লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:৪০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রসহ ৫ আটক

বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে গত ২ দিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান, একটি বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শহরে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে ৫ জনকে বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিটন সিকদারের ছেলে লিমন সিকদার (২৮), কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনার কেওরাবুনিয়ার শাহআলমের ছেলে মোঃ জামাল (২৭), নরাইল জেলার লোহাগড়ার আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ খান (৩৫) ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মোসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় মোল্লা (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জের ধরে নজরুল ইসলাম মোল্লার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের গ্রুপ বুধবার পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন। এতে শহরের সর্বত্রই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আতঙ্ক বিরাজ করে।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।

অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বসতবাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েকদিন ধরে আমার ও আমার লোকজনদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছেন। যা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।”

তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি কোনো অবগত নই।”

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, “তালতলী বিএনপির দুই গ্রুপের বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অস্ত্রসহ কিছু লোক অবস্থান করতেছে। পরে সেখানে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তালতলী থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, “দুই স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।”

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য দুই গ্রুপকে সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

জনপ্রিয় সংবাদ

বিএনপির পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে অস্ত্রসহ ৫ আটক

প্রকাশিত হয়েছে: ০৩:৪০:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

বরগুনার তালতলীতে উপজেলা বিএনপির দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি সভাকে কেন্দ্র করে গত ২ দিন ধরে শহরে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের অভিযানে ১টি ইয়ারগান, একটি বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করেছে থানা পুলিশ। এ ঘটনায় শহরে নিরাপত্তা জোরদার করতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার গাবতলী এলাকা থেকে ৫ জনকে বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ আটক করে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—তালতলীর আঙ্গারপাড়ার লিটন সিকদারের ছেলে লিমন সিকদার (২৮), কলাপাড়ার চাকামইয়া এলাকার সঞ্জয় মজুমদারের ছেলে অনিক মজুমদার (২৫), বরগুনার কেওরাবুনিয়ার শাহআলমের ছেলে মোঃ জামাল (২৭), নরাইল জেলার লোহাগড়ার আনোয়ার খানের ছেলে জিহাদ খান (৩৫) ও বরগুনার কেওরাবুনিয়ার মোসলেম মোল্লার ছেলে হৃদয় মোল্লা (২৪)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক নজরুল ইসলাম মোল্লাকে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের দেওয়া একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়। এরই জের ধরে নজরুল ইসলাম মোল্লার অনুসারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুন এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাকের গ্রুপ বুধবার পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন। এতে শহরের সর্বত্রই দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের আতঙ্ক বিরাজ করে।

পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুর ২টার দিকে উপজেলার ছোটবগী ইউনিয়নের গাবতলী এলাকায় স্থানীয়দের সহায়তায় বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করে পুলিশ। এ ঘটনার পরপরই দুই গ্রুপের পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ।

অন্যদিকে, বিকেল ৪টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুনের চাচাতো ভাই আল আমিনের বসতবাড়ি থেকে ১টি এয়ারগান উদ্ধার করে যৌথ বাহিনী। এ ঘটনায় শহরজুড়ে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মিয়া মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “জেলা বিএনপির প্রকাশ্য মদদে উপজেলা বিএনপির একটি অংশ কয়েকদিন ধরে আমার ও আমার লোকজনদেরকে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে। আজকের সমাবেশে সন্ত্রাসী হামলা করার জন্য বহিরাগতদের ভাড়া করে এনেছেন। যা পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন।”

তালতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মাহবুবুল আলম মামুন বলেন, “বিএনপির পক্ষ থেকে বিক্ষোভ সমাবেশ উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে আমি কোনো অবগত নই।”

তালতলী থানার ওসি (তদন্ত) শরিফুল ইসলাম বলেন, “তালতলী বিএনপির দুই গ্রুপের বিক্ষোভ সমাবেশকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই এলাকায় অস্ত্রসহ কিছু লোক অবস্থান করতেছে। পরে সেখানে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে বিদেশি অস্ত্র ও ৪ রাউন্ড গুলিসহ ৫ জনকে আটক করা হয়েছে। আমরা তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তালতলী থানার ওসি সাইদুল ইসলাম বলেন, “দুই স্থান থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এখনও যৌথ বাহিনীর অভিযান চলমান রয়েছে।”

তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অতীশ সরকার বলেন, “আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য দুই গ্রুপকে সভা-সমাবেশ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”