লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৮:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দুর্গম ও চর এলাকার শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালু হচ্ছে

দেশের দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনা করে এই ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান। ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকা প্রকৃত অর্থে দুর্গম এবং সেখানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুর্গম এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মতামত ও লিখিত সুপারিশ সংকলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহি স্পষ্ট করে একটি কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলা হবে। শুধু পদসোপান থাকলেই হবে না, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগ থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শ্রেণিকক্ষে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে নৈতিক শিক্ষা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ক্যারিয়ারমুখী জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইসরাত জাহান। এছাড়া রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টরসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

এর ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।.২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয় : মাহদী আমিন.প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভেদে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে সরকার বাস্তবভিত্তিক

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশে হামের উপসর্গে আরও ৪ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ৩৬৫

দুর্গম ও চর এলাকার শিক্ষকদের জন্য দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালু হচ্ছে

প্রকাশিত হয়েছে: ০১:০১:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের দুর্গম চরাঞ্চল ও প্রত্যন্ত এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষকদের দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত করতে দূরত্বভিত্তিক বিশেষ ভাতা চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। প্রতিটি বিদ্যালয়ের অবস্থান, যাতায়াতের দূরত্ব, যোগাযোগব্যবস্থা ও দুর্গমতার মাত্রা বিবেচনা করে এই ভাতার কাঠামো নির্ধারণ করা হবে।

রবিবার (৩০ আগস্ট ২০২৬) রংপুরের পিটিআই অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এ তথ্য জানান। ‘বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষায় শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা, মনিটরিং, জবাবদিহিতা ও প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কার’ শীর্ষক দিনব্যাপী এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের কার্যালয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন কোন এলাকা প্রকৃত অর্থে দুর্গম এবং সেখানে কর্মরত শিক্ষক ও কর্মকর্তারা কী ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন, তা নতুন করে নির্ধারণ করা প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করে দুর্গম এলাকাগুলো চিহ্নিত করা হবে। এ বিষয়ে মাঠপর্যায়ের মতামত ও লিখিত সুপারিশ সংকলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে এবং এর ভিত্তিতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভিত্তিক বৈষম্য কমানোর ওপর জোর দেন ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও জবাবদিহি স্পষ্ট করে একটি কার্যকর নেতৃত্ব কাঠামো গড়ে তোলা হবে। শুধু পদসোপান থাকলেই হবে না, প্রত্যেক কর্মকর্তাকে নিজের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সামগ্রিক ব্যবস্থার প্রতি দায়বদ্ধ থাকতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বিভাগ থেকে বিদ্যালয় পর্যন্ত সমন্বিত কর্মশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ ও ক্রীড়া কার্যক্রম চালুর ঘোষণা দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর থেকে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘সায়েন্স টয়’ কার্যক্রম চালু করা হবে। খেলাধুলা ও হাতে-কলমে শেখার মাধ্যমে শিশুদের বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা বিকাশে এ উদ্যোগ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া প্রাথমিকের নতুন কারিকুলামে শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিশ্চিত করতে আটটি ক্রীড়া কার্যক্রম বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

শ্রেণিকক্ষে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান পরিচালনার প্রচলিত সংস্কৃতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ববি হাজ্জাজ। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষক উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বে অবহেলা বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি শিক্ষার্থী যাতে নৈতিক শিক্ষা, প্রয়োজনীয় দক্ষতা ও ক্যারিয়ারমুখী জ্ঞান অর্জন করতে পারে, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে।

রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী, পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ইসরাত জাহান। এছাড়া রংপুর বিভাগের জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং ইউপিটিসি ইন্সট্রাক্টরসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কর্মশালায় অংশ নেন।

এর ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।.২০২৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষাক্রমে ব্যাপক সংস্কার, প্রাথমিক–মাধ্যমিকে ৪ নতুন বই ও বিষয় : মাহদী আমিন.প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি অঞ্চলভেদে বিদ্যমান বৈষম্য কমাতে সরকার বাস্তবভিত্তিক