লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইন টেস্টে জয়ের সুবাস পেলেও সতর্ক বাংলাদেশ, প্রশংসায় ভাসছেন মিরাজরা

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও এখনই জয়ের আগাম ঘোষণা দিতে নারাজ বাংলাদেশ দল। গত মাসে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং এখানে এসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একই লজ্জার মুখোমুখি হওয়ার পর মারারা স্টেডিয়ামের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। তবে ক্রিকেটের অনিশ্চিত দিকটি মাথায় রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ কোনো বড় দাবি করেননি। ৬ উইকেট নেওয়া অস্ট্রেলীয় পেসার জস হ্যাজলউডের মতোই বিনয়ী সুর ছিল তাঁর কণ্ঠে। মিরাজ বলেন, দল হিসেবে বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে, তবে তারা জয়ের ব্যাপারে এখনই অতিরিক্ত ভাবছেন না। তাঁর ভাষায়, "আমরা ওইভাবে চিন্তা করছি না, আমরা চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। প্রত্যেকটা উইকেট নিতে গেলে কষ্ট করে বল করতে হবে, কারণ উইকেট অত সহজ নয়।"

মিরাজ আরও জানান, চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার রান যত কম রাখা যায়, দলের জন্য ততই মঙ্গল। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং গভীরতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত ২-৩টি উইকেট তুলে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করাই তাঁদের লক্ষ্য। উইকেটের আচরণ দিন দিন ভালো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, "ওরা সবাই ভালো ব্যাটিং করে। উইকেটও দিন দিন ভালো হচ্ছে। আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা না করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোনোর চেষ্টা করছি।"

ম্যাচটির ফলাফল যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ দুই যুগ পর ডারউইনে খেলতে এসে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। হোটেলের লবি থেকে শুরু করে ব্রেকফাস্ট রুম কিংবা সাধারণ প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া—সবখানেই প্রশংসায় ভাসছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার দর্শকেরা বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়ে শুভকামনা জানাচ্ছেন। ডারউইনে দীর্ঘ ২২ বছর পর এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে আসা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি।

এই টেস্টে আধুনিক ক্রিকেটের সব রোমাঞ্চই বিদ্যমান। ডাবল সেঞ্চুরি না হলেও সেঞ্চুরি হয়েছে, গতি, বাউন্স ও পাঁচ উইকেটের দেখাও মিলেছে। যদি শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি বাঁচিয়ে নেয় বা জিতেও যায়, নিরপেক্ষ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ডারউইনের দর্শকেরা যেভাবে প্রতিপক্ষ দলকেও বাহবা দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তাদের বাকি ব্যাটসম্যানরাও যেহেতু এমন পরিস্থিতিতে ভালো করার সামর্থ্য রাখেন, চেষ্টা থাকবে দ্রুত ২–৩টি উইকেট ফেলে চাপ ধরে রাখা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরের জলাবদ্ধতা দূর করতে কেডি ক্যানেল বাঁচানোর দাবি

ডারউইন টেস্টে জয়ের সুবাস পেলেও সতর্ক বাংলাদেশ, প্রশংসায় ভাসছেন মিরাজরা

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৫০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইন টেস্টের তৃতীয় দিন শেষে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও এখনই জয়ের আগাম ঘোষণা দিতে নারাজ বাংলাদেশ দল। গত মাসে হারারেতে জিম্বাবুয়ের কাছে ইনিংস ব্যবধানে হার এবং এখানে এসে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে একই লজ্জার মুখোমুখি হওয়ার পর মারারা স্টেডিয়ামের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশ এভাবে ঘুরে দাঁড়াবে, তা হয়তো অনেকেই ভাবেননি। তবে ক্রিকেটের অনিশ্চিত দিকটি মাথায় রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজরা।

তৃতীয় দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ কোনো বড় দাবি করেননি। ৬ উইকেট নেওয়া অস্ট্রেলীয় পেসার জস হ্যাজলউডের মতোই বিনয়ী সুর ছিল তাঁর কণ্ঠে। মিরাজ বলেন, দল হিসেবে বাংলাদেশ খুব ভালো ক্রিকেট খেলছে, তবে তারা জয়ের ব্যাপারে এখনই অতিরিক্ত ভাবছেন না। তাঁর ভাষায়, "আমরা ওইভাবে চিন্তা করছি না, আমরা চেষ্টা করছি ভালো জায়গায় বল করার জন্য। প্রত্যেকটা উইকেট নিতে গেলে কষ্ট করে বল করতে হবে, কারণ উইকেট অত সহজ নয়।"

মিরাজ আরও জানান, চতুর্থ দিনে অস্ট্রেলিয়ার রান যত কম রাখা যায়, দলের জন্য ততই মঙ্গল। প্রতিপক্ষের ব্যাটিং গভীরতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, দ্রুত ২-৩টি উইকেট তুলে নিয়ে চাপ সৃষ্টি করাই তাঁদের লক্ষ্য। উইকেটের আচরণ দিন দিন ভালো হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, "ওরা সবাই ভালো ব্যাটিং করে। উইকেটও দিন দিন ভালো হচ্ছে। আমরা বড় লক্ষ্য নিয়ে চিন্তা না করে ছোট ছোট পদক্ষেপে এগোনোর চেষ্টা করছি।"

ম্যাচটির ফলাফল যা-ই হোক না কেন, দীর্ঘ দুই যুগ পর ডারউইনে খেলতে এসে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মন জয় করে নিয়েছে বাংলাদেশ দল। হোটেলের লবি থেকে শুরু করে ব্রেকফাস্ট রুম কিংবা সাধারণ প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়া—সবখানেই প্রশংসায় ভাসছেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। অস্ট্রেলিয়ার দর্শকেরা বাংলাদেশের লড়াকু পারফরম্যান্স দেখে মুগ্ধ হয়ে শুভকামনা জানাচ্ছেন। ডারউইনে দীর্ঘ ২২ বছর পর এবং অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে আসা বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় প্রাপ্তি।

এই টেস্টে আধুনিক ক্রিকেটের সব রোমাঞ্চই বিদ্যমান। ডাবল সেঞ্চুরি না হলেও সেঞ্চুরি হয়েছে, গতি, বাউন্স ও পাঁচ উইকেটের দেখাও মিলেছে। যদি শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটি বাঁচিয়ে নেয় বা জিতেও যায়, নিরপেক্ষ ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে ম্যাচটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। তবে ডারউইনের দর্শকেরা যেভাবে প্রতিপক্ষ দলকেও বাহবা দিচ্ছেন, তা বাংলাদেশ দলের জন্য অনেক বড় অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

তাদের বাকি ব্যাটসম্যানরাও যেহেতু এমন পরিস্থিতিতে ভালো করার সামর্থ্য রাখেন, চেষ্টা থাকবে দ্রুত ২–৩টি উইকেট ফেলে চাপ ধরে রাখা।