্তি পেয়েছে তার নতুন অ্যালবাম 'দ্য মিনিং অব ফ্লাওয়ার্স'। ২০২৬ সালে প্রকাশিত তার এই নতুন অ্যালবামে তিনি জন্ম, বেড়ে ওঠা, মাতৃত্ব ও জীবনের সঙ্গে প্রকৃতির গভীর সম্পর্ক নিয়ে কাজ করেছেন। মা হওয়ার পর এটি ওবেলের প্রথম কাজ, যেখানে পরিবর্তন, বেড়ে ওঠা এবং ঘনিষ্ঠতার মতো বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। আগের অ্যালবামগুলোর তুলনায় নতুন এই কাজে সিনথেসাইজারের ব্যবহার বেশি, যা তার সংগীতে এক বর্ণিল ইলেকট্রনিক আবহ তৈরি করেছে। ওবেল জানান, তিনি মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন অনুভব করেছেন এবং একটি ফুলের জীবনচক্রের দিকে তাকিয়ে সমগ্র মহাবিশ্বকে বোঝার চেষ্টা করেছেন।

বার্লিনের স্টুডিও থেকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওবেল বলেন, কোপেনহেগেনের তুলনায় বার্লিন তাকে কাজের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা ও স্বাধীনতা দিয়েছে। তিনি জানান, সংগীত থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি প্রথমেই নিজের কাজের জায়গার ব্যবস্থা করেছিলেন। যদিও বর্তমানে শহরের কোলাহল ও যানবাহনের কারণে তিনি শহরের কেন্দ্রস্থলে থাকার বিষয়ে কিছুটা দ্বিধায় আছেন।

নতুন অ্যালবামে অ্যাকুস্টিক যন্ত্রের পাশাপাশি সিনথেসাইজারের ব্যবহারের কারণ হিসেবে তিনি জানান, পিয়ানোর সীমাবদ্ধতার বাইরে গিয়ে তিনি নতুন শব্দের সন্ধান করছিলেন। বার্লিনের সংগীতশিল্পীদের সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে তিনি ইনস্টাগ্রামের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং স্যাক্সোফোনবাদক তাকিয়াইয়া রিডের সাথে তার কাজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

অ্যালবামের নামকরণের বিষয়ে ওবেল জানান, অলিভার স্যাক্সের 'দ্য রিভার অব কনশাসনেস' বইয়ের একটি অধ্যায় থেকে তিনি অনুপ্রাণিত হয়েছেন। তার মতে, একটি ফুল কেবল ফুল নয়; এর জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ঝরে যাওয়ার প্রক্রিয়ার মধ্যে জীবনের বড় সত্য লুকিয়ে থাকে। তিনি বিশ্বাস করেন, মহাবিশ্বকে বুঝতে আকাশের দিকে তাকানোর প্রয়োজন নেই, বরং খুব ছোট কোনো কিছুর দিকে গভীর মনোযোগ দিলেই তা সম্ভব। তার সংগীতের বিশেষত্ব, তা শুধু শোনার জন্য নয়—অনুভব করার জন্যও।