লাইভ টিভি ই-পেপার নিউজ পাঠান
০৬:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভর্তুকির চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করল সরকার

দেশের সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাত ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ সেখানে নিবেদিত করতে পারে না। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছে।

সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যের তুলনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম বেশি থাকলে তেল পাচারের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি রোধ করতেই মূল্যের এই তুলনা টানা হয়েছে। তবে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি সরকার অনুধাবন করছে এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়িয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং টিসিবির খাদ্য সহায়তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এটি আইএমএফের কোনো শর্ত নয়। সরকার জনগণের সামাজিক কল্যাণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাময়িক জ্বালানি সংকট কেটে গেলে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে, যা তরুণ ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীকে দমন-পীড়নের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার পুলিশকে জনগণের প্রকৃত সেবামুখী বাহিনী হিসেবে দেখতে চায়। মাঠপর্যায়ে মনোবলের ঘাটতি থাকলেও সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়ালে দ্রুতই স্বাভাবিক পুলিশিং ফিরে আসবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

ময়মনসিংহে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামির বাড়ি ভাঙচুর করলেন এলাকাবাসী

ভর্তুকির চাপ কমাতে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করল সরকার

প্রকাশিত হয়েছে: ১১:০০:৫০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সীমিত সম্পদের ভারসাম্য রক্ষা, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে জ্বালানি তেল পাচারের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকার জ্বালানি খাতে ভর্তুকি সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এছাড়া স্বাস্থ্য খাত ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে বাজেটের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাও এই সিদ্ধান্তের অন্যতম কারণ। মঙ্গলবার দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

জ্বালানি খাতে ভর্তুকি কমানোর প্রক্রিয়াটিকে অত্যন্ত জটিল উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কোনো একটি নির্দিষ্ট খাতকে পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক রাখতে রাষ্ট্র তার সমস্ত সম্পদ সেখানে নিবেদিত করতে পারে না। তিনি জানান, সীমিত সামর্থ্যের দেশে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকার আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সাশ্রয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিচ্ছে।

সীমান্তবর্তী দেশগুলোর সঙ্গে জ্বালানি তেলের মূল্যের তুলনার বিষয়ে তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশগুলোতে দাম বেশি থাকলে তেল পাচারের বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়। এই ঝুঁকি রোধ করতেই মূল্যের এই তুলনা টানা হয়েছে। তবে জনগণের ক্রয়ক্ষমতার বিষয়টি সরকার অনুধাবন করছে এবং স্বাস্থ্য খাতে বাজেট বাড়িয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করা হচ্ছে।

জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট মূল্যস্ফীতির চাপ মোকাবিলায় সরকারের নীতিগত অবস্থান তুলে ধরে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, সাধারণ মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণ করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য। এজন্য ওপেন মার্কেট সেল (ওএমএস) এবং টিসিবির খাদ্য সহায়তার পরিধি বাড়ানো হচ্ছে। বর্তমানে ৪১ লাখ পরিবার ফ্যামিলি কার্ডের সুবিধা পাচ্ছে এবং আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণের শর্তে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, এটি আইএমএফের কোনো শর্ত নয়। সরকার জনগণের সামাজিক কল্যাণ, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় ও দেশের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনা করেই নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে এই অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দেশের বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সাময়িক জ্বালানি সংকট কেটে গেলে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়বে। এছাড়া ফ্যামিলি কার্ড ও সরকারি সহায়তা বাজারে চাহিদা তৈরি করবে, যা তরুণ ও সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময় পুলিশ বাহিনীকে দমন-পীড়নের কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। বর্তমান সরকার পুলিশকে জনগণের প্রকৃত সেবামুখী বাহিনী হিসেবে দেখতে চায়। মাঠপর্যায়ে মনোবলের ঘাটতি থাকলেও সাধারণ মানুষ পাশে দাঁড়ালে দ্রুতই স্বাভাবিক পুলিশিং ফিরে আসবে। প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ড. মো. আলম মোস্তফা উপস্থিত ছিলেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।