লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৯:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাবার নামে স্কুল চান হাফিজ, সহায়তায় ৫০ লাখ রুপি তুলছে সিজেপি

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় সরকারি স্কুলের বেহাল দশা তুলে ধরায় হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা মাফিক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং বাবার নামে একটি বিশ্বমানের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে ৫০ লাখ রুপি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

গত ১৩ আগস্ট বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কারিসুন্দা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে হাফিজ ও তার বাবা মাফিককে বেধড়ক মারধর করে। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট মারা যান মাফিক। ২৫ বছর বয়সী হাফিজও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তীতে তাকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

সিজেপি জানিয়েছে, তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৩ আগস্ট গ্রামের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শন করেন হাফিজ। সেখানে স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাফিজকে জোরপূর্বক একটি ভিডিও রেকর্ড করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, যেখানে তাকে স্কুলের বেহাল দশা দেখানোর জন্য ক্ষমা চাইতে এবং এটি বাইরের কারও প্ররোচনায় করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। হাফিজ তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজ একটি ভিডিওর মাধ্যমে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান। সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাফিজ বলেন, "আমি ক্ষতিপূরণ চাই না। বরং একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করে সেটির নাম আমার বাবার নামে রাখুন।"

হাফিজের এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সিজেপি ৫০ লাখ রুপির এই তহবিল সংগ্রহের পোস্টার প্রকাশ করেছে। দলটির সদস্য অভিজিৎ দীপ জানান, ভালো স্কুলের দাবি করায় হাফিজের বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, গত ১৭ আগস্ট সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে কারিসুন্দা গ্রামে গিয়ে হাফিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে। সরকারি স্কুলের মানোন্নয়নের দাবি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এই পরিবারটির পাশে থাকতেই এই তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দলটি জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বরগুনার তালতলীতে বিরল বড় কৃষ্ণকালাচ উদ্ধার, অভয়ারণ্যে অবমুক্ত

বাবার নামে স্কুল চান হাফিজ, সহায়তায় ৫০ লাখ রুপি তুলছে সিজেপি

প্রকাশিত হয়েছে: ১২:০৪:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়ায় সরকারি স্কুলের বেহাল দশা তুলে ধরায় হামলার শিকার হয়ে মারা গেছেন শেখ আব্দুল হাফিজের বাবা মাফিক। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে এবং বাবার নামে একটি বিশ্বমানের স্কুল প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন পূরণে ৫০ লাখ রুপি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

গত ১৩ আগস্ট বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার কারিসুন্দা গ্রামে হাফিজের বাড়িতে সশস্ত্র হামলা চালানো হয়। স্থানীয় বিজেপি কর্মী হিসেবে পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি ঘরে ঢুকে হাফিজ ও তার বাবা মাফিককে বেধড়ক মারধর করে। হামলায় মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ আগস্ট মারা যান মাফিক। ২৫ বছর বয়সী হাফিজও ঘাড়ে গুরুতর আঘাত পান। নিরাপত্তার স্বার্থে পরবর্তীতে তাকে কলকাতায় স্থানান্তর করা হয়।

সিজেপি জানিয়েছে, তাদের ‘স্কুল ঠিক করো’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে গত ১৩ আগস্ট গ্রামের একটি সরকারি স্কুল পরিদর্শন করেন হাফিজ। সেখানে স্কুলের জরাজীর্ণ অবকাঠামোর চিত্র তুলে ধরার পরপরই এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা হাফিজকে জোরপূর্বক একটি ভিডিও রেকর্ড করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে, যেখানে তাকে স্কুলের বেহাল দশা দেখানোর জন্য ক্ষমা চাইতে এবং এটি বাইরের কারও প্ররোচনায় করেছেন বলে স্বীকারোক্তি দিতে চাপ দেওয়া হয়। হাফিজ তাতে রাজি না হওয়ায় তাদের ওপর এই বর্বর নির্যাতন চালানো হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাফিজ একটি ভিডিওর মাধ্যমে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান। সরকারি কোনো ক্ষতিপূরণ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাফিজ বলেন, "আমি ক্ষতিপূরণ চাই না। বরং একটি বিশ্বমানের স্কুল তৈরি করে সেটির নাম আমার বাবার নামে রাখুন।"

হাফিজের এই দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে সিজেপি ৫০ লাখ রুপির এই তহবিল সংগ্রহের পোস্টার প্রকাশ করেছে। দলটির সদস্য অভিজিৎ দীপ জানান, ভালো স্কুলের দাবি করায় হাফিজের বাবাকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি সাধারণ মানুষকে তাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিকে, গত ১৭ আগস্ট সিজেপির জাতীয় ওয়ার্কিং কমিটির একটি প্রতিনিধি দল সহ-আহ্বায়ক আশুতোষ রাঙ্কার নেতৃত্বে কারিসুন্দা গ্রামে গিয়ে হাফিজ ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করে। সরকারি স্কুলের মানোন্নয়নের দাবি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এই পরিবারটির পাশে থাকতেই এই তহবিল সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে দলটি জানিয়েছে।