লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর সময় নেই বাংলাদেশের: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল কিংবা শোষণের মতো বিষয়ে জড়াতে আগ্রহী নয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিশ্ব এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব সব দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সহজে শেষ হওয়ার নয়, কারণ এর পেছনে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং 'আমি চাই না তুমি ধনী হও'—এমন একটি মানসিকতা। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনামূলক আলোচনায় তিনি বলেন, আশির দশকে একই অবস্থানে থাকলেও চীন উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দিয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা চায়, কারণ দেশটি উন্নতি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় বাংলাদেশের নেই।' তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আন্দালিব রহমান পার্থ আশা প্রকাশ করেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করবে। দেশের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের শান্তিতে কাজ করার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সিজিএসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে ছিল। পরে চীন কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দেয়, আর ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতে চলে যায়। এর ফলে চীন অনেক বেশি এগিয়ে যায় এবং ভারত প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।

জনপ্রিয় সংবাদ

এশিয়ান গেমসে স্বর্ণজয়ী কুমকুমের হাত ধরে অলিম্পিকে ভারতের নতুন স্বপ্ন

যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর সময় নেই বাংলাদেশের: তথ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:১২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিব রহমান পার্থ স্পষ্ট করেছেন যে, বাংলাদেশ কোনো যুদ্ধ, নিরাপত্তা ইস্যু, ভূখণ্ড দখল কিংবা শোষণের মতো বিষয়ে জড়াতে আগ্রহী নয়। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি সেশনে তিনি এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন এবং একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখাই বাংলাদেশের প্রধান অগ্রাধিকার।

বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতির ওপর আলোকপাত করে আন্দালিব রহমান পার্থ বলেন, বিশ্ব এখন বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যার প্রভাব সব দেশকেই ভোগ করতে হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার দ্বন্দ্ব সহজে শেষ হওয়ার নয়, কারণ এর পেছনে রয়েছে একে অপরকে ছাড়িয়ে যাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতা এবং 'আমি চাই না তুমি ধনী হও'—এমন একটি মানসিকতা। ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনামূলক আলোচনায় তিনি বলেন, আশির দশকে একই অবস্থানে থাকলেও চীন উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দিয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে গেছে।

বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা চায়, কারণ দেশটি উন্নতি করতে আগ্রহী। তিনি বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের প্রতিদিনের চিন্তা খাদ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে। যুদ্ধ বা অস্থিতিশীলতায় জড়ানোর মতো সময় বাংলাদেশের নেই।' তিনি আরও যোগ করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক নেই এমন যুদ্ধের প্রভাবেও দেশকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে, যার ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

আন্দালিব রহমান পার্থ আশা প্রকাশ করেন যে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার জন্য সহযোগিতা করবে। দেশের তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা ও কঠোর পরিশ্রমের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানুষের শান্তিতে কাজ করার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ প্রয়োজন।

উল্লেখ্য, সিজিএসের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে শতাধিক দেশের প্রায় ২০০ জন বক্তা, ৩০০ জন প্রতিনিধি এবং এক হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী অংশ নিয়েছেন। এতে সাবেক রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, মন্ত্রী, কূটনীতিক, গবেষক, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, উদ্ভাবক ও তরুণ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিলেন।

ভারত ও চীনের অর্থনৈতিক অগ্রগতির তুলনা করে তিনি বলেন, ১৯৮০ ও ১৯৯০-এর দশকে দুই দেশ প্রায় একই অবস্থানে ছিল। পরে চীন কৃষি থেকে উৎপাদনমুখী শিল্পে মনোযোগ দেয়, আর ভারত কৃষি থেকে সেবা খাতে চলে যায়। এর ফলে চীন অনেক বেশি এগিয়ে যায় এবং ভারত প্রতিযোগিতায় কিছুটা পিছিয়ে পড়ে।