লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ

দরিদ্র, অতিদরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চলমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে একটি বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় আনা হলো। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান করা।

নতুন নীতিমালার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সীমার চেয়ে বেশি স্কোরধারী পরিবারগুলো এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া পরিবারের নারী প্রধান যদি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরিজীবী হন কিংবা সরকারি পেনশন ও অনুরূপ অবসর সুবিধা পান, তবে তারা এই কার্ডের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ পেনশন গ্রহণকারীরা এই শর্তের বাইরে থাকবেন।

আর্থিক সক্ষমতার বিচারেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো পরিবারের সদস্যের জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে ওই পরিবার কার্ড পাবে না। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলেও সুবিধাটি মিলবে না। বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নিয়মিত কর প্রদানকারী বা করযোগ্য আয় রয়েছে এমন পরিবারগুলোকেও অযোগ্য ধরা হবে।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রে, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। একইসাথে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য ‘ওয়ান-আইডি’ প্রদান করা হবে, যা ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় পরিচয় হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। কার্ডধারী নারী প্রধান একই সময়ে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিডব্লিউবি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সমজাতীয় সরকারি সহায়তা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকার এনআইডি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং ব্যাংকগুলোর ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রয়োজনে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে আয়, সঞ্চয়, জমি, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত তথ্যে জালিয়াতি বা অসঙ্গতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন করল মন্ত্রিসভা

ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাবেন না ৮ শ্রেণির মানুষ

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:৩২:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬

দরিদ্র, অতিদরিদ্র এবং নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে সরকার ‘ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন নীতিমালা, ২০২৬’ জারি করেছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সম্প্রতি এই নীতিমালা জারির মাধ্যমে পরীক্ষামূলকভাবে চলমান ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিকে একটি বিস্তৃত কাঠামোর আওতায় আনা হলো। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো প্রায় ২ কোটি নারী পরিবারপ্রধানকে সরাসরি জিটুপি পদ্ধতিতে মাসিক নগদ সহায়তা প্রদান করা।

নতুন নীতিমালার আওতায় ফ্যামিলি কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে আট ধরনের ব্যক্তি বা পরিবারকে ‘নেগেটিভ লিস্ট’-এর অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারি নির্ধারিত পিএমটি স্কোরের সীমার চেয়ে বেশি স্কোরধারী পরিবারগুলো এই সুবিধা পাবে না। এছাড়া পরিবারের নারী প্রধান যদি সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত চাকরিজীবী হন কিংবা সরকারি পেনশন ও অনুরূপ অবসর সুবিধা পান, তবে তারা এই কার্ডের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন। তবে প্রতিবন্ধী সন্তানের জন্য বিশেষ পেনশন গ্রহণকারীরা এই শর্তের বাইরে থাকবেন।

আর্থিক সক্ষমতার বিচারেও বেশ কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। কোনো পরিবারের সদস্যের জাতীয় সঞ্চয়পত্রে ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে কিংবা ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সমপরিমাণ অর্থ সঞ্চয়, ফিক্সড ডিপোজিট বা অন্য কোনো বিনিয়োগ থাকলে ওই পরিবার কার্ড পাবে না। এছাড়া পরিবারের কোনো সদস্যের নামে বিআরটিএ নিবন্ধিত তিন বা চার চাকার মোটরযান থাকলেও সুবিধাটি মিলবে না। বাণিজ্যিক লাইসেন্সধারী বড় ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, নিয়মিত কর প্রদানকারী বা করযোগ্য আয় রয়েছে এমন পরিবারগুলোকেও অযোগ্য ধরা হবে।

জমির মালিকানার ক্ষেত্রে, বসতভিটাসহ পরিবারের মোট আবাদি জমি শূন্য দশমিক ৫০ একর বা তার বেশি হলে কার্ড পাওয়া যাবে না। একইসাথে কোনো অকৃষি বা বাণিজ্যিক জমি কিংবা স্পেসের বাজারমূল্য ৫ লাখ টাকার বেশি হলেও পরিবারটি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, প্রতিটি যোগ্য পরিবারের জন্য একটি স্থায়ী ও অনন্য ‘ওয়ান-আইডি’ প্রদান করা হবে, যা ভবিষ্যতে কেন্দ্রীয় পরিচয় হিসেবে কাজ করবে। এর মাধ্যমে একই ব্যক্তি একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা নিচ্ছেন কি না, তা যাচাই করা হবে। কার্ডধারী নারী প্রধান একই সময়ে টিসিবির স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ভিডব্লিউবি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা বা প্রতিবন্ধী ভাতার মতো সমজাতীয় সরকারি সহায়তা নিতে পারবেন না। তবে পরিবারের অন্য সদস্যরা নিয়ম অনুযায়ী অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।

আবেদনকারীর তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সরকার এনআইডি, জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, এনবিআর, বিআরটিএ, ভূমি মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ এবং ব্যাংকগুলোর ডেটাবেজের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্রয়োজনে এআই ও মেশিন লার্নিং ব্যবহারের সুযোগও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে আয়, সঞ্চয়, জমি, গাড়ি বা সরকারি সুবিধা সংক্রান্ত তথ্যে জালিয়াতি বা অসঙ্গতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।