লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
১০:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ডারউইন টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া

ডারউইন টেস্টে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকদের চেপে ধরেছে টাইগার বোলাররা। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনো তাদের প্রয়োজন ৬৭ রান। ফলে চতুর্থ দিনেই টেস্টের ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে নির্ধারণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে কখনো টেস্ট জেতেনি অস্ট্রেলিয়া। ফলে ডারউইনে ইতিহাস গড়তে হলে স্বাগতিকদের করতে হবে অলৌকিক কিছু।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭ রানই এখনো সর্বোচ্চ। মূলত লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীলতায় এই বড় সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস এবং হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দেয়। মুশফিকের বিদায়ের পর এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। মিরাজ ও হাসানের জুটি থেকে আসে ৪৬ রান। এছাড়া মিরাজ-তাইজুল জুটিতে ১৮, মিরাজ-তাসকিন জুটিতে ৪ এবং তাসকিন-ইবাদত জুটিতে শেষ উইকেটে আসে ৮ রান।

নাথান লায়নকে ইবাদত হোসেনের মারা বিশাল ছক্কা কিংবা হাসানের ৯২ বল খেলে ১৪ রান করার ধৈর্যশীল ব্যাটিং ডারউইনের দর্শকদের অবাক করেছে। এছাড়া তাইজুল ২৩ বলে ১৭ এবং তাসকিন ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রান করেন। প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডাররা তিনটি ক্যাচ মিস করায় টেলএন্ডারদের কাজ আরও সহজ হয়। অবশ্য তানজিম হাসান আগের দিনই বলেছিলেন, ক্যাচ মিস ও ক্যাচ ধরা খেলারই অংশ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেও ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করার পর ট্রাভিস হেডকেও (১৭) সাজঘরে ফেরান হাসান। ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনকে বোল্ড করে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর থিতু হওয়া স্টিভেন স্মিথকে ৪৪ রানে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

১২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নিচ্ছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। তাসকিন আহমেদের একটি বল গ্রিনের স্টাম্পে লাগলেও অবিশ্বাস্যভাবে বেলস না পড়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। চতুর্থ দিনে শেষ সেশনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত অজিদের বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় নিশ্চিত করা।

১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮।

মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার।

জনপ্রিয় সংবাদ

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ টুইট বা রণতরীতে হবে না: ইরান

ডারউইন টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ, ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া

প্রকাশিত হয়েছে: ০৯:৪৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬

ডারউইন টেস্টে চালকের আসনে বসেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে ১৯৮ রানে গুটিয়ে দিয়ে ২২৮ রানের বিশাল লিড নেওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকদের চেপে ধরেছে টাইগার বোলাররা। তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫৩ ওভারে ৪ উইকেটে ১৬১ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংস পরাজয় এড়াতেই এখনো তাদের প্রয়োজন ৬৭ রান। ফলে চতুর্থ দিনেই টেস্টের ভাগ্য বাংলাদেশের পক্ষে নির্ধারণ হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ঘরের মাঠে প্রথম ইনিংসে ২০৬ রানের বেশি পিছিয়ে থেকে কখনো টেস্ট জেতেনি অস্ট্রেলিয়া। ফলে ডারউইনে ইতিহাস গড়তে হলে স্বাগতিকদের করতে হবে অলৌকিক কিছু।

এর আগে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ ৪২৬ রানের পাহাড় গড়ে। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। এর আগে ২০০৬ সালে ফতুল্লা টেস্টের প্রথম ইনিংসে করা ৪২৭ রানই এখনো সর্বোচ্চ। মূলত লোয়ার অর্ডারের দায়িত্বশীলতায় এই বড় সংগ্রহ পায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় দিন মুশফিকুর রহিমের বিদায়ের পর মেহেদী হাসান মিরাজের ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস এবং হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের ব্যাটিং বাংলাদেশকে বড় লিড এনে দেয়। মুশফিকের বিদায়ের পর এই সময়ে রান যোগ হয়েছে আরও ১১৮, যার ৭৫–ই এসেছে আজ। মিরাজ ও হাসানের জুটি থেকে আসে ৪৬ রান। এছাড়া মিরাজ-তাইজুল জুটিতে ১৮, মিরাজ-তাসকিন জুটিতে ৪ এবং তাসকিন-ইবাদত জুটিতে শেষ উইকেটে আসে ৮ রান।

নাথান লায়নকে ইবাদত হোসেনের মারা বিশাল ছক্কা কিংবা হাসানের ৯২ বল খেলে ১৪ রান করার ধৈর্যশীল ব্যাটিং ডারউইনের দর্শকদের অবাক করেছে। এছাড়া তাইজুল ২৩ বলে ১৭ এবং তাসকিন ৩২ বলে অপরাজিত ১৪ রান করেন। প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডাররা তিনটি ক্যাচ মিস করায় টেলএন্ডারদের কাজ আরও সহজ হয়। অবশ্য তানজিম হাসান আগের দিনই বলেছিলেন, ক্যাচ মিস ও ক্যাচ ধরা খেলারই অংশ। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জশ হ্যাজলউড ৬ উইকেট নিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করলেও ম্যাচের পরিস্থিতিতে সেই আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশি পেসার হাসান মাহমুদের তোপের মুখে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। দলীয় দ্বিতীয় ওভারে ওপেনার জেক ওয়েদারাল্ডকে বোল্ড করার পর ট্রাভিস হেডকেও (১৭) সাজঘরে ফেরান হাসান। ৩৭ রানে ২ উইকেট হারানোর পর মারনাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ ইনিংস মেরামতের চেষ্টা করেন। তবে ৫৯ বলে ৩১ রান করা লাবুশেনকে বোল্ড করে ৩৬ রানের এই জুটি ভাঙেন তাইজুল ইসলাম। এরপর থিতু হওয়া স্টিভেন স্মিথকে ৪৪ রানে নিজের ফিরতি ক্যাচে পরিণত করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।

১২২ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে টেনে নিচ্ছেন ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। গ্রিন ৪৩ ও ক্যারি ৭ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেছেন। তাসকিন আহমেদের একটি বল গ্রিনের স্টাম্পে লাগলেও অবিশ্বাস্যভাবে বেলস না পড়ায় এ যাত্রায় বেঁচে যান তিনি। চতুর্থ দিনে শেষ সেশনে বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে দ্রুত অজিদের বাকি উইকেটগুলো তুলে নিয়ে ঐতিহাসিক এক জয় নিশ্চিত করা।

১৫৪ বলে মিরাজের ৬৫–কে খুঁটি বানিয়ে সেটাকে চক্কর দিয়ে ব্যাটিং করে গেছেন আগের দিনের অপরাজিত হাসান, তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর ইবাদত।কাল দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের লেজের দিকের ব্যাটিং শুরু হয়েছিল ৮৩.৩ ওভারে, মুশফিকুর রহিমের আউটের পর রান তখন ৬ উইকেটে ৩০৮।

মিরাজের সঙ্গে এরপর কালকের শেষ সেশন আর আজকের প্রথম সেশন মিলিয়ে টেলএন্ডাররাই অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের দিয়ে বল করিয়েছেন ৫২.৩ ওভার।