লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩২, ধসে পড়েছে বহু ভবন

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে চোকো প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে, যার কম্পন পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে হলেও, স্থানীয় মেয়র লিওন ফাবিও মারিন মনকাদা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন্দ্রস্থল থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কফি উৎপাদনকারী এই শহর ও এর আশপাশে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পেরেইরা মহানগর এলাকায় ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্যালি শহরে আরও ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। এছাড়া মানিজালেস শহরে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। মানিজালেস ছাড়াও কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরাসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোগোতায় বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, ভূমিকম্পে ১৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন যে উদ্ধারকাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে উদ্ধারকাজে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ সাত মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে হওয়ায় এর প্রাণঘাতী প্রভাব কিছুটা কম হলেও ভবনের কাঠামোগত ক্ষতির দিক থেকে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। কলম্বিয়ার এই দুর্যোগের মাত্র দুই মাসেরও কম সময় আগে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ঘটনায় ৬৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্যালি শহরে কমপক্ষে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। শহরটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। লন্ডনের ২৯ বছর বয়সী পর্যটক ড্যান কাটলার তখন ক্যালিতে ছিলেন। ভূমিকম্পে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বলেন, এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনো পাননি। তিনি জানান, তারা পাজামা পরেই দ্রুত হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হোটেলের বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হলেও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রং ও প্লাস্টারের অংশ খসে পড়েছে।

মানিজালেসে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় একটি হোটেলে থাকা অ্যানজেলিকা আভিলা জানান, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চিৎকার শুরু করেন। তিনি বলেন, পাশের ভবনগুলো থেকে ধুলা বেরিয়ে আসছিল এবং দেয়াল থেকে ইট খসে পড়ছিল। মানিজালেসের সাংবাদিক ও আবহাওয়াবিদ লুইস ফেলিপে মোলিনা ভূমিকম্পের সময় বাড়িতে ছিলেন। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা শহরটির ভবনগুলো অতীতের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণবিধির আওতায় তৈরি। তার নিজের ভবন বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারলেও ঘরের ৪৫০টি বইয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি তাকের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি জানান, চারদিকে কাচ ভাঙার শব্দ ও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মানিজালেস ছাড়াও কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুরে পিআইও অফিসে লোক নেই, দিনভর চলছে এসি

কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত অন্তত ১৩২, ধসে পড়েছে বহু ভবন

প্রকাশিত হয়েছে: ০৪:০০:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

কলম্বিয়ায় আঘাত হানা ৭.৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আরও ৪৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটির ভূতাত্ত্বিক সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটে চোকো প্রদেশে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০৩ কিলোমিটার গভীরে, যার কম্পন পশ্চিম কলম্বিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে অনুভূত হয়েছে।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল চোকো প্রদেশের সান হোসে দেল পালমার গ্রামের কাছে হলেও, স্থানীয় মেয়র লিওন ফাবিও মারিন মনকাদা জানিয়েছেন, ওই এলাকায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন্দ্রস্থল থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরের পেরেইরা শহরে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কফি উৎপাদনকারী এই শহর ও এর আশপাশে কমপক্ষে ৪০ জন নিহত হওয়ার খবর জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। পেরেইরা মহানগর এলাকায় ৬৫টি ভবন ধসে পড়েছে এবং ১৫টি ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্যালি শহরে আরও ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। এছাড়া মানিজালেস শহরে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। মানিজালেস ছাড়াও কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। কলম্বিয়ার বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পেরেইরা, মানিজালেস, কুইবদো, আর্মেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেনতুরাসহ বেশ কয়েকটি আঞ্চলিক বিমানবন্দরে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বোগোতায় বিভিন্ন ভবনে ফাটল দেখা দিলেও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় বড় ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। ভূমিকম্পের কম্পন প্রতিবেশী দেশ ভেনেজুয়েলা, ইকুয়েডর ও পানামাতেও অনুভূত হয়েছে।

কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা দেশজুড়ে জাতীয় দুর্যোগ পরিস্থিতি ঘোষণা করেছেন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করেছেন। প্রেসিডেন্ট জানান, ভূমিকম্পে ১৫০০টির বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার কথা জানিয়েছেন এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান উরসুলা ভন ডার লিয়েন জানিয়েছেন যে উদ্ধারকাজে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে উদ্ধারকাজে সহায়তা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানিয়েছে, প্রায় ১৫ লাখ মানুষ সাত মাত্রার কাছাকাছি কম্পন অনুভব করেছেন। ভূমিকম্পটি ভূপৃষ্ঠের অনেক গভীরে হওয়ায় এর প্রাণঘাতী প্রভাব কিছুটা কম হলেও ভবনের কাঠামোগত ক্ষতির দিক থেকে এটি অত্যন্ত ভয়াবহ ছিল। কলম্বিয়ার এই দুর্যোগের মাত্র দুই মাসেরও কম সময় আগে ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল। সেই ঘটনায় ৬৩০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পেরেইরা থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত ক্যালি শহরে কমপক্ষে ৩২টি ভবন ধসে পড়েছে। শহরটি ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে। লন্ডনের ২৯ বছর বয়সী পর্যটক ড্যান কাটলার তখন ক্যালিতে ছিলেন। ভূমিকম্পে ঘুম ভেঙে যাওয়ার পর তিনি বলেন, এমন অভিজ্ঞতা তিনি আগে কখনো পাননি। তিনি জানান, তারা পাজামা পরেই দ্রুত হোটেল থেকে বাইরে বেরিয়ে আসেন। হোটেলের বড় ধরনের কাঠামোগত ক্ষতি না হলেও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে এবং রং ও প্লাস্টারের অংশ খসে পড়েছে।

মানিজালেসে কমপক্ষে দু’জন নিহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের সময় একটি হোটেলে থাকা অ্যানজেলিকা আভিলা জানান, দেয়ালে ফাটল দেখা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই চিৎকার শুরু করেন। তিনি বলেন, পাশের ভবনগুলো থেকে ধুলা বেরিয়ে আসছিল এবং দেয়াল থেকে ইট খসে পড়ছিল। মানিজালেসের সাংবাদিক ও আবহাওয়াবিদ লুইস ফেলিপে মোলিনা ভূমিকম্পের সময় বাড়িতে ছিলেন। ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে থাকা শহরটির ভবনগুলো অতীতের ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতার কারণে কঠোর ভূমিকম্প-সহনশীল নির্মাণবিধির আওতায় তৈরি। তার নিজের ভবন বড় ধরনের ধাক্কা সামলাতে পারলেও ঘরের ৪৫০টি বইয়ের মধ্যে মাত্র কয়েকটি তাকের ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। তিনি জানান, চারদিকে কাচ ভাঙার শব্দ ও মানুষের চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। মানিজালেস ছাড়াও কুইবদো, মেডেলিন এবং চোকো ও ভায়া দেল কাউকা অঞ্চলে হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।