লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের প্রমাণ

চলতি মাসের শুরুতে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট নির্ধারিত ক্রুজিং উচ্চতা থেকে বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হলেও শেষ পর্যন্ত বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটের দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজা সেবনের সম্ভাবনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তদন্তকারীরা এখন দুর্ঘটনার সময় ক্যাপ্টেনের আচরণ ও বিমানের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রুরা অভিযোগ করেছিলেন যে ফ্লাইট চলাকালীন ক্যাপ্টেনকে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এনডিটিভির হাতে আসা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন তার আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ স্টল সতর্কসংকেত বেজে উঠলে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কো-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

উচ্চতা হারানোর সময় ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও পাইলটরা নিজেদের আসন থেকে ওপরে ভেসে যান বলে ক্যাপ্টেন তদন্তকারীদের জানান। পরে তিনি নিজের আসনে ফিরে সিটবেল্ট বেঁধে বিমানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং থ্রটল সর্বোচ্চ শক্তিতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

তদন্তকারীরা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। প্রকৌশলসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণে বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত এবং এলিভেটর ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা বিমানের পিচ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বর্তমানে প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সব দিক বিশ্লেষণ করছে। নতুন এই ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সংস্থাটির ওপর বাড়তি নজরদারি চলছে। বর্তমানে বিমান সংস্থাটি একাধিক নিরাপত্তা তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার অভিযোগে ঢাবির ৫৮ শিক্ষক শনাক্ত

এয়ার ইন্ডিয়ার ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের প্রমাণ

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:১৯:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

চলতি মাসের শুরুতে ফুকেট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি ফ্লাইটে আকস্মিক উচ্চতা হারানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ক্যাপ্টেনের মাদক পরীক্ষায় গাঁজা সেবনের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ৪ আগস্ট নির্ধারিত ক্রুজিং উচ্চতা থেকে বিমানটি হঠাৎ প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে যায়। এতে অন্তত ২৪ জন যাত্রী আহত হলেও শেষ পর্যন্ত বিমানটি দিল্লিতে নিরাপদে অবতরণ করে।

ঘটনার পর এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ফ্লাইটের দুই পাইলটের মাদক পরীক্ষা করা হয়। ভারতের বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, প্রাথমিক পরীক্ষায় ক্যাপ্টেনের শরীরে গাঁজা সেবনের সম্ভাবনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফা পরীক্ষায়ও তার শরীরে গাঁজার উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তদন্তের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

তদন্তকারীরা এখন দুর্ঘটনার সময় ক্যাপ্টেনের আচরণ ও বিমানের কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। এয়ার ইন্ডিয়ার কেবিন ক্রুরা অভিযোগ করেছিলেন যে ফ্লাইট চলাকালীন ক্যাপ্টেনকে স্বাভাবিক মনে হয়নি। এনডিটিভির হাতে আসা অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট সেফটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনার সময় ক্যাপ্টেন তার আসনে ছিলেন না। তিনি কো-পাইলটের আসনের পেছনে দাঁড়িয়ে এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ স্টল সতর্কসংকেত বেজে উঠলে অটোপাইলট বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কো-পাইলট বিমানটির নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন।

উচ্চতা হারানোর সময় ককপিটের বিভিন্ন জিনিসপত্র ও পাইলটরা নিজেদের আসন থেকে ওপরে ভেসে যান বলে ক্যাপ্টেন তদন্তকারীদের জানান। পরে তিনি নিজের আসনে ফিরে সিটবেল্ট বেঁধে বিমানের নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করেন এবং থ্রটল সর্বোচ্চ শক্তিতে নিয়ে যান। তবে ততক্ষণে বিমানটি প্রায় ৩০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল।

তদন্তকারীরা যান্ত্রিক ত্রুটির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না। প্রকৌশলসংক্রান্ত নথি বিশ্লেষণে বিমানের হাইড্রোলিক ব্যবস্থায় কম চাপের সংকেত এবং এলিভেটর ত্রুটির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, যা বিমানের পিচ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো বর্তমানে প্রযুক্তিগত, পরিচালনাগত ও চিকিৎসা সংক্রান্ত সব দিক বিশ্লেষণ করছে। নতুন এই ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর আরও চাপ তৈরি করেছে। দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার দুর্ঘটনায় ২৬০ জন নিহত হওয়ার পর থেকেই সংস্থাটির ওপর বাড়তি নজরদারি চলছে। বর্তমানে বিমান সংস্থাটি একাধিক নিরাপত্তা তদন্তের মুখোমুখি রয়েছে।