লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিরিয়া-রাশিয়া নতুন সমঝোতা: সামরিক ঘাঁটির কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নতুন এক সমঝোতার মাধ্যমে কাটতে শুরু করেছে। দামেস্ক ও মস্কোর মধ্যে হওয়া এই নতুন চুক্তিতে সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটিতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে সিরিয়া একদিকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারবে, অন্যদিকে রাশিয়াও দেশটিতে তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ পাবে।

সিরিয়ার নতুন সরকার রবিবার (৯ আগস্ট) জানিয়েছে যে, হমেইমিম বিমানঘাঁটির বেসামরিক অংশ এবং তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ সিরিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। এর পরিবর্তে, সামরিক স্থাপনাগুলোকে যৌথ রুশ-সিরীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মস্কো বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল। সেই সময় থেকেই হমেইমিম রুশ বিমান অভিযানের প্রধান ঘাঁটি এবং তারতুস ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতন ঘটলেও এসব ঘাঁটিতে রুশ সেনারা তাদের অবস্থান বজায় রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সমঝোতা মূলত উভয় দেশের বাস্তববাদী স্বার্থের প্রতিফলন। সিরিয়ার নতুন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে বহু বছরের সামরিক, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে না, বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজনে। অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য সিরিয়া রাশিয়ার জন্য একটি অপরিহার্য কৌশলগত ঘাঁটি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আসাদের পতনের পরও সিরিয়া রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের সার্বভৌম স্বার্থে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মতো পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো একটি শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মাধ্যমে সিরিয়া তার দর-কষাকষির সক্ষমতা ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া-সিরিয়া সমঝোতাকে তাই পুরোনো জোটের ধারাবাহিকতা না বলে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সিরিয়া তার সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ও দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে, আর রাশিয়া চাইছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা দুই দেশের পারস্পরিক প্রয়োজন ও পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের যুদ্ধ অবৈধ ও ব্যর্থ: চাক শুমার

সিরিয়া-রাশিয়া নতুন সমঝোতা: সামরিক ঘাঁটির কাঠামোয় বড় পরিবর্তন

প্রকাশিত হয়েছে: ০২:০৩:৪৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬

সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদ সরকারের পতনের পর দেশটিতে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের সামরিক উপস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়ে যে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল, তা নতুন এক সমঝোতার মাধ্যমে কাটতে শুরু করেছে। দামেস্ক ও মস্কোর মধ্যে হওয়া এই নতুন চুক্তিতে সিরিয়ার কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ হমেইমিম বিমানঘাঁটি এবং তারতুস নৌঘাঁটিতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতির নতুন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে সিরিয়া একদিকে তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে পারবে, অন্যদিকে রাশিয়াও দেশটিতে তাদের সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখার সুযোগ পাবে।

সিরিয়ার নতুন সরকার রবিবার (৯ আগস্ট) জানিয়েছে যে, হমেইমিম বিমানঘাঁটির বেসামরিক অংশ এবং তারতুস বন্দরের বাণিজ্যিক অংশ সিরিয়ার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হবে। এর পরিবর্তে, সামরিক স্থাপনাগুলোকে যৌথ রুশ-সিরীয় প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকেন্দ্রে রূপান্তর করা হবে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এই রূপান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এই সমঝোতা নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

২০১৫ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় মস্কো বাশার আল-আসাদ সরকারকে সরাসরি সামরিক সহায়তা প্রদান করেছিল। সেই সময় থেকেই হমেইমিম রুশ বিমান অভিযানের প্রধান ঘাঁটি এবং তারতুস ভূমধ্যসাগরে রাশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতে পরিণত হয়। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতন ঘটলেও এসব ঘাঁটিতে রুশ সেনারা তাদের অবস্থান বজায় রাখে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন সমঝোতা মূলত উভয় দেশের বাস্তববাদী স্বার্থের প্রতিফলন। সিরিয়ার নতুন সরকার রাশিয়ার সঙ্গে বহু বছরের সামরিক, প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত সম্পর্ক পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করতে চাইছে না, বিশেষ করে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের সময়ে খাদ্য, জ্বালানি ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজনে। অন্যদিকে, ভূমধ্যসাগর ও আফ্রিকায় প্রভাব বিস্তারের জন্য সিরিয়া রাশিয়ার জন্য একটি অপরিহার্য কৌশলগত ঘাঁটি।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আসাদের পতনের পরও সিরিয়া রাশিয়াকে শত্রু হিসেবে না দেখে বরং নিজেদের সার্বভৌম স্বার্থে সম্পর্ক পুনর্গঠন করছে। একই সঙ্গে দেশটি যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের মতো পশ্চিমা ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গেও সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা চালাচ্ছে। কোনো একটি শক্তির ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে বহুমুখী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণের মাধ্যমে সিরিয়া তার দর-কষাকষির সক্ষমতা ও সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে চাইছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

রাশিয়া-সিরিয়া সমঝোতাকে তাই পুরোনো জোটের ধারাবাহিকতা না বলে নতুন বাস্তবতার ভিত্তিতে সম্পর্ক পুনর্গঠন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সিরিয়া তার সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ ও দর-কষাকষির ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে, আর রাশিয়া চাইছে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও কৌশলগত অবস্থান ধরে রাখতে। শেষ পর্যন্ত এই সমঝোতা দুই দেশের পারস্পরিক প্রয়োজন ও পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিফলন।