লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১২:৩৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬, ১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ব্রাজিলের বিপক্ষে বিপুল খরচে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ক্ষুব্ধ বাইচুং ভুটিয়া

ভারতের সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির ক্রীড়ামহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি হাই-প্রোফাইল প্রীতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তকে ‘ভুল অগ্রাধিকার’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া।

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের এই প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা-স্বীকৃত প্রথম আসিয়ান কাপের সূচির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হওয়ায় এআইএফএফ আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক ভুটিয়া।

বাইচুং ভুটিয়া বলেন, “ব্রাজিল যদি ভারতে এসে কোনো ফি ছাড়া (ফ্রি) প্রীতি ম্যাচ খেলত, তবে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো যখন নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন একটিমাত্র প্রীতি ম্যাচের পেছনে ৫০ থেকে ৭০ কোটি রুপি খরচ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনুচিত।”

ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে ভুটিয়া সরাসরি সভাপতি কল্যাণ চৌবের নাম উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান নেতৃত্ব দেশের সরকার এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। ভুটিয়া প্রশ্ন তোলেন, যখন একের পর এক ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং আই লিগের দলগুলো এন্ট্রি ফি দিতে পারছে না, তখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের কারণ কী?

ভারতের ঘরোয়া ফুটবলের বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক জটিলতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপে সংক্ষিপ্ত পরিসরে খেলা শুরু হলেও আর্থিক সংকট কাটেনি। এর বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি টাটা স্টিলের জামশেদপুর এফসি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং মাত্র ১-২০০ রুপির বিনিময়ে চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে ক্লাবের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন।

আসিয়ান কাপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ভুটিয়া বলেন, ভারত এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এ’-তে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল। থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর বিপক্ষে খেলা ভারতের ফুটবলারদের জন্য বড় মাপের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশে স্থায়ী ফুটবল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভুটিয়া। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও দলটি স্পনসর জটিলতায় ভুগছে। রাজ্য সরকার বা স্থানীয় পর্যায় থেকে যদি তাদের ১০-২০ কোটি রুপি সহায়তা দেওয়া যেত, তবে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামতে পারত।

জনপ্রিয় সংবাদ

কুষ্টিয়ায় গাড়িতে হামলার ঘটনায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ আমির হামজার

ব্রাজিলের বিপক্ষে বিপুল খরচে ম্যাচ আয়োজন নিয়ে ক্ষুব্ধ বাইচুং ভুটিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের (এআইএফএফ) সাম্প্রতিক এক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দেশটির ক্রীড়ামহলে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে। আসন্ন ফিফা আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহার করে বিপুল অর্থ ব্যয়ে ব্রাজিলের বিপক্ষে একটি হাই-প্রোফাইল প্রীতি ম্যাচ খেলার সিদ্ধান্তকে ‘ভুল অগ্রাধিকার’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন দেশটির কিংবদন্তি ফুটবলার বাইচুং ভুটিয়া।

আগামী ৩ অক্টোবর কলকাতার সল্টলেক স্টেডিয়ামে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে ভারতের এই প্রীতি ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একই সময়ে অনুষ্ঠিত হতে চলা ফিফা-স্বীকৃত প্রথম আসিয়ান কাপের সূচির সঙ্গে সংঘাত তৈরি হওয়ায় এআইএফএফ আসিয়ান কাপ থেকে নাম প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়। ফেডারেশনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এক সাক্ষাৎকারে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাবেক অধিনায়ক ভুটিয়া।

বাইচুং ভুটিয়া বলেন, “ব্রাজিল যদি ভারতে এসে কোনো ফি ছাড়া (ফ্রি) প্রীতি ম্যাচ খেলত, তবে আমার কোনো আপত্তি থাকত না। কিন্তু দেশের ফুটবল ক্লাবগুলো যখন নিজেদের টিকিয়ে রাখতে চরম আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হচ্ছে, তখন একটিমাত্র প্রীতি ম্যাচের পেছনে ৫০ থেকে ৭০ কোটি রুপি খরচ করা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক এবং অনুচিত।”

ফেডারেশনের বর্তমান নেতৃত্বের সমালোচনা করে ভুটিয়া সরাসরি সভাপতি কল্যাণ চৌবের নাম উল্লেখ করেন। তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান নেতৃত্ব দেশের সরকার এবং ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবাইকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। ভুটিয়া প্রশ্ন তোলেন, যখন একের পর এক ইন্ডিয়ান সুপার লিগের (আইএসএল) ক্লাব বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং আই লিগের দলগুলো এন্ট্রি ফি দিতে পারছে না, তখন এই বিপুল পরিমাণ অর্থ অপচয়ের কারণ কী?

ভারতের ঘরোয়া ফুটবলের বেহাল দশা তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক জটিলতা এবং সরকারের হস্তক্ষেপে সংক্ষিপ্ত পরিসরে খেলা শুরু হলেও আর্থিক সংকট কাটেনি। এর বড় উদাহরণ হিসেবে তিনি টাটা স্টিলের জামশেদপুর এফসি থেকে সরে দাঁড়ানো এবং মাত্র ১-২০০ রুপির বিনিময়ে চার্চিল ব্রাদার্সের কাছে ক্লাবের মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়টি সামনে আনেন।

আসিয়ান কাপের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে ভুটিয়া বলেন, ভারত এই টুর্নামেন্টের গ্রুপ ‘এ’-তে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের বিরুদ্ধে খেলার প্রস্তাব পেয়েছিল। থাইল্যান্ড বা ভিয়েতনামের মতো শক্তিশালী আঞ্চলিক দলগুলোর বিপক্ষে খেলা ভারতের ফুটবলারদের জন্য বড় মাপের প্রতিযোগিতামূলক অভিজ্ঞতা হতে পারত। কিন্তু সেই সুযোগ হাতছাড়া করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে দেশে স্থায়ী ফুটবল পরিকাঠামো গড়ে তোলার ওপর জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন ভুটিয়া। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ২-এর গ্রুপ পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা ইস্টবেঙ্গল ক্লাবের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভালো পারফর্ম করা সত্ত্বেও দলটি স্পনসর জটিলতায় ভুগছে। রাজ্য সরকার বা স্থানীয় পর্যায় থেকে যদি তাদের ১০-২০ কোটি রুপি সহায়তা দেওয়া যেত, তবে তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে আরও শক্তিশালী দল নিয়ে মাঠে নামতে পারত।