লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৭:০৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় ডিআরইউর প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবি

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের প্রকাশ্যে জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছে।

রোববার ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই যৌথ প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা কেবল একটি নির্দিষ্ট পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন নয়; এটি মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর চরম অবমাননাকর আঘাত।

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থেকে থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তা প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক মাধ্যম রয়েছে এবং প্রচলিত আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে ক্ষোভ বা ঘৃণা প্রকাশ করা কখনোই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের অংশ হতে পারে না। তাদের মতে, মতের অমিল হলে তার জবাব যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দিতে হবে, পত্রিকা ছিঁড়ে নয়।

সংবাদমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই দর্পণে ভেসে ওঠা কোনো বিষয় পছন্দ না হলেই তা ভেঙে ফেলার মানসিকতা বজায় রাখা সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। সবারই সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সমালোচনার অশুভ ছলে সংবাদপত্রের প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করার মতো বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, সংযত এবং গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করে ডিআরইউ নেতারা বলেন, তার এহেন আচরণ শেষ পর্যন্ত সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে কেউ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাকে অবজ্ঞা করার অধিকার পায় না।

বিবৃতিতে ডিআরইউ উল্লেখ করে, ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীসহ বিভিন্ন ভিন্নমতের সাংবাদিক কাজ করে থাকেন। তাদের রাজনৈতিক বা পেশাগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, সাংবাদিক হিসেবে তাদের আত্মমর্যাদা ও পূর্ণ স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোই একমাত্র গণতান্ত্রিক পন্থা; অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা কখনো মেনে নেওয়া হবে না।

পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব হলেও সত্য প্রকাশের অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে কখনো মুছে ফেলা যায় না উল্লেখ করে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের মূল সুরই হলো ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা, অবজ্ঞা দিয়ে নয়। অবিলম্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অবাধে মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’: অন্ধ্র উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঝড়

‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় ডিআরইউর প্রতিবাদ ও তদন্তের দাবি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:১২:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খানের প্রকাশ্যে জাতীয় দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ)। সংগঠনটি এ ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও জোর দাবি জানিয়েছে।

রোববার ডিআরইউর কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে সংগঠনটির সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এই যৌথ প্রতিবাদ প্রকাশ করেন। বিবৃতিতে তারা উল্লেখ করেন, প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলা কেবল একটি নির্দিষ্ট পত্রিকার প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন নয়; এটি মুক্ত সাংবাদিকতা, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর চরম অবমাননাকর আঘাত।

ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদনে ভুল থেকে থাকলে কিংবা কোনো বক্তব্যে আপত্তি থাকলে তা প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক মাধ্যম রয়েছে এবং প্রচলিত আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকাশ্যে সংবাদপত্র ছিঁড়ে ফেলে ক্ষোভ বা ঘৃণা প্রকাশ করা কখনোই দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণের অংশ হতে পারে না। তাদের মতে, মতের অমিল হলে তার জবাব যুক্তি ও তথ্যের মাধ্যমে দিতে হবে, পত্রিকা ছিঁড়ে নয়।

সংবাদমাধ্যমকে সমাজের দর্পণ হিসেবে আখ্যায়িত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সেই দর্পণে ভেসে ওঠা কোনো বিষয় পছন্দ না হলেই তা ভেঙে ফেলার মানসিকতা বজায় রাখা সম্পূর্ণভাবে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। সবারই সংবাদমাধ্যমের সমালোচনা করার অধিকার রয়েছে, কিন্তু সমালোচনার অশুভ ছলে সংবাদপত্রের প্রতি এমন অবমাননাকর আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার পথকে সংকুচিত করার মতো বিপজ্জনক পরিবেশ তৈরি করে।

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারীর মতো দায়িত্বশীল ও গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে আরও বেশি দায়িত্বশীল, সংযত এবং গণতান্ত্রিক আচরণ প্রত্যাশিত ছিল বলে মন্তব্য করে ডিআরইউ নেতারা বলেন, তার এহেন আচরণ শেষ পর্যন্ত সরকারের ভাবমূর্তিও প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিতে পারে। রাজনৈতিক পদ কিংবা ক্ষমতার ওপর দাঁড়িয়ে কেউ সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদাকে অবজ্ঞা করার অধিকার পায় না।

বিবৃতিতে ডিআরইউ উল্লেখ করে, ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীসহ বিভিন্ন ভিন্নমতের সাংবাদিক কাজ করে থাকেন। তাদের রাজনৈতিক বা পেশাগত অবস্থান যা-ই হোক না কেন, সাংবাদিক হিসেবে তাদের আত্মমর্যাদা ও পূর্ণ স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আপত্তি জানানোই একমাত্র গণতান্ত্রিক পন্থা; অবমাননাকর আচরণের মাধ্যমে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা কখনো মেনে নেওয়া হবে না।

পত্রিকা ছিঁড়ে ফেলা সম্ভব হলেও সত্য প্রকাশের অদম্য আকাঙ্ক্ষাকে কখনো মুছে ফেলা যায় না উল্লেখ করে ডিআরইউ নেতৃবৃন্দ বলেন, গণতন্ত্রের মূল সুরই হলো ভিন্নমতকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করা, অবজ্ঞা দিয়ে নয়। অবিলম্বে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অবাধে মত প্রকাশের অধিকার সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন তারা।