লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুম প্রতিরোধে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইনের খসড়া অনুমোদন

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নতুন এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

আইনটিতে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে যদি কারো মৃত্যু ঘটে, মরদেহ পাওয়া যায়, অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তদন্তের অগ্রগতি এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আর তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান রয়েছে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর গুম সনদ প্রদান এবং কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণের বিধানও এতে যুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারকার্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বেরোবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি

গুম প্রতিরোধে যাবজ্জীবন ও মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে আইনের খসড়া অনুমোদন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:৩১:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং-সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। সোমবার (০৩ আগস্ট) বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

নতুন এই আইনে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য, জামিন-অযোগ্য এবং আপস-অযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর লক্ষ্য হলো মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদা, ব্যক্তি-স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। এই আইনটি গুম প্রতিরোধ, দায়ী ব্যক্তিদের বিচার, নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধান এবং ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি সমন্বিত আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে।

আইনটিতে গুমের অপরাধের জন্য সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গুমের ফলে যদি কারো মৃত্যু ঘটে, মরদেহ পাওয়া যায়, অথবা পাঁচ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা সম্ভব না হয়, তবে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড আরোপের বিধান যুক্ত করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষায় আইনে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তদন্তের অগ্রগতি এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য জানার অধিকার। ভুক্তভোগীদের জন্য সরকারি আইনগত সহায়তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এছাড়া দণ্ডিত ব্যক্তির সম্পত্তি থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, আর তা সম্ভব না হলে রাষ্ট্র কর্তৃক ক্ষতিপূরণের বিধানও যুক্ত করা হয়েছে।

আইনটিতে গুম হওয়া ব্যক্তিকে উদ্ধারের জন্য আদালতের মাধ্যমে তল্লাশি পরোয়ানা জারি, অভিযুক্তের অনুপস্থিতিতে বিচার, ডিজিটাল সাক্ষ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং সাক্ষী, অভিযোগকারী ও ভুক্তভোগীদের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তার বিধান রয়েছে। এছাড়া গুম হওয়া ব্যক্তির স্ত্রী ও নির্ভরশীল পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ ও ব্যয় নির্বাহে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্পত্তি ব্যবহারের অনুমতি, পাঁচ বছর পর গুম সনদ প্রদান এবং কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার সংরক্ষণের বিধানও এতে যুক্ত করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, গুম সংক্রান্ত তদন্ত ও বিচারকার্য সর্বোচ্চ ১২০ দিনের মধ্যে সম্পন্ন করার বিধান রাখা হয়েছে।