লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৪:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং আজ

আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আজ সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তত ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই শিল্পাঞ্চলটি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে চীনা বিনিয়োগের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালে সমঝোতা হলেও ডেভেলপার নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি ঝুলে ছিল। ২০২২ সালে চীনা সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। একই সফরে মোংলায় চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে সমঝোতা এবং বিডা ও সিসিপিআইটির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগও এই সফরের অন্যতম সাফল্য।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে আসবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, জেটি সংযোগ সড়ক ও সেতু, চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিক্যাল ডিভাইস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বর্তমানে চীনা বিনিয়োগের প্রবণতাও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই চীনা মালিকানাধীন বা যৌথ উদ্যোগের। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পায়নকে আরও বেগবান করবে বলে সরকার মনে করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা সফরে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত সার্জিও গোর

আনোয়ারায় চীনা শিল্পাঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং আজ

প্রকাশিত হয়েছে: ০৫:০০:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

আনোয়ারায় প্রায় ৮০০ একর জমির ওপর গড়ে উঠতে যাওয়া নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চলের গ্রাউন্ডব্রেকিং বা ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান আজ সোমবার (২৭ জুলাই) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বাংলাদেশে অন্তত ৫০ কোটি মার্কিন ডলারের প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আসবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে এই শিল্পাঞ্চলটি উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে চীনা বিনিয়োগের একটি প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হবে এবং সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ সিইআইজেড কম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান ওয়াং বেনচিয়ানসহ দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

প্রকল্পটি বাংলাদেশ ও চীনের সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) উদ্যোগের অংশ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। ২০১৪ সালে সমঝোতা হলেও ডেভেলপার নির্বাচন ও অর্থায়ন নিয়ে দীর্ঘ সময় প্রকল্পটি ঝুলে ছিল। ২০২২ সালে চীনা সরকার চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ করপোরেশনকে (সিআরবিসি) ডেভেলপার হিসেবে মনোনীত করে। গত জুনে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের সময় বেজা ও সিআরবিসির মধ্যে ডেভেলপার চুক্তি বিনিময়ের পর প্রকল্পটি নতুন গতি পায়। একই সফরে মোংলায় চীন-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল নিয়ে সমঝোতা এবং বিডা ও সিসিপিআইটির মধ্যে বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এছাড়া কেরানীগঞ্জ অর্থনৈতিক অঞ্চলে হান্ডা ইন্ডাস্ট্রিজের ২২ কোটি ডলারের বিনিয়োগও এই সফরের অন্যতম সাফল্য।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, আনোয়ারা অর্থনৈতিক অঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে চার হাজার ১৮৯ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে এক হাজার ৭২২ কোটি টাকা সরকারি অর্থায়ন এবং দুই হাজার ৪৬৭ কোটি টাকা চীনের প্রেফারেনশিয়াল বায়ার্স ক্রেডিট থেকে আসবে। প্রকল্পের আওতায় ২০ হাজার ডেডওয়েট টন ধারণক্ষমতার বহুমুখী জেটি, জেটি সংযোগ সড়ক ও সেতু, চার লেনের সড়ক, ২৫ মিলিয়ন লিটার ধারণক্ষমতার কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, গ্যাস ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। ২০৩১ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও প্রথম তিন বছরের মধ্যেই ৬০ শতাংশ শিল্প প্লট প্রস্তুত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

এই অর্থনৈতিক অঞ্চলটি চালু হলে বস্ত্র, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, মেডিক্যাল ডিভাইস ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বর্তমানে চীনা বিনিয়োগের প্রবণতাও বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বেপজার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অধিকাংশই চীনা মালিকানাধীন বা যৌথ উদ্যোগের। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরের সময় প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের সম্ভাব্য বিনিয়োগ প্রস্তাব পাওয়া গেছে, যা রপ্তানিমুখী শিল্পায়নকে আরও বেগবান করবে বলে সরকার মনে করছে।